hadith book logo

জান্নাতী রমণী

লেখকঃ মুহাঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

সহবাস থেকে স্বামীকে বাধা দেয়াঃ

নারী জাতির সৃষ্টি পুরুষকে উপলক্ষ্য করে হয়েছে। পুরুষের প্রশান্তি ও আনন্দের মাধ্যম হচ্ছে নারী। বিবাহ নামক পবিত্র বন্ধনের মাধ্যমে পরস্পর পরস্পরের আপন হয়। একজন নারী স্ত্রী হিসেবে স্বামীর যাবতীয় আভ্যন্তরীন প্রয়োজন পূরণ করবে, তার গৃহের দেখাশোনা, সন্তানদের লালন-পালন ও সংসারের পরিপাটিতে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে। সেই স্ত্রী স্বামীর হৃদয় বাগের ফুল হিসেবে তাকে খোশবু দিবে, ভালবাসার বন্ধনে তাঁকে সঁপে দিবে নিজের দেহ মন। ফলে ভরে উঠবে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বর্গীয় সুখের অমৃত সুধায়।

দাম্পত্য জীবনের সুন্দর এই সম্পর্কের কথা মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাহআলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করে এরশাদ করেনঃ

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ “

আর তাঁর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য হতে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন। যাতে করে তোমরা তাদের নিকটে শন্তি লাভ কর। আর তোমাদের উভয়ের মাঝে সৃষ্টি করেছেন ভালবাসা ও সহানুভুতি। এতে রয়েছে নিদর্শন সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে থাকে । [. সূরা রূম- ২১]

কিন্তু তারপরও কোন নারী যদি নিজের সৌন্দর্যের অহংকারে, বাপ-দাদা ও ধন-সম্পদের অহমিকায় স্বামীর সাথে অসদাচরণ করে, আঙ্গুলের দোলায় তাকে চালাতে চায়- এমনকি স্বামীকে শরীরিক অধিকার থেকে বাধা দেয় ও বঞ্চিত রাখে। এ নারী সৃষ্টি কুলের মধ্যে নিকৃষ্ট ও অভিশপ্ত। যেমনটি হাদীছে সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ “

কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে, কিন্তু স্ত্রী তার আহবান প্রত্যাখ্যান করে, অতঃপর স্বামী রাগম্বিত অবস্থায় রাত কাটায় তবে, প্রভাত হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ সে স্ত্রীকে অভিশাপ দেয় । [. বুখারী, অধ্যায়ঃ ওহীর সূচনা, হা/ ২৯৯৮। ছহীহ্ মুসলিম, অধ্যায়ঃ বিবাহ হা/ ২৫৯৪।]

উক্ত হাদীছের সমর্থনে ত্বলক বিন আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

إِذَا الرَّجُلُ دَعَا زَوْجَتَهُ لِحَاجَتِهِ فَلْتَأْتِهِ وَإِنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُّورِ

‘‘স্বামী যদি প্রয়োজন পূরণের (সহবাসের) জন্য স্ত্রীকে আহবান করে, তবে সে যেন তাৎক্ষণিক তার ডাকে সাড়া দেয়; যদিও সে চুলার কাছে বসে থাকে না কেন । [. তিরমিযী, অধ্যায়ঃ দুগ্ধপান, হা/১০৮০।]

অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا “

শপথ সেই সত্বার যার হাতে আমার প্রাণ, কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বিছানায় (সহবাসের জন্য) আহবান করে আর সে উহা প্রত্যাখ্যান করে, তবে আকাশের অধিপতি আল্লাহ্‌ তাহআলা ততক্ষণ পর্যন্ত তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন যে পর্যন্ত স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট না হয় । [. মুসলিম, বিবাহ, অধ্যায়ঃ হা/২৫৯৫]