hadith book logo

জান্নাতী রমণী

লেখকঃ মুহাঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

স্বামীর উপর স্ত্রীর কপিতয় অধিকারঃ

যেমন করে স্বামী নিজ স্ত্রীর নিকট থেকে আশা করে যে সে তার যাবতীয় অধিকার সমূহ আদায় করে দিবে, তার খেদমত আঞ্জাম দিবে, অনুরূপ স্বামীর উপরও আবশ্যক হচ্ছে স্ত্রীর অধিকার সমূহ আদায় করা। তার নিকট থেকে সঠিক খেদমত পেতে চাইলে তার যাবতীয় উপকরণের ব্যবস্থা করে দেয়া। সেই সাথে স্ত্রীর কষ্ট হোক তার মানসিক যন্ত্রনার কারণ হোক এমন কোন আচরণ থেকে দূরে থাকা।

হাকীম বিন মুআবিয়া আল কুশাইরী বর্ণনা করেন তাঁর পিতা থেকে। তিনি বলেন, আমি একদা প্রশ্ন করলাম হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের উপর আমাদের স্ত্রীদের অধিকার কি? তিনি বললেন,

أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ وَلا تَضْرِبِ الْوَجْهَ وَلا تُقَبِّحْ وَلا تَهْجُرْ إِلا فِي الْبَيْتِ “

তুমি যখন পানাহার করবে তাকেও পানাহার করাবে। তুমি পোশাক পরলে তাকেও পোশাক পরাবে। কখনো তার মুখমন্ডলে প্রহার করবে। আর নিজ গৃহের মধ্যে ছাড়া অন্য কোথাও তাকে পৃথক করবে না । [. আবু দাঊদ, অধ্যায়ঃ বিবাহ হা/১৮৩০। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেন, দ্রঃ ইরউয়াউল গালীল ৭/৯৮।]

মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ وَلَا تُقَبِّحْ তাকে গাল-মন্দ করবে না । (মুসনাদে আহমাদ হা/১৯১৬২)

কাজেই স্ত্রীর ভরণ-পোষণের ব্যাপারে ঔদাসিন্য বা উপেক্ষা দেখান কোন মুসলমানের পক্ষেই জায়েয নয়। হাদীছে বলা হয়েছেঃ

كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ “

একজন লোকের গুনাহগার হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তার উপর অর্পিত, তাদের প্রতি সে ব্যাপারে চরম উপেক্ষা দেখাবে । (আবু দাউদ, হা/১৪৪২)

আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন,

يَا عَبْدَاللَّهِ أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ فَقُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَلا تَفْعَلْ صُمْ وَأَفْطِرْ وَقُمْ وَنَمْ فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا “

হে আবদুল্লাহ! আমি সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি নাকি দিনে রোযা রাখ আর রাতে নফল নামায আদায় কর? একথা ঠিক কি?

আমি বললামঃ হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!

তিনি বললেন, এরূপ করো না। কখনো রোযা রাখবে কখনো ছাড়বে। কখনো ঘুমাবে কখনো নামায আদায় করবে। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক রয়েছে। তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে। তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক রয়েছে । (বুখারী, অধ্যায়ঃ ছিয়াম হা/১৮৩৯।)

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ “

কারো যদি দুহজন স্ত্রী থাকে আর সে একজনকে ছেড়ে দ্বিতীয় জনের দিকেই বেশী গুরুত্বারোপ করে ও ধাবিত হয়, তবে সে ক্বিয়ামত দিবসে এমন অবস্থায় উঠবে যে তার শরীরের এক দিক থাকবে লটকানো । [. আবু দাউদ, বিবাহ অধ্যায় হা/১৮২১, তিরমিযী, বিবাহ অধ্যায় হা/১০৬০। আলাবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেন ইরওয়াউল গালীল ৭/৮০।]