hadith book logo

আকীদা ও ফিক্হ [ ৩য় শ্রেণী ]

লেখকঃ অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, ড. মো. আনোয়ারুল কবীর, অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, ড. মো. মানজূরে ইলাহী, অধ্যাপক মো. নূরুল্লাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

দ্বিতীয় পাঠ : সালাত

সালাতের উপকারিতা :

সালাত ইসলামের ভিত্তি। সালাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সালাত মানুষকে মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করে। সালাত আদায়কারীর প্রতি আল্লাহর রহমত থাকে। তার খাওয়া পরায় কষ্ট হয় না। সকল কাজে আল্লাহ বরকত দেন। সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। সালাত জান্নাতের চাবি।

সালাতের সময় :

প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দৈনিক পাঁচবার সলাত আদায় করা ফরয। পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের সময় সূচী হলো:

১। ফজর : সুবহি সাদিক থেকে সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত।

২। যোহর : সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার পর থেকে প্রত্যেক বস্ত্তর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।

৩। আসর : প্রত্যেক বস্ত্তর ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর থেকে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত।

৪। মাগরিব : সূর্য ডোবার পর থেকে পশ্চিমাকাশে লাল আভা থাকা পর্যন্ত।

৫। ইশা : পশ্চিমাকাশের লাল আভা অস্তমিত হওয়ার পর থেকে সুবহি সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত।

সালাতের ওয়াজিব :

১। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়া।

২। সূরা ফাতিহার সাথে কুরআন মাজীদের অন্য কোন সূরা বা অংশ বিশেষ পাঠ করা।

৩। ফরয সালাতের প্রথম দু’রাকআতে কুরআনের অংশ বিশেষ পড়া।

৪। সালাতের মধ্যে ফরয কাজগুলোর ধারাবাহিকতা (তারতীব) রক্ষা করা।

৫। রুকু ও সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।

৬। দু’ সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসা।

৭। প্রথম বৈঠক করা।

৮। উভয় বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া।

৯। ফজর, জুমা ও দু’ ঈদের সালাতে এবং মাগরিব ও ইশার প্রথম দু’ রাকআতে ইমামের উচ্চঃস্বরে এবং অন্যান্য সালাতে নিরবে কুরআন পাঠ করা।

১০। বিতরের সালাতে দোআ কুনূত পড়া।

১১। দু’ ঈদের সালাতে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা।

১২। রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমাণ অপেক্ষা করা।

১৩। সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করা।

১৪। ভুলে কোন ওয়াজিব বাদ পড়লে সাহু সিজদাহ দেয়া।

সালাতের নিয়্যত :

সালাতের জন্য নিয়্যত করা ফরয। নিয়্যত ছাড়া সালাত শুদ্ধ হবে না। তাই সালাত আদায়ের পূর্বে প্রত্যেককেই নিয়্যত করতে হবে। নিয়্যত হলো মনের দৃঢ় ইচ্ছা। নিয়্যতের কথা মুখে উচ্চারণ করার কোন প্রয়োজন নেই। মনে মনে সালাত আদায়ের দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করলেই নিয়্যত হয়ে যাবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়্যতের বাক্য মুখে উচ্চারণ করতেন না। তাই সালাত আরম্ভ করার সময় আরবী অথবা বাংলায় নিয়্যতের বাক্য মুখে বলা জরুরী নয়।

সালাত ত্যাগ করার পরিণাম :

মুসলমানদের জন্য সালাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইচ্ছা করে সালাত ত্যাগ করা কুফরী।

বিনা ওযরে ফরয সালাত ত্যাগ করলে মস্ত বড় গুনাহ হয়। আল্লাহ তাআলা সালাত ত্যাগকারীকে মৃত্যুর পর কঠিন শাস্তি দেবেন।