hadith book logo

আকীদা ও ফিক্হ [ ৩য় শ্রেণী ]

লেখকঃ অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, ড. মো. আনোয়ারুল কবীর, অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, ড. মো. মানজূরে ইলাহী, অধ্যাপক মো. নূরুল্লাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

দ্বিতীয় পাঠ : ওয়াদা পালন, আমানাত ও সদাচরণ

ওয়াদা পালন :

ওয়াদা পালন একটি মহৎগুণ। ওয়াদা হলো কাউকে কোন ব্যাপারে কথা দেয়া বা অঙ্গীকার করা। কারো সাথে কোন ব্যাপারে ওয়াদা করলে তা পালন করতে হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন- ‘প্রকৃত মু’মিন কোন ওয়াদা করলে তা পালন করে।’ যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে সে সকলের নিকট বিশ্বস্ত হয়। সবাই তাকে ভালবাসে। যে ওয়াদা পালন করে না, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না। সবাই তাকে ঘৃণা করে। ওয়াদা ভংগ করা মুনাফিকের আলামত। ইচ্ছা করে ওয়াদা ভঙ্গ করলে বড় গুনাহ। আমরা সবসময় ওয়াদা পালন করব। ইচ্ছা করে কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করব না। এমন ওয়াদা কখনো করব না, যা পালন করতে পারব না।

ওয়াদা পালন ঈমানদারের

একটি মহৎ গুণ

ভঙ্গ করা মস্ত গুনাহ

শোনরে বাছা শোন।

আমানত :

কারো কাছে কোন কিছু গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয়। হেফাযত ও নিরাপত্তার জন্য আমানত রাখা হয়। আমানত রক্ষা করা ওয়াজিব। আমানত রক্ষা না করাকে খেয়ানত বলা হয়। আমানতের খেয়ানত করা মোনাফিকের আলামত এবং মস্ত বড় গুনাহর কাজ। আমরা সব সময় আমানত রক্ষা করব। কখনো আমানতের খেয়ানত করব না। কেউ কিছু আমানত রাখলে তা যথাযথ হেফাযত করব। এর যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখব। আবার নির্দিষ্ট সময়ে তা ফেরত দিব।

থাকে যদি আমানত

রক্ষা কর তবে,

খেয়ানত কর যদি

মস্ত গুনাহ হবে।

সদাচরণ :

সকলের সাথে ভাল ব্যবহার করাকে সদাচরণ বলা হয়। সদাচরণ একটি মহৎ গুণ। আমরা সকলের সাথে সর্বদা ভাল ব্যবহার করব। কারো সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করব না। কাউকে গালি দিব না। কারো সাথে ঝগড়া করব না। মারামারি করব না। কারো মনে কষ্ট দিব না। কখনো মিথ্যা কথা বলব না। মাতা পিতা ও গুরুজনদের কথা সব সময় মেনে চলব। বড়দের সম্মান করব। ছোটদের স্নেহ করব। অনুমতি ছাড়া কারো কোন জিনিস ধরব না। কাউকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করব না। লজ্জা দিব না। কারো কোন ক্ষতি করব না।

ছোট বড় সবার সাথে

সদাচরণ করব

সত্য, সুন্দর, ন্যায়ের পথে

জীবনটাকে গড়ব।