কর্মচারিটির মুখে খালাফের অসৎ উদ্দেশ্যের কথা শুনতেই আহমদের অন্তর কেঁপে উঠলো! রক্ত চলাচল যেনো বন্ধ হয়ে গেলো। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
মৃত্যু-শীতল নীরবতায় মাথাটা বুকের দিকে ঝুঁকিয়ে চোখ বন্ধ করে সে বসে রইলো।
আহমদের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এবার খালাফ মনোযোগ দিলো তার নতুন শত্রুর দিকে। একটু পরই খালাফ ঝাঁপিয়ে পড়লো তার উপর। শুরু হলো মল্লযুদ্ধ। একজন আরেকজনকে কাবু করার প্রাণান্ত চেষ্টা করছে। প্রথমে মনে হচ্ছিলো- খালাফ পেরে উঠবে না, হেরেই যাবে। কিন্তু একটু পরই দৃশ্যপট বদলে গেলো। খালাফ এক সুযোগে একটা পাথরখণ্ড কুড়িয়ে ইয়া জোরে কর্মচারীর মাথায় আঘাত করলো। নিমিষেই তার মাথাটা একেবারে থেঁতলে গেলো। লুটিয়ে পড়লো তার বেকাবু দেহটা জমিনে। খালাফ মুহূর্তমাত্র দেরী না করে তাকেও রশি দিয়ে বেঁধে ফেললো এবং সেই গাছটায় আহমদের পাশে বেঁধে রাখলো।
লোকটির আঘাত ছিলো গুরুতর। তীব্র ব্যথায় সে গোঙাচ্ছিলো। আহমদ অবরুদ্ধ অবস্থায় খালাফকে বলে-কয়ে নিবৃত্ত রাখার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু কে শুনে কার কথা? খালাফ নিবৃত্ত হলো না। তার মুখে তখন খেলা করছিলো বিজয়ের হাসি। পুরোনো ও নতুন দুশমনকে এক সঙ্গে কাবু করে পৈশাচিক উল্লাসে নৃত্য করছিলো তার চোখ-মুখ।
এদিকে মরতে বসা লোকটি আহমদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বললো, ‘ভাই, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও! আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত। আমি হলাম সেই অপরাধী ও পাপিষ্ঠ, যে এক জালিমকে জুলুমের কাজে সহযোগিতা করেছে অতঃপর আল্লাহ সেই জালিমকেই তার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন!’
আহমদ বললো, ‘আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম! আল্লাহর কাছে
তাওবা করো!’
লোকটি বললো, ‘তুমি চেয়েছিলে তোমার ভাইয়ের মঙ্গল ও কল্যাণ আর তোমার ভাই চাইলো তোমার বিনাশ ও ধ্বংস।’
আহমদ বেদনা ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললো, ‘অবশ্যই আল্লাহ এ জন্যে তার কাছ থেকে আমার হয়ে প্রতিশোধ নেবেন এবং তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করবেন।’
প্রতিশোধের কথাটা খালাফের কানে গিয়ে বাড়ি খেলো। আবার সে হাসলো- পিশাচের হাসি। বললো, ‘এক্ষুণি দেখবে আল্লাহ কাকে কার বিরুদ্ধে সাহায্য করেন!’
এদিকে খালাফের অলক্ষ্যে লোকটি আহমদের হাতের বাঁধন খুলে ফেলার চেষ্টা করছিলো। প্রায় খুলেই ফেলেছিলো। কিন্তু খালাফ দেখে ফেললো। সাথে সাথে আরেকটা পাথর নিয়ে লোকটির মাথা লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারলো। থেঁতলানো মাথাটা আরো থেঁতলে গেলো। লোকটি মারা গেলো।
এবার হৃদয়হীন নিষ্ঠুর খালাফ এগিয়ে এলো আহমদের দিকে। হিংস্র জিঘাংসা নিয়ে বসলো তার বুকে। তারপর হাতে নিলো খাপে-ঢাকা একটা ছুরি। তারপর রক্তলাল চোখে বললো, ‘এবার তোমার পালা। দুম্বার মতো তোমাকে জবাই করা হবে! তুমি আস্তো একটা চোর!’
আহমদ নিজের অজান্তেই কেঁপে উঠলো। সে সশব্দে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে লাগলো। উচ্চকণ্ঠে খালাফকে বিরত হওয়ার আহ্বান জানাতে লাগলো।
কিন্তু খালাফের মুখে পিশাচের হাসি। খালাফের চোখে দানবের দৃষ্টি। আবার কেঁপে উঠলো আহমদের অন্তরাত্মা। খালাফ বললো, ‘মুখ বন্ধ করো! চীৎকার করে কোনো লাভ নেই। এ বিজন মরুতে আমার হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। আমার হাতে তোমার মৃত্যু নিশ্চিত।’
আহমদ কাঁপা কণ্ঠে বললো, ‘আল্লাহ-ই আমাকে বাঁচাবেন। তিনিই হায়াত-মওতের একমাত্র মালিক!’
খালাফ বিদ্রুপমাখা কণ্ঠে বললো, “আচ্ছা! বল তাহলে আল্লাহকে বাঁচাতে!’
‘খালাফ সাবধান! তুমি আল্লাহর সাথে কুফরী করছো!’ আহমদের কণ্ঠে দুঃখ, আফসোস ও বিস্ময়!
‘চুপ করো!’ খালাফের বেপরোয়া উত্তর!
আহমদ আবার কেঁপে উঠলো! চোখ বন্ধ করে আল্লাহর সাহায্য চাইতে লাগলো। পড়তে লাগলো- কালেমা ও ইস্তিগফার। মৃত্যু কি তার খুব কাছে? আল্লাহ, আমার আল্লাহ! সাহায্য করো!!