১
গল্পে আঁকা ইতিহাস ৪ -দুই ভাইয়ের গল্প
লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
খালাফ এখন কোথায়
খালাফ এখন ভীষণ সঙ্কটে আছে। অর্থ সঙ্কট, বন্ধু সঙ্কট, সব সঙ্কট এক সঙ্গে জমা হয়েছে। আশপাশে কেউ নেই। যতোদিন তার সম্পদ ছিলো, ততোদিন তার বন্ধুও ছিলো। এখন সম্পদ নেই, তাই বন্ধুও নেই। এতোদিন যারা তার পাশে গিজগিজ করেছে, এরা সবাই ছিলো নকল বন্ধু, টাকার বন্ধু, সুদিনের বন্ধু। টাকা শেষ, সুদিন শেষ, তাই নকল বন্ধুদের আনাগোনাও শেষ। দুর্দিন এসেছে সাথে সাথে সব পালিয়েছে।
যে নর্তকী ও গায়িকারা তার জলসাঘরে এসে নাচতে-গাইতো, ভালোবাসা ও অনুরাগ দেখাতো, তারাও লাপাত্তা। হবেই তো লাপাত্তা! এরা এখন কেন পড়ে থাকবে নিঃস্ব খালাফের কাছে? ভালোবাসা ও অনুরাগের টানে? না! কারণ, সে ভালোবাসা ও অনুরাগ ছিলো নকল ভালোবাসা ও অনুরাগ। টাকা হাতানোর ভালোবাসা। সম্পদ চুরি করার অনুরাগ। আর টাকার লোভের নকল ভালোবাসা কখনো স্থায়ী হয় না। টাকা শেষ হয়ে গেলে সে ভালোবাসাও শেষ হয়ে যায়। এ-ভালোবাসা সকাল বেলার শিশিরের মতো। সূর্য ওঠার আগে একটু চিকচিক করে। যে-ই সূর্য উঠে, অমনি তা শুকিয়ে নেই হয়ে যায়। কোনো চিহ্নই আর বাকি থাকে না।
কিন্তু তারা খালাফকে ছেড়ে গেলো কোথায়? তারা এখন অন্য খালাফদের বোকা বানানোর জন্যে তাদের সন্ধানে ছুটোছুটি করছে। নতুন করে সম্পদ চুরি করতে। খালাফের মতো আরো কিছু গাধা পাওয়া তো আর কঠিন না! এ-সব গাধার পিঠে সওয়ার হতে পারলে সহজেই বাণিজ্য করা যায়।
খালাফের পুরোনো বন্ধুরা এমনভাবে উধাও হয়েছে যেনো মাটির সাথে মিশে গেছে। কিছুদিন আগেও যারা খালাফের কথায় উঠতে বসতো, এমন কি ডাকলে রাত-দুপুরেও ছুটে আসতো, তার যে কোনো চাহিদা ও ইচ্ছে পূরণে এক পায়ে খাড়া থাকতো- এরা এখন কোথায় হারিয়ে গেলো সব? আসলে ওরা সব ছিলো স্বার্থপরের দল। স্বার্থও শেষ, বন্ধুত্বও শেষ। আচমকা সেই বন্ধুরা খালাফের সামনে পড়ে গেলে পাশ কেটে চলে যেতো- চোরের মতো। আর মূর্খ ও বোকা খালাফ যখন গায়ে পড়ে ওদের সাথে কথা বলতে যেতো কিংবা ঋণ চাইতে যেতো তখন এমনভাবে তারা খালাফকে ‘না!’ বলে দিতো, যেনো খালাফের সাথে তাদের কখনো কোনো পরিচয়ই ছিলো না। অথচ তার সম্পদ চুষে খেতে এই এরাই তার পেছনে দিন-রাত ঘুরঘুর করেছে। সম্পদ যখন ফুরিয়ে গেলো, ওলান যখন দুধ-শূন্য হয়ে গেলো, তখন নতুন সম্পদ আর নতুন ওলানের সন্ধানে এরা সবাই ছুটে বেড়াতে লাগলো। এখন কেউ নেই নিঃস্ব খালাফের পাশে। খালাফের পৃথিবী এখন ছোট হয়ে এসেছে, ভীষণ ছোট।
খালাফের পৃথিবী এখন বন্ধুহীন- নিঃসঙ্গ পৃথিবী!
খালাফের পৃথিবী এখন সম্পদহীন- নিষ্ঠুর পৃথিবী!
এমনই হয়!
এটাই আল্লাহর বিধান। তিনি সৎ মানুষের সততার বদলা যেমন দেন অসৎ মানুষের অসততার শাস্তিও দেন তেমনি এই দুনিয়াতেই। আর পরকালের শাস্তি তো আছেই।
যে নর্তকী ও গায়িকারা তার জলসাঘরে এসে নাচতে-গাইতো, ভালোবাসা ও অনুরাগ দেখাতো, তারাও লাপাত্তা। হবেই তো লাপাত্তা! এরা এখন কেন পড়ে থাকবে নিঃস্ব খালাফের কাছে? ভালোবাসা ও অনুরাগের টানে? না! কারণ, সে ভালোবাসা ও অনুরাগ ছিলো নকল ভালোবাসা ও অনুরাগ। টাকা হাতানোর ভালোবাসা। সম্পদ চুরি করার অনুরাগ। আর টাকার লোভের নকল ভালোবাসা কখনো স্থায়ী হয় না। টাকা শেষ হয়ে গেলে সে ভালোবাসাও শেষ হয়ে যায়। এ-ভালোবাসা সকাল বেলার শিশিরের মতো। সূর্য ওঠার আগে একটু চিকচিক করে। যে-ই সূর্য উঠে, অমনি তা শুকিয়ে নেই হয়ে যায়। কোনো চিহ্নই আর বাকি থাকে না।
কিন্তু তারা খালাফকে ছেড়ে গেলো কোথায়? তারা এখন অন্য খালাফদের বোকা বানানোর জন্যে তাদের সন্ধানে ছুটোছুটি করছে। নতুন করে সম্পদ চুরি করতে। খালাফের মতো আরো কিছু গাধা পাওয়া তো আর কঠিন না! এ-সব গাধার পিঠে সওয়ার হতে পারলে সহজেই বাণিজ্য করা যায়।
খালাফের পুরোনো বন্ধুরা এমনভাবে উধাও হয়েছে যেনো মাটির সাথে মিশে গেছে। কিছুদিন আগেও যারা খালাফের কথায় উঠতে বসতো, এমন কি ডাকলে রাত-দুপুরেও ছুটে আসতো, তার যে কোনো চাহিদা ও ইচ্ছে পূরণে এক পায়ে খাড়া থাকতো- এরা এখন কোথায় হারিয়ে গেলো সব? আসলে ওরা সব ছিলো স্বার্থপরের দল। স্বার্থও শেষ, বন্ধুত্বও শেষ। আচমকা সেই বন্ধুরা খালাফের সামনে পড়ে গেলে পাশ কেটে চলে যেতো- চোরের মতো। আর মূর্খ ও বোকা খালাফ যখন গায়ে পড়ে ওদের সাথে কথা বলতে যেতো কিংবা ঋণ চাইতে যেতো তখন এমনভাবে তারা খালাফকে ‘না!’ বলে দিতো, যেনো খালাফের সাথে তাদের কখনো কোনো পরিচয়ই ছিলো না। অথচ তার সম্পদ চুষে খেতে এই এরাই তার পেছনে দিন-রাত ঘুরঘুর করেছে। সম্পদ যখন ফুরিয়ে গেলো, ওলান যখন দুধ-শূন্য হয়ে গেলো, তখন নতুন সম্পদ আর নতুন ওলানের সন্ধানে এরা সবাই ছুটে বেড়াতে লাগলো। এখন কেউ নেই নিঃস্ব খালাফের পাশে। খালাফের পৃথিবী এখন ছোট হয়ে এসেছে, ভীষণ ছোট।
খালাফের পৃথিবী এখন বন্ধুহীন- নিঃসঙ্গ পৃথিবী!
খালাফের পৃথিবী এখন সম্পদহীন- নিষ্ঠুর পৃথিবী!
এমনই হয়!
এটাই আল্লাহর বিধান। তিনি সৎ মানুষের সততার বদলা যেমন দেন অসৎ মানুষের অসততার শাস্তিও দেন তেমনি এই দুনিয়াতেই। আর পরকালের শাস্তি তো আছেই।