hadith book logo

গল্পে আঁকা ইতিহাস ৪ -দুই ভাইয়ের গল্প

লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

পরপারের ডাক এলো

এদিকে বৃদ্ধ বাবা পরপারের ডাক শুনলেন। বুঝতে পারলেন- মৃত্যু তার খুব কাছে। তখন কাছে ডাকলেন তিনি প্রিয় ছেলে আহমদকে। বললেন বিদায়মাখা সুরে, ‘বাবা আহমদ! তুমি আমার বড়ো প্রিয় ছেলে। বড়ো বাধ্য ছেলে। তোমার প্রতি আমি ভীষণ খুশি, খুব সন্তুষ্ট। সব সময় তুমি আমার কাছে কাছে থেকেছো। সব কাজে আমাকে সাহায্য করেছে। আর খালাফটা আমাকে শুধু কষ্টই দিয়েছে। আমি খালাফের প্রতি ভীষণ অখুশী। ও আমার কোনো কথাই শুনে নি। বলেছি ডান দিকে যেতে, ও গিয়েছে বাম দিকে। বলেছি পড়া-লেখা শিখে মানুষ হও, কিন্তু সে মানুষ হলো না। আমার কথা রাখলো না।

বাবা আহমদ! আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো! আমি মৃত্যুর ডাক শুনতে পাচ্ছি। এখন আমার শেষ ইচ্ছে আমার সমস্ত সম্পত্তি তোমাকে লিখে দিয়ে যাবো। আমি মনে করি তুমিই আমার সম্পত্তির সত্যিকারের উত্তরাধিকারী। সাক্ষী ডাকো! আমি আর দেরী করতে চাইছি না!”

বাবার মুখে মৃত্যুর কথা শুনে আহমদের মনটা হাহাকার করে উঠলো। ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। বাবার মুখে মৃত্যুর কথা শুনলে আদর্শ ছেলের এমন অবস্থা তো হবেই! কিন্তু বাবার প্রস্তাব মানতে অপারগতা প্রকাশ করে আহমদ বললো, ‘না বাবা! আপনি এমনটি করবেন না। খালাফকে বঞ্চিত করে একা আমাকে সম্পত্তি দিয়ে যাবেন না। কারণ ইসলাম ধর্মে এটা নাজায়েয। আপনি বরং আমাদের দুজনের মাঝে সমান সমান করে সম্পত্তি বন্টন করে দিয়ে যান।’

বাবা ব্যথিত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার ইচ্ছে তো এমনই ছিলো আহমদ! কিন্তু সে যে হবার নয়। আমার মন বলছে, তাকে সম্পত্তি দিয়ে গেলে সে আরো উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠবে। কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের ভাগ উড়িয়ে তোমার ভাগে হাত দেবে। ওকে ভালো করেই চিনি আমি। তোমার মনে নেই ছোট বেলার কথা? তোমাদের জন্যে যখন কিছু কিনে আনতাম, তখন ও নিজের ভাগটা খেয়ে তোমার ভাগেও অসভ্যের মতো হাত দিতো। তুমি কোথাও কিছু লুকিয়ে রাখলে তাও ও খোঁজে খোঁজে বের করে ফেলতো এবং নিয়ে যেতো। তুমি বাধা দিলে ও তোমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো। আমি তখন তার আক্রমণ থেকে তোমাকে রক্ষা করতাম। চোখে চোখে তোমাকে আগলে রাখতাম। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর কে দেখবে তোমাকে?

সুতরাং আমি সম্পত্তি খালাফকে নয়- তোমাকেই লিখে দিয়ে যাবো। তুমি অমত করো না!’

আহমদ বিনীত কণ্ঠে বললো, ‘কিন্তু বাবা, এমন সিদ্ধান্ত নিলে আল্লাহ যে নারাজ হবেন! আপনি তো জানেন, যে ব্যক্তি তার উত্তরাধীকারীকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

বাবা! আপনি তাকে বঞ্চিত করবেন না। আর আমার জন্যে মোটেই দুশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর উপর আমার ভীষণ আস্থা ও গভীর বিশ্বাস রয়েছে। তিনিই আমাকে সকল অনিষ্ট থেকে হিফাযত করবেন। তিনিই আমাকে খালাফের জুলুম থেকে রক্ষা করবেন। ও আমার প্রতি জুলুম করলে আল্লাহ অবশ্যই তার প্রতিশোধ নেবেন।’