hadith book logo

গল্পে আঁকা ইতিহাস ৪ -দুই ভাইয়ের গল্প

লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

খালাফের দিন-রাত্রি

কিন্তু খালাফ! আহমদের একেবারে উল্টো। নিজের ভাগের সম্পত্তি হাতে পেয়ে সে যেনো পাগল হয়ে গেলো। কোথায় যাবে, কী করবে কার সঙ্গে আড্ডা মারবে- এ সব নিয়েই ছিলো তার ব্যস্ততা। দু’হাতে উড়াতে লাগলো টাকা। হারাম কাজে, অন্যায় কাজে। শুধু তাই নয়; গায়িকা ও নর্তকীদের ঘরে ডেকে এনে খালাফ আসর বসালো। রাতের পর রাত কেটে যাচ্ছিলো তার এই নৃত্যমাতাল গানের আসরে। অন্যদিকে খালাফের স্বার্থপর ও অসৎ বন্ধুরাও যে যেভাবে পারছিলো খালাফের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছিলো।

আহমদ এ-সব দেখতো আর দুঃখ পেতো। সুযোগ এলেই খালাফকে বোঝাতো। অসৎ পথের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে বলতো। সৎ পথে ফিরে আসার ব্যাকুল আহ্বান জানাতো। কিন্তু খালাফ সে আহ্বানে সাড়া দিতো না। কেননা তার মনের জগত অন্ধকার, শয়তান সেখানে বাসা বেঁধেছিলো। আহমদের কথা শোনা তো দূরের কথা, উপদেশ দেয়ার সময় সে ভাইয়ের দিকে ফিরেও তাকাতো না। চেহারায় ফুটিয়ে তুলতে বিরক্তি-চিহ্ন। শেষ দিকে তো অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে, আহমদ তাকে উপদেশ দিতে গেলে উল্টো তাকেই ছোট ভাইয়ের বকা শুনে ফিরে আসতে হতো। একবার খালাফ সবার সামনে আহমদকে তেড়েই এসেছিলো।

এ-ঘটনার পর থেকে আহমদ খালাফের কাছে যেতো না। শুধু দূর থেকে চোখের পানি ফেলে ফেলে তার জন্যে জিকির">দু’আ করতো।

এভাবে একে একে কেটে গেলো চারটি বছর। এ-চার বছরে আহমদ যেমন উপরে উঠেছে খালাফ তেমন নীচে নেমেছে। খালাফের লক্ষ লক্ষ দিরহাম শেষ। একেবারে শেষ। যেনো মোমের মতো সব গলে গেছে।

ইস্! তিন লক্ষ দিরহাম। এভাবেই বুঝি সকাল বেলার ধনী সন্ধ্যা বেলায় ফকীর হয়ে যায়? তিন লক্ষ দিরহামের মালিক এখন তিন দিরহামেরও মালিক নয়! এদিকে বুদ্ধি খাটিয়ে ভুল সংশোধন করে নতুন আয়ের একটা উৎস যে খালাফ খুঁজে বের করবে, সে বুদ্ধিবিবেচনাও তার ছিলো না। কেননা, পড়ার সময় সে পড়ে নি, শুধু করেছে বাঁদরামো। ব্যবসা করার শ্রেষ্ঠ সময়ে সে ব্যবসা না করে টাকা উড়িয়েছে অপথে-কুপথে। গানের আসরে, নাচের আসরে।