১
গল্পে আঁকা ইতিহাস ৪ -দুই ভাইয়ের গল্প
লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪
ষড়যন্ত্র যেভাবে শুরু হলো
অবিরাম গতিতে দু’রাত পথ চলার পর ফোরাতের তীরে একটা উঁচু জায়গায় এসে যাত্রাবিরতি করলো তারা। মালামাল খালাসের পর। ঘাস খাওয়ার জন্যে গাধাগুলোকে ছেড়ে দেয়া হলো।
আহমদ সফরের ক্লান্তি দূর করার জন্যে পাঞ্জাবীটা খুলে একটু আরাম করে বসলো। একটু পর খাওয়ার আয়োজন নিয়ে সে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আয়োজন শেষে ওদেরকে দস্তরখানে এসে বসতে বললো।
জবাবে খালাফ বললো, ‘ভাইয়া! একটু অপেক্ষা করো! আমি জম্ভগুলোকে একটু পানি খাইয়ে আসছি।’
এরপর খালাফ গাধাগুলো নিয়ে দূরে কোথাও চলে গেলো। সঙ্গে যোগ দিলো কর্মচারিটিও। খালাফ ফিরে এলো বেশ খানিকটা পর। তখন আহমদ বসে বসে ঝিমুচ্ছিলো।
খালাফ দেখলো, এটাই সুযোগ। সে পা টিপে টিপে আহমদের পেছনে এসে দাঁড়ালো। তারপর আচমকা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আহমদ কিছু বোঝে ওঠার পূর্বেই খালাফ তার নাকে-মুখে কিল-ঘুষি চালাতে লাগলো। অপরদিকে খালাফের সঙ্গীটি এসে আহমদকে শক্ত করে বেঁধে ফেললো। ঘটনার আকস্মিকতায় আহমদ একেবারে আকাশ থেকে পড়লো! এ অস্বাভাবিক আচরণকে বিশ্বাস করতে পারলো না আহমদ। এ কোনো ঠাট্টা নয় তো! কিন্তু ছোট ভাই কি বড় ভাইয়ের সাথে এমন নিষ্ঠুর ঠাট্টায় মেতে উঠতে পারে? তার সঙ্গীটিও কী অমানবিক আক্রোশে তাকে বেঁধে ফেললো! না, অসম্ভব! এ কোনো ঠাট্টা হতে পারে না! তাহলে কি আহমদ খালাফের ষড়যন্ত্রের শিকার?
আহমদ ইন্না লিল্লাহ পড়তে লাগলো। তারপর ওদেরকে বললো, ‘এই! তোমরা এ-সব কী করছো?’ খালাফ তখন আহমদকে ব্যঙ্গ করে বললো, ‘এ-সব কী করছি? বুঝতে পারছেন না বুঝি সাহেব! এ-সব হচ্ছে আপনার উপযুক্ত পুরস্কার! চোরের পুরস্কার!’
আহমদ আহত কণ্ঠে বললো, ‘তুমি আমাকে চোর বলতে পারলে? আমি তোমার কী চুরি করেছি শুনি?’
‘তোমায় চোর বলবো না তো সাধু বলবো নাকি? তুমি আমার বাবার সমস্ত সম্পত্তি লুটে নিয়ে গেছো! আর আমাকে তোমার কর্মচারী করে রেখেছো! আজ এই তোমার উপযুক্ত সাজা!’
আহমদ বললো, ‘খালাফ! আমি অন্যায়ভাবে বাবার কোনো সম্পত্তি নিই নি। বাবা আমাকে সব দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আমি রাজি হই নি। সমস্ত সম্পত্তি সমান করে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তোমাকে বিন্দুমাত্র ঠকানো হয় নি। বরং আমি কি তোমাকে সব সময় পদে পদে সহযোগিতা করিনি? তোমার মঙ্গল চিন্তায় সব সময় আমি ব্যাকুল থেকেছি। আজ সব ভুলে গিয়ে তুমি আমাকে চোর বলছো! ষড়যন্ত্র করে নির্জন মরুতে আমাকে হত্যা করতে চাইছে! আল্লাহ কিন্তু এঅবিচার সহ্য করবেন না!!’
আহমদের কথায় খালাফের মাঝে কোনো পরিবর্তন এলো না। উল্টো দাঁত বের করে সে হাসলো। শয়তানের মতো অট্টহাসি। তারপর বললো, ‘আহারে! কে বলেছে তোমাকে আমার কল্যাণের কথা ভেবে ভেবে এতো হয়রান পেরেশান হতে? খেয়ে-দেয়ে তোমার কোনো কাজ নেই বুঝি! এই চেয়ে দেখো, তোমাকে খতম করে আমি নিজে নিজেই এখন সমস্ত সম্পত্তির মালিক বনে যাচ্ছি!’
আহমদ সফরের ক্লান্তি দূর করার জন্যে পাঞ্জাবীটা খুলে একটু আরাম করে বসলো। একটু পর খাওয়ার আয়োজন নিয়ে সে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আয়োজন শেষে ওদেরকে দস্তরখানে এসে বসতে বললো।
জবাবে খালাফ বললো, ‘ভাইয়া! একটু অপেক্ষা করো! আমি জম্ভগুলোকে একটু পানি খাইয়ে আসছি।’
এরপর খালাফ গাধাগুলো নিয়ে দূরে কোথাও চলে গেলো। সঙ্গে যোগ দিলো কর্মচারিটিও। খালাফ ফিরে এলো বেশ খানিকটা পর। তখন আহমদ বসে বসে ঝিমুচ্ছিলো।
খালাফ দেখলো, এটাই সুযোগ। সে পা টিপে টিপে আহমদের পেছনে এসে দাঁড়ালো। তারপর আচমকা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আহমদ কিছু বোঝে ওঠার পূর্বেই খালাফ তার নাকে-মুখে কিল-ঘুষি চালাতে লাগলো। অপরদিকে খালাফের সঙ্গীটি এসে আহমদকে শক্ত করে বেঁধে ফেললো। ঘটনার আকস্মিকতায় আহমদ একেবারে আকাশ থেকে পড়লো! এ অস্বাভাবিক আচরণকে বিশ্বাস করতে পারলো না আহমদ। এ কোনো ঠাট্টা নয় তো! কিন্তু ছোট ভাই কি বড় ভাইয়ের সাথে এমন নিষ্ঠুর ঠাট্টায় মেতে উঠতে পারে? তার সঙ্গীটিও কী অমানবিক আক্রোশে তাকে বেঁধে ফেললো! না, অসম্ভব! এ কোনো ঠাট্টা হতে পারে না! তাহলে কি আহমদ খালাফের ষড়যন্ত্রের শিকার?
আহমদ ইন্না লিল্লাহ পড়তে লাগলো। তারপর ওদেরকে বললো, ‘এই! তোমরা এ-সব কী করছো?’ খালাফ তখন আহমদকে ব্যঙ্গ করে বললো, ‘এ-সব কী করছি? বুঝতে পারছেন না বুঝি সাহেব! এ-সব হচ্ছে আপনার উপযুক্ত পুরস্কার! চোরের পুরস্কার!’
আহমদ আহত কণ্ঠে বললো, ‘তুমি আমাকে চোর বলতে পারলে? আমি তোমার কী চুরি করেছি শুনি?’
‘তোমায় চোর বলবো না তো সাধু বলবো নাকি? তুমি আমার বাবার সমস্ত সম্পত্তি লুটে নিয়ে গেছো! আর আমাকে তোমার কর্মচারী করে রেখেছো! আজ এই তোমার উপযুক্ত সাজা!’
আহমদ বললো, ‘খালাফ! আমি অন্যায়ভাবে বাবার কোনো সম্পত্তি নিই নি। বাবা আমাকে সব দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আমি রাজি হই নি। সমস্ত সম্পত্তি সমান করে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তোমাকে বিন্দুমাত্র ঠকানো হয় নি। বরং আমি কি তোমাকে সব সময় পদে পদে সহযোগিতা করিনি? তোমার মঙ্গল চিন্তায় সব সময় আমি ব্যাকুল থেকেছি। আজ সব ভুলে গিয়ে তুমি আমাকে চোর বলছো! ষড়যন্ত্র করে নির্জন মরুতে আমাকে হত্যা করতে চাইছে! আল্লাহ কিন্তু এঅবিচার সহ্য করবেন না!!’
আহমদের কথায় খালাফের মাঝে কোনো পরিবর্তন এলো না। উল্টো দাঁত বের করে সে হাসলো। শয়তানের মতো অট্টহাসি। তারপর বললো, ‘আহারে! কে বলেছে তোমাকে আমার কল্যাণের কথা ভেবে ভেবে এতো হয়রান পেরেশান হতে? খেয়ে-দেয়ে তোমার কোনো কাজ নেই বুঝি! এই চেয়ে দেখো, তোমাকে খতম করে আমি নিজে নিজেই এখন সমস্ত সম্পত্তির মালিক বনে যাচ্ছি!’