১
গল্পে আঁকা ইতিহাস ৪ -দুই ভাইয়ের গল্প
লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
কাঁটা-বিছানো পথে শুরু হলো পথচলা
একদিন উপযুক্ত একটা দিন দেখে আহমদ এক বাণিজ্য বহরের সাথে সফরে বের হয়ে গেলো। সাথে খালাফ এবং সদ্য নিয়োগ করা কর্মচারিটি। এ-কাফেলায় শরীক ছিলো আরো অনেক নামী দামী ব্যবসায়ী। তাদের সাথে ছিলো বিপুল পণ্য বহর। পণ্যবাহী ঘোড়া, গাধা ও উট ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছে গন্তব্যের দিকে।
এ-ধরনের বাণিজ্য কাফেলায় একজন আমীর থাকেন। তার নির্দেশেই কাফেলা সামনে চলে আবার থেমে যায়, যাত্রা বিরতি করে। আরাম-বিশ্রামের পর আবার নতুন করে পথচলা শুরু করে। অর্থাৎ এ সফরের সূচনা ও সমাপ্তি আমীরের পরিচালনা ও পরিকল্পনায় একটা সুন্দর শৃঙ্খলার ভিতর দিয়ে সম্পন্ন হয়।
খালাফের জন্যে এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। কারণ সে ইতিপূর্বে এমন বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে কখনো সফর করে নি। তাই সে ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে গেলো। এ-বিশাল কাফেলায় তার ‘নীলনক্সা’ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? এখানে তো অন্যায় করে পার পাওয়া ভীষণ কঠিন। কাফেলার সরদার কঠোর শাস্তি দেবেন।
এই অবস্থায় এগিয়ে এলো খালাফের ‘বন্ধু’ অর্থাৎ শয়তান! শয়তান তো তার চ্যালাদের সাথেই থাকে! শয়তান এসেই ঢুকিয়ে দিলো খালাফের মাথায় এক দুষ্ট-বুদ্ধি। খালাফ এবার হাসলো- কূটিল হাসি! তারপর আহমদের কানে কানে গিয়ে বললো, ‘ভাইয়া! তুমি কিন্তু একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একদমই ভাবছে না। এই যে বিরাট কাফেলার সাথে আমরা বাগদাদ যাচ্ছি, এটা কিন্তু ভীষণ বোকামী। কারণ এতে আমরা লাভবান হতে পারবো না। এ-কাফেলায় রয়েছে বড় বড় ব্যবসায়ী। বিপুল তাদের পণ্য সামগ্রী। এরা সবাই যখন একসাথে, একই সময়ে বাগদাদ গিয়ে পৌঁছবে, তখন নির্ঘাত বাজারদর পড়ে যাবে। অনেক কম লাভে আমাদেরকে পণ্য বিক্রি করতে হবে। এরচে আমরা যদি এক্ষুণি এ-কাফেলা ত্যাগ করে ভিন্ন পথে একটু দ্রুত পথ চলি, তাহলে আমার মনে হয়, কাফেলার অনেক আগেই আমরা বাগদাদ পৌঁছে যাবো এবং উচ্চ মূল্যে আমাদের পণ্য বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবো।’
আহমদ বললো, ‘কিন্তু এই ভীতিপ্রদ বিজন মরু এলাকায় কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তো ঠিক না! এখানে পদে পদে বিপদের আশঙ্কা।’
খালাফ বললো, ‘ভয়ের কী আছে ভাইয়া? আমরা দু’জন যতক্ষণ জীবিত আছি, ততক্ষণ আপনার কোনো ভয় নেই। আমরা দুজন মিলে দশ পনেরজনের ডাকাত দলকেও কাবু করে ফেলতে পারবো।’
খালাফের কথায় এবারও আহমদ বিভ্রান্ত হলো। মত পরিবর্তন করে কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। আমীরকে জানিয়ে একটু পরই ভিন্ন পথে সে যাত্রা করলো। কাফেলার সরদার বারবার ‘না’ করলেন। কিন্তু আহমদ কী ভেবে যেনো মত পরিবর্তনে অপারগতা প্রকাশ করলো।
আহমদ, খালাফ ও কর্মচারিটি এবার বিজন মরুতে আলাদা পথ চলা শুরু করলো। আহমদ একা একটি ঘোড়ায়। খালাফ চড়েছে আরেকটি ঘোড়ায়। তার পেছনে কর্মচারিটি। তাদের সাথে আছে পণ্যবাহী সাতটি গাধা। খালাফ ও তার অনুচরের মুখে হাসি থাকলেও আহমদ ছিলো কিছুটা গম্ভীর। একটা অজানা আশঙ্কার ছায়া তার চোখে-মুখে লেপটে আছে।
এ-ধরনের বাণিজ্য কাফেলায় একজন আমীর থাকেন। তার নির্দেশেই কাফেলা সামনে চলে আবার থেমে যায়, যাত্রা বিরতি করে। আরাম-বিশ্রামের পর আবার নতুন করে পথচলা শুরু করে। অর্থাৎ এ সফরের সূচনা ও সমাপ্তি আমীরের পরিচালনা ও পরিকল্পনায় একটা সুন্দর শৃঙ্খলার ভিতর দিয়ে সম্পন্ন হয়।
খালাফের জন্যে এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। কারণ সে ইতিপূর্বে এমন বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে কখনো সফর করে নি। তাই সে ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে গেলো। এ-বিশাল কাফেলায় তার ‘নীলনক্সা’ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? এখানে তো অন্যায় করে পার পাওয়া ভীষণ কঠিন। কাফেলার সরদার কঠোর শাস্তি দেবেন।
এই অবস্থায় এগিয়ে এলো খালাফের ‘বন্ধু’ অর্থাৎ শয়তান! শয়তান তো তার চ্যালাদের সাথেই থাকে! শয়তান এসেই ঢুকিয়ে দিলো খালাফের মাথায় এক দুষ্ট-বুদ্ধি। খালাফ এবার হাসলো- কূটিল হাসি! তারপর আহমদের কানে কানে গিয়ে বললো, ‘ভাইয়া! তুমি কিন্তু একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একদমই ভাবছে না। এই যে বিরাট কাফেলার সাথে আমরা বাগদাদ যাচ্ছি, এটা কিন্তু ভীষণ বোকামী। কারণ এতে আমরা লাভবান হতে পারবো না। এ-কাফেলায় রয়েছে বড় বড় ব্যবসায়ী। বিপুল তাদের পণ্য সামগ্রী। এরা সবাই যখন একসাথে, একই সময়ে বাগদাদ গিয়ে পৌঁছবে, তখন নির্ঘাত বাজারদর পড়ে যাবে। অনেক কম লাভে আমাদেরকে পণ্য বিক্রি করতে হবে। এরচে আমরা যদি এক্ষুণি এ-কাফেলা ত্যাগ করে ভিন্ন পথে একটু দ্রুত পথ চলি, তাহলে আমার মনে হয়, কাফেলার অনেক আগেই আমরা বাগদাদ পৌঁছে যাবো এবং উচ্চ মূল্যে আমাদের পণ্য বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবো।’
আহমদ বললো, ‘কিন্তু এই ভীতিপ্রদ বিজন মরু এলাকায় কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তো ঠিক না! এখানে পদে পদে বিপদের আশঙ্কা।’
খালাফ বললো, ‘ভয়ের কী আছে ভাইয়া? আমরা দু’জন যতক্ষণ জীবিত আছি, ততক্ষণ আপনার কোনো ভয় নেই। আমরা দুজন মিলে দশ পনেরজনের ডাকাত দলকেও কাবু করে ফেলতে পারবো।’
খালাফের কথায় এবারও আহমদ বিভ্রান্ত হলো। মত পরিবর্তন করে কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। আমীরকে জানিয়ে একটু পরই ভিন্ন পথে সে যাত্রা করলো। কাফেলার সরদার বারবার ‘না’ করলেন। কিন্তু আহমদ কী ভেবে যেনো মত পরিবর্তনে অপারগতা প্রকাশ করলো।
আহমদ, খালাফ ও কর্মচারিটি এবার বিজন মরুতে আলাদা পথ চলা শুরু করলো। আহমদ একা একটি ঘোড়ায়। খালাফ চড়েছে আরেকটি ঘোড়ায়। তার পেছনে কর্মচারিটি। তাদের সাথে আছে পণ্যবাহী সাতটি গাধা। খালাফ ও তার অনুচরের মুখে হাসি থাকলেও আহমদ ছিলো কিছুটা গম্ভীর। একটা অজানা আশঙ্কার ছায়া তার চোখে-মুখে লেপটে আছে।