hadith book logo

গল্পে আঁকা ইতিহাস ৪ -দুই ভাইয়ের গল্প

লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

খালাফ! তুমি কি ‘অমানুষ’?

আহমদ কিন্তু তার ভাইকে সাহায্য-সহযোগিতা করেই যাচ্ছিলো। দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। ভোলা মনে, স্বচ্ছ মনে, ভ্রাতৃত্বের কোমল অনুভুতিতে আলোড়িত হয়ে। কিন্তু খালাফের মনে কোনো পরিবর্তন এলো না। অমন সোনার ভাইয়ের সম্মানেভক্তিতে তার মাথা নুয়ে এলো না। বরং উল্টো ভাইয়ের বিরুদ্ধে সে চালিয়ে যেতে লাগলো গভীর ষড়যন্ত্র।

বাইরে বাইরে খালাফ আহমদের প্রতি ভক্তি-ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশ করতো। প্রতিদিনই আহমদের সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে আলাপ-আলোচনা করতো। তার কথা মেনে চলার ভান করতো। এমন কি আহমদ কিছু করতে বললে হাসিমুখে সে তা করেও দিতো। ভালো ব্যবহার দেখিয়ে সে আহমদের মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলো এবং এ ক্ষেত্রে সে সফলও হলো। কিন্তু মনে মনে সে সুযোগ খুঁজছিলো আহমদের সর্বনাশ করার। তার ধন-সম্পদ দখল করার। এমন কি তাকে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেয়ার।

একদিন খালাফ আহমদের কাছে এক নতুন প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলো। তখন আহমদ এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সফরের আয়োজনে ব্যস্ত ছিলো। খালাফ সালামের পর বিনয়ভরা কণ্ঠে বললো, ‘ভাইয়া! শুনলাম তুমি সফরে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এ দূরের সফরে তোমার সাথে একজন ভালো পথসঙ্গী থাকা দরকার। তুমি অনুমতি দিলে আমি নিজেই যেতে রাজি আছি।’

আহমদ খালাফের প্রস্তাবে ভীষণ খুশি হলো। বললো, ‘উত্তম প্রস্তাব! তুমি আমার সাথে গেলে তো খুবই ভালো হয়! এতোদিনে বুঝি তোমার সুমতি হলো? হায়! বাবা বেঁচে থাকলে এখন কতো খুশি হতেন!’

আহমদের সফরসঙ্গী হওয়ার সবুজ সঙ্কেত পেয়ে খালাফ ভীষণ খুশি হলো। আহমদের একান্ত বিশ্বস্ত এক কর্মচারী ছিলো। সকল বাণিজ্যিক সফরেই সে আহমদের সঙ্গে থাকতো। খালাফ এবার তাকে দলে ভিড়ানোর কিংবা দল থেকে ভাগানোর উদ্দেশ্যে তার কাছে ছুটে গেলো। প্রথমে চেষ্টা করলো পথের কাঁটাকে ফুল বানাতে, তাকে দলে ভিড়াতে।

খালাফ কর্মচারিটির বিশ্বস্ততার মাত্রা যাচাই করলো। তাকে নিজের পরিকল্পনাটা বললো। কিন্তু ফল হলো উল্টো। খালাফের ষড়যন্ত্রের কথা শুনে কর্মচারিটি রীতিমত আঁতকে উঠলো এবং খালাফের প্রস্তাব দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করলো।

খালাফ দেখলো- বড়ো ভুল জায়গায় সে হাত দিয়েছে। একে দলভুক্ত করা মোটেই সম্ভব না। আহমদের একেবারে অন্ধ ভক্ত সে। খালাফ ভীষণ বিপাকে পড়ে গেলো। কর্মচারিটি তার আসল মতলব জেনে ফেলেছে। একে শায়েস্তা না করলে এক্ষুণি আহমদের কাছে গিয়ে সব ফাঁস করে দেবে।

খালাফ সময় নষ্ট করলো না। শয়তানদের তো আর শয়তানি বুদ্ধির অভাব হয় না। কর্মচারিটিকে আর ঘাটাঘাটি না করে সে তার কাছ থেকে চোখ লাল করে বেরিয়ে গেলো। ছুটে গেলো আহমদের কাছে। তারপর কর্মচারিটির বিরুদ্ধে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক মিথ্যা অভিযোগ করলো। বিনা অপরাধেই তাকে মহা অপরাধী হিসাবে তুলে ধরলো।

ভাইয়ের কথা ভাই তো বিশ্বাস করবেই। ভাইয়ের কথায় ভাই তো প্রভাবিত হবেই। ফল যা হবার তাই হলো। বেচারা কর্মচারী কোনো দোষ না করেই দোষী সাব্যস্ত হলো।

আর খালাফ! আড়ালে দাঁড়িয়ে হাসলো- ‘বিজয়ী’র হাসি! অসৎ হাসি! কুৎসিত হাসি! পাশাপাশি নিজের ষড়যন্ত্রের পথকে কাঁটামুক্ত করতে তার এক নষ্ট বন্ধুকে নিয়ে আহমদের কাছে হাজির করলো, ‘ভাইয়া! এ খুব ভালো। ভীষণ বিশ্বস্ত। একে আমরা নিশ্চিন্তে আমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারি।’