hadith book logo

নুসাইরিয়া সম্প্রদায়

লেখকঃ ড. গালেব ইব্‌ন আলি আওয়াজি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

একাদশ অধ্যায়: নুসাইরিদের বিভিন্ন দল-উপদল।

নুসাইরিরা নানা দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কয়েকটি নিম্নরূপ:

১- “আল-জিরানাহ”: [বর্তমান তুরস্কের অধীন “হাতেয়া” প্রদেশের এন্টাকিয়া অঞ্চলের একটি জনপদের নাম জিরানাহ। অনুবাদক।] তারা জিরানা জনপদে বসবাসকারী, তাই তাদেরকে “জিরানাহ” বলা হয়। অতঃপর তাদের নেতা মুহাম্মদ ‘কালাযু’ এর আবির্ভাবের পর থেকে তারা “আল-কালাযিয়াহ” নামে পরিচিত হয়। তাদের অপর নাম “আল-কামারিয়াহ”, কারণ তারা বিশ্বাস করে আলি চাঁদে প্রবেশ করেছেন। [ড. হালবি রচিত “তায়েফাতুন নুসাইরিয়াহ”: (পৃ.৮৩) গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। আর অধিকাংশ আলেম বলেন: “আলি সূর্যে প্রবেশ করেছেন বিশ্বাসে কালাজিয়া সম্প্রদায় সূর্যের ইবাদত করে। সূর্য ও চাঁদকে সম্মান করা নুসাইরিদের সাধারণ অভ্যাস। তবে শায়েখদের অনুকরণে কখনো সূর্য আবার কখনো চাঁদের দিকে বেশী মনোযোগ দেয়।] তাদের বিশ্বাস মানুষ যখন পরিচ্ছন্ন, খালেস ও নির্ভেজাল মদ পান করে, তখন সে চাঁদের নিকটবর্তী হয়।

২- “আল-গাইবিয়্যাহ”: ড. হালবির সংজ্ঞা মতে: অদৃশ্য জগতে নির্ধারিত বস্তুর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তারা অসীলা ত্যাগ করেছে, তাই তাদেরকে “গাইবিয়্যাহ” বলা হয়। অথবা তারা বলেছে: আল্লাহ আলির মধ্যে বিকশিত হয়েছেন, অতঃপর মানুষের অন্তরালে চলে যান ও আত্মগোপন করেন, তাই বর্তমান যুগ হচ্ছে গাইবতের যুগ। তারা স্বীকার করে অদৃশ্য মূলত আল্লাহ, তিনি হলেন আলি। ‘সাবের তু‘আইমাহ’ তা-ই উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তাদের মধ্যে আলি হায়দার নামে জনৈক ব্যক্তির আবির্ভাব হল, তখন থেকে তারা “আল-হায়দারিয়্যাহ” নামে পরিচিতি লাভ করে।

৩- “আল-মাখুসিয়্যাহ”: আলি মাখুসি কালাযিয়া থেকে বের হয়ে নতুন দল গঠন করেন, যার নাম “আল-মাখুসিয়্যাহ”।

৪- “আন-নিয়াসিফাহ”: নুসাইরি শায়েখ নাসের আল-হাসুরির নামে তাদের নিয়াসিফা বলা হয়, কারণ তার বাসস্থান ছিল লেবাননে অবস্থিত নিসাফ এলাকায়। [দেখুন: “তায়েফাতুন নুসাইরিয়্যাহ”: (পৃ.৮৩), সাবের তায়িমাহ রচিত “দিরাসাত ফিল ফিরাক”: (পৃ.৫৪,৫৫), এবং মাযাহেবুল ইসলামিয়্যিন: (৪/২৯৫)]