hadith book logo

কুরআন ও সুন্নার আলোকে এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে তরুণদের করণীয়

লেখকঃ ড. মোহাম্মাদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

৩ অবৈধ যৌনমিলন/ যৌনাচার থেকে একেবারেই বিরত থাকাই ইসলামের নির্দেশঃ

ইসলাম বিশ্বস্ত দাম্পত্য মিলনের বাইরে সকল প্রকার যৌনাচারকে স্পষ্টভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا تَقۡرَبُواْ ٱلزِّنَىٰٓۖ إِنَّهُۥ كَانَ فَٰحِشَةٗ وَسَآءَ سَبِيلٗا ٣٢﴾ [ الإسراء :32]

‘‘তোমরা যেনার নিকটবর্তী হয়ো না। কেননা এটি অত্যন্ত অশ্লীল ও মন্দ পথ’’। [বনী ইসরাঈল : ৩২]

যেনার প্রতি উদ্বুদ্ধকারী সকল প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য অশ্লীল কর্মকান্ডকেও ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে এবং এগুলোর ধারে কাছে যেতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا تَقۡرَبُواْ ٱلۡفَوَٰحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَمَا بَطَنَۖ﴾ [ الأنعام :151]

‘‘প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল কাজের নিকটেও যেয়ো না’’। [আল-আনআ’ম : ১৫১]

অবাধ যৌনাচার থেকে বিরত থাকা ঈমানের লক্ষণ। সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা ঈমানদারদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেন,

﴿ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِفُرُوجِهِمۡ حَٰفِظُونَ ٥ إِلَّا عَلَىٰٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُمۡ فَإِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُومِينَ ٦ فَمَنِ ٱبۡتَغَىٰ وَرَآءَ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡعَادُونَ ٧﴾ [ المؤمنون :5-7]

‘‘আর (সফলকাম মুমিন তো তারা) যারা নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসী ছাড়া অন্যদের সাথে যৌনমিলন থেকে নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে। এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। আর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে (যৌনকাজে) কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী’’। [আল-মু‘মিনূন : ৫-৭, আল-মা‘আরিজ : ২৯-৩১] এ আয়াতে নিজ মালিকানাধীন দাসী, যার প্রচলন বর্তমানে নেই, এবং নিজ স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে,যৌনাচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যেনা ও ব্যভিচারের মাধ্যমে দৈহিক ও সামাজিক নানাপ্রকার সমস্যা দেখা দেয়। অধিকন্তু যেনায় লিপ্ত হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্টরা একদিকে যেমন এইচআইভি ও এইডসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় প্রবলভাবে, অন্যদিকে তেমনি মুসলিম সমাজে তাদের মর্যাদাও ক্ষুন্ন হয় ভীষণভাবে। এজন্য ইসলাম একে ভয়াবহ অপরাধ ও চরিত্র বিধ্বংসী বৈশিষ্ট্য বলে আখ্যায়িত করেছে। আল্লাহ তা‘আলা যেনার শাস্তি বর্ণনায় বলেন,

﴿ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِي فَٱجۡلِدُواْ كُلَّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا مِاْئَةَ جَلۡدَةٖۖ وَلَا تَأۡخُذۡكُم بِهِمَا رَأۡفَةٞ فِي دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۖ وَلۡيَشۡهَدۡ عَذَابَهُمَا طَآئِفَةٞ مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢﴾ [ النور :2]

‘‘ব্যভিচারী নারী পুরুষ উভয়কে একশত বেত্রাঘাত কর। তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন অনুকম্পা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর মুমিনদের এটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ্য করে’’। আন-নূর : ২]

কেউ যেন ‘যেনা’য় উদ্বুদ্ধ না হয় এবং বিপরীত লিঙ্গের সৌন্দর্য অবলোকন যেন কাউকে যেনার প্রতি প্ররোচিত না করে সে দিকে মুমিন নর-নারীকে নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ ٣٠ وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ﴾ [ النور :30-31]

‘‘আপনি মুমিনদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; এটিই তাদের জন্য পবিত্রতম। তারা যা করছে আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত। আর আপনি মুমিন নারীদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে’’। [আন-নূর : ৩০-৩১]

সমকামিতাকেও ইসলাম একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এবং যাতে কেউ এ নিকৃষ্ট কাজে লিপ্ত না হয় সেজন্য এর শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছে। মুসলিম পন্ডিতদের অনেকের মতে সমকামিতার শাস্তি ব্যভিচারের শাস্তিরই অনুরূপ। আবার অনেকের মতে এর শাস্তি মৃত্যুদন্ড। দলীল হচ্ছে নিম্নবর্ণিত হাদীসটিঃ

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «اقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ فِي عَمَلِ قَوْمِ لُوطٍ»

‘‘ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা লূত আ. এর সম্পদায়ের কাজ (তথা সমকামিতা) কাউকে করতে দেখলে এ কাজে লিপ্ত উভয়কে হত্যা কর’’। [আহমাদ, আবূ দাউদ, তিরমিযি, ইবন মাজাহ ও বায়হাকী]