১
কুরআন ও সুন্নার আলোকে এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে তরুণদের করণীয়
লেখকঃ ড. মোহাম্মাদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
৯ এইচআইভি/এইডস এ আক্রান্তদের প্রতি অপবাদ আরোপ ও বৈষম্যমূলক আচরণ পরিহারে ইসলামী নির্দেশনাঃ
আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং উপহাস ও অসৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে কাউকে মানসিক পীড়ন করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَسۡخَرۡ قَوۡمٞ مِّن قَوۡمٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُونُواْ خَيۡرٗا مِّنۡهُمۡ وَلَا نِسَآءٞ مِّن نِّسَآءٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُنَّ خَيۡرٗا مِّنۡهُنَّۖ وَلَا تَلۡمِزُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَلَا تَنَابَزُواْ بِٱلۡأَلۡقَٰبِۖ بِئۡسَ ٱلِٱسۡمُ ٱلۡفُسُوقُ بَعۡدَ ٱلۡإِيمَٰنِۚ وَمَن لَّمۡ يَتُبۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ١١ ﴾ [ الحجرات :11]
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের একদল লোক যেন আরেক দল লোককে উপহাস না করে। হতে পারে উপহাসকারীদের চেয়েও তারা উত্তম। একই ভাবে তোমাদের একদল নারী যেন অন্য আরেক দল নারীকে উপহাস-বিদ্রূপ না করে। হতে পারে যারা উপহাস করেছে তাদের চেয়ে ওরা উত্তম। তোমরা একজন আরেকজনকে অযথা দোষারূপ করবে না এবং একজন আরেকজনকে খারাপ নাম ধরে ডাকবে না’’। [আল-হুজরাত : ১১]
আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে, অন্যায় ও অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত না হয়েও এইচআইভি সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন কোন সৎ মানুষের দেহে এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত প্রবেশ করানো হলে বা এইচআইভি সংক্রমিত লোকের সাথে অজ্ঞতাবশতঃ বিয়ে হওয়ার পর বৈধ যৌনমিলন হলে অবৈধ যৌনাচার ছাড়াও একজন লোক এইডস রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এরূপ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির ন্যুনতম দোষ না থাকলেও তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়ে পড়েন। এদের প্রতি ঘৃণা পোষণ অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় কাজ। বরং এরা খুব বেশী সাহায্য ও সহানুভূতির হকদার।
অতএব এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত হলেই সে অন্যায় যৌনাচারের মাধ্যমেই আক্রান্ত হয়েছে, সবার ক্ষেত্রে এমন ধারণা করা মোটেই সঙ্গত হতে পারে না। অতএব আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে সব সময় মন্দ ধারণা পোষণ করা কোনক্রমেই শরীয়তে সমর্থিত হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ ﴾ [ الحجرات :12]
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা পোষণ হতে বিরত থাক। কেননা কোন কোন ধারণা করা পাপ’’। [আল-হুজরাত ৪৯ : ১২]
এইচআইভি সংক্রমিত কিংবা এইডস আক্রান্তদের কেউ কেউ যদি বিকৃত ও অবৈধ যৌনাচারের কারণেও এতে সংক্রমিত ও আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবু তাকে ঘৃণা করে একঘরে করে ফেলা কিংবা তাকে মানসিকভাবে পীড়ন করা কারো জন্য মোটেই সঙ্গত ও শোভনীয় নয়। এক্ষেত্রে ঘৃণার পাত্রটি হচ্ছে বিকৃত ও অবৈধ যৌনাচার। আর সাক্ষ্য প্রমাণে এ বিষয়টি সাব্যস্ত হলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যেনা বা সমকামিতার শাস্তি প্রদান করবেন। আর যদি এরা তাওবাহ করেন তাহলে তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির অনুরূপ যার কোন গুনাহ নেই’’। [সুনান ইবন মাজাহ-৪২৪০]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘‘...নিজের মুসলিম ভাইকে ছোট ও অপমান করা কোন ব্যাক্তির অনিষ্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট’’। [সুনান তিরমিযি-১৮৫০]
তাছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের শুশ্রষার পাশাপাশি তাদেরকে পাপমুক্ত হওয়া ও তাওবা করার নসীহত করা যেতে পারে। সে যদি ঈমানহারা হয় তাহলে ঈমানের দিকে আহবান করা যেতে পারে। এমনটিই করেছিলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তিনি তার অসুস্থ খাদিম ইয়াহুদী কিশোরকে দেখতে গিয়েছিলেন। সহীহ বুখারীতে এসেছে,
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ غُلَامٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ لَهُ أَسْلِمْ فَنَظَرَ إِلَى أَبِيهِ وَهُوَ عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْلَمَ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ : «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ مِنْ النَّار»
‘‘আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি ইয়াহুদী গোলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমত করত। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে ও শুশ্রষা করতে এলেন। এরপর তিনি তার শিয়রের পাশে বসে তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে তার পাশে অবস্থানকারী বাবার দিকে তাকাল। তিনি বললেন, আবুল কাসেম (নবী) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য কর। এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা বলতে বরতে বের হলেন যে, ‘‘সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ তিয়েছেন।’’ [সহীহ বুখারি-১৩৫৬]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَسۡخَرۡ قَوۡمٞ مِّن قَوۡمٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُونُواْ خَيۡرٗا مِّنۡهُمۡ وَلَا نِسَآءٞ مِّن نِّسَآءٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُنَّ خَيۡرٗا مِّنۡهُنَّۖ وَلَا تَلۡمِزُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَلَا تَنَابَزُواْ بِٱلۡأَلۡقَٰبِۖ بِئۡسَ ٱلِٱسۡمُ ٱلۡفُسُوقُ بَعۡدَ ٱلۡإِيمَٰنِۚ وَمَن لَّمۡ يَتُبۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ١١ ﴾ [ الحجرات :11]
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের একদল লোক যেন আরেক দল লোককে উপহাস না করে। হতে পারে উপহাসকারীদের চেয়েও তারা উত্তম। একই ভাবে তোমাদের একদল নারী যেন অন্য আরেক দল নারীকে উপহাস-বিদ্রূপ না করে। হতে পারে যারা উপহাস করেছে তাদের চেয়ে ওরা উত্তম। তোমরা একজন আরেকজনকে অযথা দোষারূপ করবে না এবং একজন আরেকজনকে খারাপ নাম ধরে ডাকবে না’’। [আল-হুজরাত : ১১]
আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে, অন্যায় ও অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত না হয়েও এইচআইভি সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন কোন সৎ মানুষের দেহে এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত প্রবেশ করানো হলে বা এইচআইভি সংক্রমিত লোকের সাথে অজ্ঞতাবশতঃ বিয়ে হওয়ার পর বৈধ যৌনমিলন হলে অবৈধ যৌনাচার ছাড়াও একজন লোক এইডস রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এরূপ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির ন্যুনতম দোষ না থাকলেও তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়ে পড়েন। এদের প্রতি ঘৃণা পোষণ অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় কাজ। বরং এরা খুব বেশী সাহায্য ও সহানুভূতির হকদার।
অতএব এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত হলেই সে অন্যায় যৌনাচারের মাধ্যমেই আক্রান্ত হয়েছে, সবার ক্ষেত্রে এমন ধারণা করা মোটেই সঙ্গত হতে পারে না। অতএব আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে সব সময় মন্দ ধারণা পোষণ করা কোনক্রমেই শরীয়তে সমর্থিত হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ ﴾ [ الحجرات :12]
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা পোষণ হতে বিরত থাক। কেননা কোন কোন ধারণা করা পাপ’’। [আল-হুজরাত ৪৯ : ১২]
এইচআইভি সংক্রমিত কিংবা এইডস আক্রান্তদের কেউ কেউ যদি বিকৃত ও অবৈধ যৌনাচারের কারণেও এতে সংক্রমিত ও আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবু তাকে ঘৃণা করে একঘরে করে ফেলা কিংবা তাকে মানসিকভাবে পীড়ন করা কারো জন্য মোটেই সঙ্গত ও শোভনীয় নয়। এক্ষেত্রে ঘৃণার পাত্রটি হচ্ছে বিকৃত ও অবৈধ যৌনাচার। আর সাক্ষ্য প্রমাণে এ বিষয়টি সাব্যস্ত হলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যেনা বা সমকামিতার শাস্তি প্রদান করবেন। আর যদি এরা তাওবাহ করেন তাহলে তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির অনুরূপ যার কোন গুনাহ নেই’’। [সুনান ইবন মাজাহ-৪২৪০]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘‘...নিজের মুসলিম ভাইকে ছোট ও অপমান করা কোন ব্যাক্তির অনিষ্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট’’। [সুনান তিরমিযি-১৮৫০]
তাছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের শুশ্রষার পাশাপাশি তাদেরকে পাপমুক্ত হওয়া ও তাওবা করার নসীহত করা যেতে পারে। সে যদি ঈমানহারা হয় তাহলে ঈমানের দিকে আহবান করা যেতে পারে। এমনটিই করেছিলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তিনি তার অসুস্থ খাদিম ইয়াহুদী কিশোরকে দেখতে গিয়েছিলেন। সহীহ বুখারীতে এসেছে,
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ غُلَامٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ لَهُ أَسْلِمْ فَنَظَرَ إِلَى أَبِيهِ وَهُوَ عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْلَمَ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ : «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ مِنْ النَّار»
‘‘আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি ইয়াহুদী গোলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমত করত। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে ও শুশ্রষা করতে এলেন। এরপর তিনি তার শিয়রের পাশে বসে তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে তার পাশে অবস্থানকারী বাবার দিকে তাকাল। তিনি বললেন, আবুল কাসেম (নবী) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য কর। এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা বলতে বরতে বের হলেন যে, ‘‘সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ তিয়েছেন।’’ [সহীহ বুখারি-১৩৫৬]