১
কুরআন ও সুন্নার আলোকে এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে তরুণদের করণীয়
লেখকঃ ড. মোহাম্মাদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
এইচআইভি/এইডস ও আমাদের তরুণ সমাজঃ
তারুণ্যকে যতটা নিয়ামত দিয়ে আল্লাহ ভরপুর করে দিয়েছেন, মানুষের বয়সের আর কোন পর্যায়কে আল্লাহ ততটা নেয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেন নি। তাইতো এটিই জীবনের সর্বোত্তম সময় বলে বিবেচিত হয়। তারুণ্যের মেধা, শক্তি, সততা ও নিষ্ঠাকে কাজে লাগিয়েই অতীতে বহু জাতি উন্নত হয়েছে, বিশ্বের দরবারে সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাই তরুণ সমাজের উপর আজো সকল মানুষের রয়েছে বিপুল আশা, আকাংখা ও আস্থা। কিশোর এবং যুবকেরাই এ তরুণ সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছে। কৈশর এবং যৌবন জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় হলেও অন্য বিবেচনায় তাকে বলা যেতে পারে মানুষের জীবনের ঝড়-ঝঞ্ঝার সময়। কেননা এ সময়ে শারীরিক পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিয়ে মনোজগতেও ঘটে বৈপ্লবাত্মক পরিবর্তন। UNAIDS-২০০৬ এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর নতুনভাবে এইচআইভি সংক্রমিতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশী হচ্ছে ২৫ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতী। অল্প বয়স, শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং আর্থিক নির্ভরশীলতাসহ নানাবিধ কারণে কিশোর-কিশোরী এবং যুবক-যুবতীরা এইচআইভি দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৮০০০ মানুষ মারা যাচ্ছে, যার অর্ধেকই যুবসমাজ। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের অমিত সম্ভাবনার যে বিশাল যুবসমাজ রয়েছে, যারা দেশের মোট জনসংখ্যার ৩১.২৭ শতাংশ (৩.৮ কোটি), তারাও হতে পারে এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের নির্মম শিকার।