hadith book logo

কুরআন ও সুন্নার আলোকে এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে তরুণদের করণীয়

লেখকঃ ড. মোহাম্মাদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

৮ অল্পবয়সীদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহারের কৌশল নির্ধারণে ইসলামঃ

এইচআইভি এবং এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ‘না’ বলা একটি বড় কৌশল। ক্ষতিকর সব ব্যাপারে ‘না’ বলার প্রমাণ আমরা পাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট অথচ অর্থপূর্ণ এক বাণীতে। হাদীসে এসেছেঃ

عن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : «لا ضرر ولا ضرار»

‘‘আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিজের ক্ষতি করা যাবেনা এবং অন্যেরও ক্ষতি করা যাবে না’’। [সুনান দারা কুতনী - ২৮৮]।

عن عبادة بن الصامت قال إن من قضاء رسول الله صلى الله عليه و سلم : أنه قضى أن «لا ضرر ولا ضرار»

‘‘উবাদাহ ইবন সামেত রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফয়সালা করে দিয়েছেন যে, নিজের ক্ষতি করা যাবেনা এবং অন্যেরও ক্ষতি করা যাবে না’’। [আস-সুনান আল-কুবরা-১১৬৫৭]।

অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রায়শই আবেগ দ্বারা চালিত হয়, যুক্তি দ্বারা নয়। জীবনের বাস্তব সমস্যা মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে অনেক সময় ‘না’ বলার প্রয়োজন হয় এবং নিজের বিবেকসম্মত ও সঠিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, যা অল্প বয়সীদের জন্য কঠিন কাজ। এমন হতে পারে যে, একজন শিক্ষার্থী তার সহপাঠি কিংবা প্রিয় বন্ধুর একটি প্রস্তাব পেল যা তাকে যৌন আচরণ করতে অথবা মাদকে আসক্ত হতে প্ররোচিত করে। শিক্ষার্থীর অবস্থা হল, সে কিছুতেই এ প্রস্তাব মানতে চায় না, আবার বন্ধুত্বও নষ্ট করতে চায় না। এমন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে ‘না’ বলতেই হবে, একবার শুধু নয়, বারবার। সহপাঠি বন্ধুটি এবং অন্যরা তাকে জোর করতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে দৃঢ়চেতা হতে হবে। ‘না’ বলার জন্য যা করা যেতে পারে, তা হল -

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরোক্ত হাদীসের আলোকে ধর্মীয় অনুশাসনের যুক্তিটি তুলে ধরতে হবে।

প্রস্তাবের ক্ষতিকর বিষয়টি তুলে ধরে বাস্তবভিত্তিক যুক্তি পেশ করতে হবে।

নিজের অবস্থানের দৃঢ়তা প্রকাশ করতে হবে ও ‘না’ বলতে হবে।