hadith book logo

জামা‌‘আতের সাথে নামায আদায় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তার তাৎপর্য, ফযীলত, আহকাম, উপকারিতা ও আদাবসমূহ

লেখকঃ ড. সায়ীদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল্ ক্বাহতানি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

অষ্টম পরিচ্ছেদ: এক রাকাআত পেলে জামা‘আত পাওয়া হয়:

এক রাকাআত পেলে জামা‘আত পাওয়া হয় আর রুকু না পেলে তা রাকাআত হিসাবে ধরা হয়না; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে রাসূল বলেছেন: (যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাআত পেল সে নামায পেল অর্থাৎ জামা‘আত পেল)। (বুখারী ও মুসলিম) এবং যদি ইমাম রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবার পূর্বে রুকু পায় তাহলে সে রাকআত পেল (নাইলুল আওতার-২/৩৮১, মাজমু’ফাতাওয়া-১২/১৬১); কেননা আবু বাকরাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি রুকু অবস্থায় নবী এর কাছে পৌঁছলেন এবং কাতার পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই রুকু করলেন, অতঃপর নবী এর কাছে তা উল্লেখ করা হল, তিনি বললেন: (আল্লাহ তা‘আলা তোমার উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিন তবে পূণরায় আর করবে না)। (বুখারী) আবুদাউদ উক্ত হাদীসে বৃদ্ধি করেছেন: (অতঃপর তিনি লাইন ছাড়াই রুকু করলেন এবং হেটে লাইনে পৌঁছলেন)। (আবুদাউদ)

আরও যে সকল দলীল প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি ইমামের রুকু থেকে সোজা হয়ে ওঠার পূর্বে রুকু পেল সে ঐ রাকাআত পেল: আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: রাসূল বলেছেন: (যখন তোমরা নামাযে এ অবস্থায় আস যে আমরা সিজদারত তখন সিজদাহ কর এবং উহাকে কিছু ধরবেনা অর্থাৎ রাকাআত হিসাবে গণ্য করবেনা, আর যে ব্যক্তি রাকাআত পেল সে নামায পেল অর্থাৎ জামা‘আত পেল)। (আবুদাউদ) ইবনে খুজায়মা, দারাকুতনী এবং বায়হাক্বীর শব্দে রয়েছে: (ইমাম পিঠ সোজা করে দাঁড়াবার পূুর্বে যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাআত পেল সে ঐ নামায পেল)। আর এটা হল পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী জামহুর ইমামদের মাজহাব: যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, অতঃপর তাকবীর দিল, রুকু করল এবং ইমাম রুকু থেকে মাথা ওঠানোর পূর্বেই দুই হাত হাটুতে রাখতে পারল, সে রাকাআত পেল, আর যে ব্যক্তি উহা পেলনা তার রাকআত ছুটে গেল, ফলে সে ঐ রাকাআত গণ্য করবেনা, এটা ইমাম মালেক, শাফী, আবু হানিফা, আহমাদ এর মাযহাব, আর আলী, ইবনে মাসউদ, যায়েদ, ইবনে উমর (রা:) থেকে ইহা বর্ণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ওজরের কারণে জামা‘আতে অনুপস্থিত ছিল অথচ সে নিয়মিত জামা‘আতের সাথে নামায আদায়ে যত্নবানদের একজন, অতঃপর সে এসে নামাযের কিছু অংশ পেল যা এক রাকআতের কম তার জামা‘আত ছুটে গেল, কিন্তু তার ভাল নিয়্যাত ও ওজরের কারণে তার জন্য জামা‘আতের সাওয়াব ও মর্যাদা রয়েছে; কেননা আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: নবী বলেছেন: (যে ব্যক্তি ওজু করল আর উত্তমভাবে ওজু করল, অতঃপর চলে গেল কিন্তু মানুষদেরকে এ অবস্থায় পেল যে, তারা ইতিপূর্বে নামায পড়েছে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ঐ পরিমাণ সাওয়াব দিবেন যে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি নামায পড়েছে এবং তাতে উপস্থিত ছিল অর্থাৎ জামা‘আতে উপস্থিত ছিল এবং এতে তাদের সাওয়াবের থেকে কোন অংশ ঘাটতি হবেনা)। (আবুদাউদ) আবু মূসা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে তিনি বলেন: রাসূল বলেছেন: (যখন কোন বান্দাহ অসুস্থ হয় অথবা সে সফর করে, তখন উপস্থিত অবস্থায় সুস্থ থেকে যেভাবে আমল করত তার জন্য ঐ পরিমাণ সাওয়াব লেখা হয়); (বুখারী ও মুসলিম) আনাস ইবনে মালেক (রা:) থেকে হাদীসে রয়েছে তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেন: তিনি তাবুক যুদ্ধের সময় বলেছেন: (নিশ্চয় মদীনায় কিছু সম্প্রদায় আমাদের পিছনে রয়ে গেছে কিন্তু আমরা এমন কোন গিরি পথ, উপত্যকা অতিক্রম করিনাই যে, তারা আমাদের সাথে ছিলনা তবে ওজর/ওজুহাত তাদেরকে আটকে রেখেছিল)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: রাসূল তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে যখন মদীনার কাছে পৌঁছলেন তখন বল্লেন: (নিশ্চয় মদীনায় অনেক সম্প্রদায় ছিল তোমরা এমন কোন পথ চল নাই এবং এমন কোন উপত্যকা অতিক্রম কর নাই যে, তারা তোমাদের সাথে ছিলনা) তাঁরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, তারা তো মদীনায় ছিল? অর্থাৎ মদীনায় থেকে তারা কিভাবে আমাদের সাথে থাকে? তিনি বললেন: (তারা মদীনায়, ওজর তাদেরকে আটকে রেখেছে)। (বুখারী) এই হাদীস প্রমাণ করে যে, যাকে শারয়ী ওজর বিরত রাখে অর্থাৎ শরয়ী ওজরের কারণে যে কোন আমল করতে ব্যর্থ হয় তার জন্য অনুরূপ প্রতিদান রয়েছে যতটা প্রতিদান রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি শরীয়ত সম্মত আমল করে। (ইবনে তাইমিয়ার বাছাইকৃত ফিকহী মাছয়ালা-১০২, মাজমু’ ফাতাওয়া লিবনে বায-১২/১৬৫)