hadith book logo

সালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩টি উপায়

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

পরিশিষ্ট

খুশুর বিষয়টা খুব স্পর্শকাতর। আল্লাহর তাওফিক ছাড়া কারো পক্ষেই পুঙ্খানুপুঙ্খ খুশু অর্জন করা সম্ভবপর নয়। আবার খুশু থেকে বঞ্চিত হওয়াও বড় দুর্ভাগ্য। এ জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,

«اللهم إني أعوذ بك من قلب لا يخشع» .

“হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে এমন অন্তর থেকে পানাহ চাই, যে ভীত হয় না (খুশু অর্জন করে না)।” [তিরমিযী, ৫/৪৮৫, হাদীস নং ৩৪৮২, সহীহ তিরমিযী, ২৭৬৯।]

সালাতে খুশু ও একাগ্রচিত্ত রক্ষা করা ও না-করার ভিত্ততে মুসল্লিরা কয়েক শ্রেণীতে ভাগ হয়। কারণ, খুশু অন্তরের আমল, কখনো বাড়ে কখনো কমে। কারো খুশু আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর কারো খুশু মাটি ভেদ করে আলোর মুখও দেখে না। কারণ, সে না বুঝে সালাত শুরু করেছে, না বুঝেই তা শেষ করেছে, ফলে যেমন ছিল সালাতের পূর্বে তেমনই আছে তার পরে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, “খুশুর তারতম্য হিসেবে মুসল্লিরা পাঁচ ভাগে ভাগ হয়:

১. নিজের নফসের উপর জুলম ও সীমালঙ্ঘনকারী। অর্থাৎ সালাতের ওযু, সময়, সুন্নত ও রুকন সব ক্ষেত্রেই ত্রুটিকারী মুসল্লি।

২. মুসল্লি সালাতের সময়, সুন্নত, বাহ্যিক রুকন ও ওযুর হক আদায় করে বটে, কিন্তু নফসকে আয়ত্তে এনে তার ওয়াসওয়াসা দূর করতে অবহেলা করে। এরূপ মুসল্লি নফসের দাস, চিন্তা ও ওয়াসওয়াসার গোলাম।

৩. মুসল্লি সালাতের সকল সুন্নত ও রুকন ঠিকঠাক আদায় করে, অন্তরের ওয়াসওয়াসা ও নফসের কু-মন্ত্রণা দূর করতেও চেষ্টা করে এবং পুরো সালাতেই পাহারাদারিতে লিপ্ত থাকে, যেন তার সামান্য সাওয়াবও শয়তান চুরি করতে না পারে। এরূপ মুসল্লি জিহাদ ও সালাতে লিপ্ত।

৪. মুসল্লি সালাতের সকল হক, রুকন ও সুন্নত আদায় করে, অন্তরকেও তার সুরক্ষা ও হক আদায়ে লিপ্ত রাখে, যেন সামান্য সাওয়াবও নষ্ট না হয়, যথাযথভাবে সালাত আদায় ও পূর্ণ করতে চেষ্টার সেরাটা ব্যয় করে। এরূপ মুসল্লি সালাতভর খুশু ও রবের ইবাদতে মগ্ন।

৫. মুসল্লি উল্লিখিত ব্যক্তির ন্যায় সালাতের সব রুকন ঠিকঠাক আদায় করে, অধিকন্তু সে নিজের অন্তরকে ধরে এনে রবের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখে, অন্তর দিয়ে রবকে দেখে ও দেখার চেষ্টা করে। তার অন্তর রবের মহব্বত ও বড়ত্বে পরিপূর্ণ, প্রায় সে যেন রবকে দেখছে ও প্রত্যক্ষ করছে, ফলে তার কুমন্ত্রণা ও চিন্তাগুলো দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং তার ও তার রবের মধ্যকার বাধাগুলো সরে যায়। এরূপ মুসল্লি ও অন্যান্য মুসল্লির সালাতের মাঝে আসমান ও জমিনের পার্থক্য। কেননা, সে সালাতভর রবকে নিয়ে ব্যস্ত এবং তাকে নিয়েই পরিতৃপ্ত ছিল।

১ম প্রকার মুসল্লি শাস্তিযোগ্য; ২য় প্রকার জেরার সম্মুখীন; ৩য় প্রকার পাপ থেকে মুক্ত; ৪র্থ প্রকার সাওয়াবের যোগ্য; ৫ম প্রকার আল্লাহর নৈকট্য-প্রাপ্ত। পঞ্চম প্রকার মুসল্লি তাদের একজন, যারা সালাতকে নিজের চোখের শীতলতা বানিয়েছে। বলাই বাহুল্য দুনিয়াতে যার চোখ সালাতের দ্বারা শীতল হবে আখিরাতে তার চোখ রবের নৈকট্য পেয়ে শীতল হবে, অধিকন্তু দুনিয়াতেও শীতল হবে। আর যার চোখ রবকে দর্শন করে শীতল হবে তাকে দেখে শীতল হবে সকল চোখ। পক্ষান্তরে যে চোখ রব দ্বারা শীতল হবে না, সে চোখ হতাশার আঘাতে খণ্ডবিখণ্ড হবে।” [ইবনুল কাইয়্যেম প্রণীত ‘আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব’: পৃ.৪০।] ইবনুল কাইয়্যেম থেকে আহৃত অংশ শেষ হলো।

সবশেষে আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি আমাদের খুশুওয়ালা বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের উপর রহমতের দৃষ্টি দান করুন। অতঃপর যারা বইটি প্রচারে অংশ নিবে ও পাঠ করবে তাদের সবাইকে তিনি উপকৃত করুন ও উত্তম বিনিময় দান করুন। আমীন। আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।

সমাপ্ত