hadith book logo

সালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩টি উপায়

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

একাগ্রতা অর্জনের উপায়গুলো দু’প্রকার

একাগ্রতা (খুশু) অর্জনের উপায়গুলোর উপর গবেষণা ও অনুসন্ধান শেষে জানা গেছে যে, সেগুলো দু’ভাগে বিভক্ত: করণীয় ও বর্জনীয়।

১. করণীয়, যেমন যেসব উপায় গ্রহণ করলে খুশু তৈরি ও শক্তিশালী হয় সেগুলো গ্রহণ করা।

২. বর্জনীয়, যেমন যেসব বাধা বা উপকরণ থাকলে খুশু বিনষ্ট ও দুর্বল হয় সেগুলো বর্জন করা।

শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়াহ রহ. খুশু উৎপাদনকারী উপায় ও উপকরণ প্রসঙ্গে বলেন, “দু’টি জিনিস খুশু উৎপাদন করতে সাহায্য করে, এক. খুশুর সহায়ক উপায়গুলো শক্তিশালী ও সক্রিয় করন, দুই. খুশুর বিপরীত উপকরণগুলো দুর্বল ও নিষ্ক্রিয়করণ।

প্রথমত, খুশু উৎপাদনকারী উপায়গুলোকে শক্তিশালী ও সক্রিয়করণ, যেমন মুসল্লি সালাতে যা করে ও বলে তা বুঝার চেষ্টা করবে; কিরাত, যিকির ও দো‘আর অর্থে চিন্তা করবে; এবং সে আল্লাহর সাথে কথা বলছে স্মরণ করবে। মূলত, মুসল্লি যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন সে আল্লাহর সাথেই কথা বলে। তার প্রমাণ, জিবরিলের হাদিসে ইহসানের ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك» .

‘তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর, ঠিক যেন তাকে দেখছ। যদি তাকে না দেখ, অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখছেন।’ [বুখারি ও মুসলিম]

ইহসানের সাথে সালাত আদায় করে যখন মুসল্লি তার প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করবে তখন সালাতের প্রতি তার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। বস্তুত, ঈমানের দৃঢ়তা অনুপাতে মুসল্লির ইহসান সৃষ্টি হয়, আর ইহসান অনুপাতে মুসল্লি তার স্বাদ আস্বাদন করে। শরীয়ত এ জন্যেই ঈমান দৃঢ় করার অনেক উপায় বলে দিয়েছে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,

« حبِّب إليَّ من دنياكم النساء والطيب ، وجعلت قرة عيني في الصلاة » .

‘তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার নিকট প্রিয় করা হয়েছে: নারী ও সুগন্ধি; আর আমার চোখের প্রশান্তি করা হয়েছে সালাতে।’ [নাসাঈ, হাদীসটি সহি] অপর হাদিসে তিনি বলেন,

«أرحنا بالصلاة يا بلال» .

‘হে বেলাল, সালাতের দ্বারা আমাদের প্রশান্তি দাও।’ [আবু দাউদ ও আহমদ।] লক্ষ্য করুন, তিনি «أرحنا منها» বলেন নি, যার অর্থ সালাত থেকে স্বস্তি দাও।

দ্বিতীয়ত, খুশুর বাধা ও তার পরিপন্থী বস্তুগুলো দূর করা বা নিষ্ক্রিয় করা, অর্থাৎ যেসব বস্তু অন্তরকে মগ্ন করে ও সালাতের উদ্দেশ্য থেকে বিরত রাখে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা বা সরিয়ে ফেলা, যেমন বাজে জিনিসের চিন্তা ও হৃদয় আকৃষ্টকারী বস্তুর জল্পনা-কল্পনা। কারণ, ব্যক্তি অনুসারে কম-বেশী সবার ভেতর খুশুর বাধা রয়েছে, যেমন যার ভেতর সন্দেহ ও প্রবৃত্তি বেশি তার ভেতর ওয়াসওয়াসা বেশী। স্বভাবত, অন্তরে যে পরিমাণ প্রিয় বস্তুর টান ও অপ্রিয় বস্তুর অনীহা থাকবে সে পরিমাণ তাতে ওয়াসওয়াসার উদ্রেক হবে।” [ইবন তাইমিয়ার ফাতওয়া সংকলন ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’: ২২/৬০৬-৬০৭।] সংগৃহীত অংশ শেষ হলো।

উপরের আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট হলো যে, খুশু ও একাগ্রতার সহায়ক উপায়গুলো দু’প্রকার: করণীয় ও বর্জনীয় কিংবা উৎপাদনকারী ও বিনষ্টকারী। নিম্নে এ সম্পর্কে কুরআন, হাদীস ও সালাফদের আদর্শ অনুসারে সামান্য আলোচনা পেশ করছি।