hadith book logo

সালাতের শেষ বৈঠকে বসার পদ্ধতি

লেখকঃ কামাল আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-এর হাদীস থেকে দলিল গ্রহণের পর্যালোচনা

ভুল ধারণা-১২: অনুরূপ ইবনু উমারের হাদীসটিও ওয়াইল বিন হুজর ও আয়েশা (রা)-এর হাদীসগুলোকে সমর্থন করে। [শায়েখ আলবানীর ‘তামামুল মিন্নাহ’ পৃ. ৩২২]

সংশোধন-১২: অথচ আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমার- তিনি তাঁর পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা.) থেকে বর্ণনা করেন:

مِنْ سُنَّةِ الصَّلَاةِ أَنْ تَنْصِبَ الْقَدَمَ الْيُمْنَى، وَاسْتِقْبَالُهُ بِأَصَابِعِهَا الْقِبْلَةَ وَالْجُلُوسُ عَلَى الْيُسْرَى

“সালাতের নিয়মের মধ্যে এটাও যে, তুমি তোমার বাম পা বিছিয়ে রাখবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে এবং তার আঙুলগুলো ক্বিবলামুখী রাখবে। আর বাম পাকে বিছিয়ে দেবে।” [নাসাঈ হা/১১৫৮ (ইফা হা/১১৬০, উর্দু তাহক্বীক্ব নাসাঈ হা/১১৫৯)]

লক্ষণীয়:

ক) হাদীসটিতে বলা নেই কোন্ বৈঠকে বসতে হবে। হাদীসটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তাতে দুই সাজদার মাঝের বৈঠকও এর অন্তর্ভুক্ত।

খ) বাম পা বিছানোর কথা বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তার উপর বসার কথা বর্ণিত হয়নি। ফলে এই হাদীসটিও ‘তাওয়ার্রুক’ পদ্ধতির বিরোধী হয় না। কেননা এ পদ্ধতিটিতেও বাম পা-টি এগিয়ে দিয়ে বিছাতে হয় এবং বাম নিতম্ব দ্বারা জমিনের উপর বসতে হয়।

গ) ‘মুয়াত্তা মালিকে’র বর্ণনানুযায়ী, উক্ত বসাটা ছিল তাশাহহুদে এবং তাতে ইবনু উমার নিতম্বের উপর বসা শিক্ষা দিয়েছেন। বর্ণনাটি নিম্নরূপ:

أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ أَرَاهُمُ الْجُلُوسَ فِي التَّشَهُّدِ . فَنَصَبَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى، وَثَنَّى رِجْلَهُ الْيُسْرَى، وَجَلَسَ عَلَى وَرِكِهِ الْأَيْسَرِ، وَلَمْ يَجْلِسْ عَلَى قَدَمِهِ . ثُمَّ قَالَ : أَرَانِي هذَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، وَحَدَّثَنِي أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يَفْعَلُ ذلِكَ .

“ক্বাসিম বিন মুহাম্মাদ (রহ) আমাদেরকে তাশাহহুদ পড়ার সময় বসার নিয়ম শেখালেন। তিনি ডান পা খাড়া রাখলেন এবং বাম পা বিছিয়ে দিলেন। পায়ের উপর না বসে বাম নিতম্বের উপর বসলেন। অতঃপর বললেন: আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমার আমাকে এইভাবে বসার পদ্ধতি শিখিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন তাঁর পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা.) এরূপ করতেন।” [মুয়াত্তা মালিক (শামেলা) হা/২৯৮ (ইফা- ফেব্রুয়ারী ২০০২, ১ম খণ্ড পৃ. ১৪৩, রেওয়ায়াত-৫২); সুনানে আবূ দাউদে বর্ণনাটির কেবল সনদ উল্লিখিত হয়েছে। শায়েখ আলবানী ও শায়েখ যুবায়ের আলী যাঈ সনদটিকে সহীহ বলেছেন। (স্ব স্ব তাহক্বীক্ব আবূ দাউদ হা/৯৬১]

অর্থাৎ ইবনু উমার (রা)-এর সাথে সম্পর্কিত নাসাঈ বর্ণিত হাদীসটির দাবিও তাশাহহুদসম্পর্কিত এবং সেটা ছিল তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে বসা।