১
সালাতের শেষ বৈঠকে বসার পদ্ধতি
লেখকঃ কামাল আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
মূল হাদীস
১) দ্বিতীয় রাকআতে বাম পায়ের উপর (ইফতিরাশ পদ্ধতিতে) বসা এবং শেষ রাকআতে বাম নিতম্বের উপর (তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে) বসা:
সাহাবী আবূ হুমায়দ সাঈদি (রা) বর্ণনা করেন:
فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ
“যখন দ্বিতীয় রাকআতে বসতেন তখন বাম পা-এর উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন। আর যখন শেষ রাকআতে বসতেন তখন বাম পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন।” [সহীহ বুখারী হা/৮২৮]
অপর হাদীসে ‘শেষ রাকআত’ বাক্যের পরিবর্তে ‘চতুর্থ রাকআত’ বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে। বর্ণনাটি নিম্নরূপ:
فَإِذَا كَانَ فِى الرَّابِعَةِ أَفْضَى بِوَرِكِهِ الْيُسْرَى إِلَى الأَرْضِ وَأَخْرَجَ قَدَمَيْهِ مِنْ نَاحِيَةٍ وَاحِدَةٍ
“তারপর চতুর্থ রাকআতে বসার সময় নিজের দুই পা ডান দিকে বের করে বাম নিতম্বের উপর ভর করে বসতেন।” [আবূ দাউদ হা/৭৩১]
এখানে ‘একটি হাদীস অপরটির ব্যাখ্যা’ নীতিমালার আলোকে ‘চতুর্থ রাকআত’ বলতে ‘শেষ রাকআতকে’ বুঝানো হয়েছে।
প্রথম হাদীস থেকে এটা সুস্পষ্ট হয়, ডান পা খাড়া রাখতে হবে। আর দ্বিতীয় হাদীস থেকে বুঝা যায়, ডান পাকেও বাম পায়ের মতো বের করে দিয়ে বিছাতে হবে। অর্থাৎ বাম নিতম্বের উপর বসাটাই ‘তাওয়ার্রুকের’ মৌলিক দাবি।
হাফেয ইবনু হাজার (রহ) লিখেছেন:
وَاسْتَدَلَّ بِهِ الشَّافِعِيّ أَيْضًا عَلَى أَنَّ تَشَهُّد الصُّبْح كَالتَّشَهُّدِ الْأَخِير مِنْ غَيْره ؛ لِعُمُومِ قَوْلُهُ : ( فِي الرَّكْعَة الْأَخِيرَة (
“(পূর্বের) হাদীস থেকে ইমাম শাফেঈ (রহ) দলিল নিয়েছেন যে, ফজরের সালাতের তাশাহহুদ অন্যান্য সালাতের শেষ তাশাহহুদের মতো হবে। কেননা সাহাবী (রা)-এর ‘আম (ব্যাপক) অর্থে ব্যবহৃত উক্তি হল: ‘শেষ রাকআতে।’ [ফতহুল বারী ২/৩০৯ (অন্য সংস্করণ ২/৪৪০পৃ., হা/৮২৮-এর ব্যাখ্যা]
ইমাম নাওয়াবি (বাংলাতে প্রসিদ্ধ: ইমাম নববী) (রহ) লিখেছেন:
مَذْهَبُنَا أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْلِسَ فِي التَّشَهُّدِ الْأَوَّلِ مُفْتَرِشًا وَفِي الثَّانِي مُتَوَرِّكًا , فَإِنْ كَانَتْ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ جَلَسَ مُتَوَرِّكًا
“আমাদের মাযহাব হল, প্রথম তাশাহহুদের ইফতিরাশ করা মুস্তাহাব এর দ্বিতীয়টিতে তাওয়ার্রুক করতে হবে। তবে যদি দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাত হয়, তা হলে তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে বসতে হবে।” [আল-মাজমু‘ ৩/৪৩১ পৃ.]
২) দুই রাকআত (তথা দ্বিবচন ব্যবহৃত) সালাতের হাদীসে তাওয়ার্রুক:
সাহাবী আবূ হুমায়দ সাঈদি (রা) বর্ণনা করেন:
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا كَانَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَنْقَضِي فِيهِمَا الصَّلَاةُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَى شِقِّهِ مُتَوَرِّكًا ثُمَّ سَلَّمَ
“নবী (স) যখন দুই রাকআতে ছিলেন, যে দুইটিতে তিনি তাঁর দুটি (রাকআত) সালাত শেষ করতেন- (তাতে) তাঁর বাম পা বের করে দিতেন এবং নিতম্বের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন, অতঃপর সালাম দিতেন।” [নাসাঈ- কিতাবুস সালাত (অনুচ্ছেদ: যে রাকআতে সালাত শেষ হবে তাতে কীভাবে বসতে হবে) হা/১২৬৫ (ইফা)। শায়েখ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাহক্বীক্ব নাসাঈ হা/১২৬২)]
শাব্দিক তরজমা : (আরবি ডান থেকে বামে পড়তে হবে)
كَانَ = হওয়া/ থাকা/ ছিল ، النَّبِيُّ =নবী ، إِذَا =যখন ، كَانَ = হওয়া/ থাকা/ ছিল ، الرَّكْعَتَيْنِ =দুই রাকআত ، اللَّتَيْنِ = যে দুটিতে ، تَنْقَضِي = তিনি শেষ করতেন ، فِيهِمَا তাঁর দুটি ، الصَّلَاةُ = সালাত ، أَخَّرَ = পিছিয়ে দিতেন ، رِجْلَهُ = তাঁর পা ، الْيُسْرَى = বাম ، وَقَعَدَ = আর বসতেন ، عَلَى = উপর ، شِقِّهِ = তাঁর নিতম্ব ، مُتَوَرِّكًا =ভাবে তাওয়ার্রুক ، ثُمَّ = অতঃপর ، سَلَّمَ = তিনি সালাম দিতেন،
উপরের হাদীসটিতে সুনির্দিষ্টভাবে দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাত শেষ করার সময় তাওয়ার্রুক করার কথা খাস বা সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। উক্ত সাহাবীর চার রাকআত-বিশিষ্ট অন্য বর্ণনাতে শেষ রাকআত বা শেষ সাজদাহ’র পরবর্তী তাশাহহুদের বৈঠকের পদ্ধতিতেও তাওয়ার্রুক করার কথাই বর্ণিত হয়েছে, যা শেষ তাশাহহুদের বৈঠকের সাথে খাস করে। দুই বা চার রাক‘আতের জন্য নির্দিষ্ট করে না। অর্থাৎ এক ও তিন রাকআত বিশিষ্ট সালাতের ক্ষেত্রেও তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে বসার অনুমতি পাওয়া যায়। এ মর্মে কয়েকটি বর্ণনা নিম্নরূপ:
৩) যে রাকআতটি দ্বারা সালাত শেষ হবে, তাতে তাওয়ার্রুক করা:
সাহাবী আবূ হুমায়দ সাঈদি (রা) বর্ণনা করেন:
حَتَّى كَانَتِ الرَّكْعَةُ الَّتِي تَنْقَضِي فِيهَا صَلاَتُهُ أَخَّرَ رِجْلَهُ اليُسْرَى وَقَعَدَ عَلَى شِقِّهِ مُتَوَرِّكًا، ثُمَّ سَلَّمَ
“এমনকি যে রাকআতটি দ্বারা তাঁর সালাত শেষ হতো তাতে বাম পা-টি বের করে নিতম্বের উপর তাওয়ার্রুক করতেন, অতঃপর সালাম ফিরাতেন।” [তিরমিযী হা/৩০৪, মিশকাত হা/৮০১- সহীহ (যুবায়ের আলী যাঈ)]
৪) যে শেষ সাজদার পর সালাম ফিরাতে হবে তাতে তাওয়ার্রুক করা :
حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ
“এমনকি যখন (শেষ) সাজদা করতেন যাতে (যে তাশাহহুদে) তিনি সালাম দিতেন তাতে বাম পা-টি বের করে তাওয়ার্রুক করে বাম নিতম্বের উপর বসতেন।” [আবূ দাউদ হা/৭৩০, মিশকাত হা/৮০১ – সহীহ (যুবায়ের আলী যাঈ)]
৫) শেষ সাজদার পর তাওয়ার্রুক করা :
حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي تَكُونُ خَاتِمَةَ الصَّلَاةِ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْهُمَا وَأَخَّرَ رِجْلَهُ وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا
“এমনকি যখন (শেষ) সাজদা করতেন যা দ্বারা সালাত শেষ হতো- সাজদা থেকে তাঁর (স) মাথা উঠাতেন, তখন তার পা বের করে দিতেন এবং তাওয়ার্রুক করে বসতেন।” [সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১৮৭০]
উপরের হাদীসগুলো শেষ রাকআত, শেষ তাশাহহুদে এবং শেষ সাজদার পরে তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে বসার অনুমতি দেয়। বাক্যগুলো চার বা দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাতের জন্য এ পদ্ধতিটিকে সুনির্দিষ্ট করে না। বরং যে বৈঠকে সালাত শেষ হবে বা সালাম রয়েছে তাতেই তাওয়ার্রুকের পদ্ধতিটি উন্মুক্তভাবে প্রয়োগযোগ্য হয়। এমনকি সাহু সাজদা থাকলেও তাওয়ার্রুক পদ্ধতিটি প্রযোজ্য।
সাহাবী আবূ হুমায়দ সাঈদি (রা) বর্ণনা করেন:
فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ
“যখন দ্বিতীয় রাকআতে বসতেন তখন বাম পা-এর উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন। আর যখন শেষ রাকআতে বসতেন তখন বাম পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন।” [সহীহ বুখারী হা/৮২৮]
অপর হাদীসে ‘শেষ রাকআত’ বাক্যের পরিবর্তে ‘চতুর্থ রাকআত’ বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে। বর্ণনাটি নিম্নরূপ:
فَإِذَا كَانَ فِى الرَّابِعَةِ أَفْضَى بِوَرِكِهِ الْيُسْرَى إِلَى الأَرْضِ وَأَخْرَجَ قَدَمَيْهِ مِنْ نَاحِيَةٍ وَاحِدَةٍ
“তারপর চতুর্থ রাকআতে বসার সময় নিজের দুই পা ডান দিকে বের করে বাম নিতম্বের উপর ভর করে বসতেন।” [আবূ দাউদ হা/৭৩১]
এখানে ‘একটি হাদীস অপরটির ব্যাখ্যা’ নীতিমালার আলোকে ‘চতুর্থ রাকআত’ বলতে ‘শেষ রাকআতকে’ বুঝানো হয়েছে।
প্রথম হাদীস থেকে এটা সুস্পষ্ট হয়, ডান পা খাড়া রাখতে হবে। আর দ্বিতীয় হাদীস থেকে বুঝা যায়, ডান পাকেও বাম পায়ের মতো বের করে দিয়ে বিছাতে হবে। অর্থাৎ বাম নিতম্বের উপর বসাটাই ‘তাওয়ার্রুকের’ মৌলিক দাবি।
হাফেয ইবনু হাজার (রহ) লিখেছেন:
وَاسْتَدَلَّ بِهِ الشَّافِعِيّ أَيْضًا عَلَى أَنَّ تَشَهُّد الصُّبْح كَالتَّشَهُّدِ الْأَخِير مِنْ غَيْره ؛ لِعُمُومِ قَوْلُهُ : ( فِي الرَّكْعَة الْأَخِيرَة (
“(পূর্বের) হাদীস থেকে ইমাম শাফেঈ (রহ) দলিল নিয়েছেন যে, ফজরের সালাতের তাশাহহুদ অন্যান্য সালাতের শেষ তাশাহহুদের মতো হবে। কেননা সাহাবী (রা)-এর ‘আম (ব্যাপক) অর্থে ব্যবহৃত উক্তি হল: ‘শেষ রাকআতে।’ [ফতহুল বারী ২/৩০৯ (অন্য সংস্করণ ২/৪৪০পৃ., হা/৮২৮-এর ব্যাখ্যা]
ইমাম নাওয়াবি (বাংলাতে প্রসিদ্ধ: ইমাম নববী) (রহ) লিখেছেন:
مَذْهَبُنَا أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْلِسَ فِي التَّشَهُّدِ الْأَوَّلِ مُفْتَرِشًا وَفِي الثَّانِي مُتَوَرِّكًا , فَإِنْ كَانَتْ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ جَلَسَ مُتَوَرِّكًا
“আমাদের মাযহাব হল, প্রথম তাশাহহুদের ইফতিরাশ করা মুস্তাহাব এর দ্বিতীয়টিতে তাওয়ার্রুক করতে হবে। তবে যদি দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাত হয়, তা হলে তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে বসতে হবে।” [আল-মাজমু‘ ৩/৪৩১ পৃ.]
২) দুই রাকআত (তথা দ্বিবচন ব্যবহৃত) সালাতের হাদীসে তাওয়ার্রুক:
সাহাবী আবূ হুমায়দ সাঈদি (রা) বর্ণনা করেন:
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا كَانَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَنْقَضِي فِيهِمَا الصَّلَاةُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَى شِقِّهِ مُتَوَرِّكًا ثُمَّ سَلَّمَ
“নবী (স) যখন দুই রাকআতে ছিলেন, যে দুইটিতে তিনি তাঁর দুটি (রাকআত) সালাত শেষ করতেন- (তাতে) তাঁর বাম পা বের করে দিতেন এবং নিতম্বের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন, অতঃপর সালাম দিতেন।” [নাসাঈ- কিতাবুস সালাত (অনুচ্ছেদ: যে রাকআতে সালাত শেষ হবে তাতে কীভাবে বসতে হবে) হা/১২৬৫ (ইফা)। শায়েখ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাহক্বীক্ব নাসাঈ হা/১২৬২)]
শাব্দিক তরজমা : (আরবি ডান থেকে বামে পড়তে হবে)
كَانَ = হওয়া/ থাকা/ ছিল ، النَّبِيُّ =নবী ، إِذَا =যখন ، كَانَ = হওয়া/ থাকা/ ছিল ، الرَّكْعَتَيْنِ =দুই রাকআত ، اللَّتَيْنِ = যে দুটিতে ، تَنْقَضِي = তিনি শেষ করতেন ، فِيهِمَا তাঁর দুটি ، الصَّلَاةُ = সালাত ، أَخَّرَ = পিছিয়ে দিতেন ، رِجْلَهُ = তাঁর পা ، الْيُسْرَى = বাম ، وَقَعَدَ = আর বসতেন ، عَلَى = উপর ، شِقِّهِ = তাঁর নিতম্ব ، مُتَوَرِّكًا =ভাবে তাওয়ার্রুক ، ثُمَّ = অতঃপর ، سَلَّمَ = তিনি সালাম দিতেন،
উপরের হাদীসটিতে সুনির্দিষ্টভাবে দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাত শেষ করার সময় তাওয়ার্রুক করার কথা খাস বা সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। উক্ত সাহাবীর চার রাকআত-বিশিষ্ট অন্য বর্ণনাতে শেষ রাকআত বা শেষ সাজদাহ’র পরবর্তী তাশাহহুদের বৈঠকের পদ্ধতিতেও তাওয়ার্রুক করার কথাই বর্ণিত হয়েছে, যা শেষ তাশাহহুদের বৈঠকের সাথে খাস করে। দুই বা চার রাক‘আতের জন্য নির্দিষ্ট করে না। অর্থাৎ এক ও তিন রাকআত বিশিষ্ট সালাতের ক্ষেত্রেও তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে বসার অনুমতি পাওয়া যায়। এ মর্মে কয়েকটি বর্ণনা নিম্নরূপ:
৩) যে রাকআতটি দ্বারা সালাত শেষ হবে, তাতে তাওয়ার্রুক করা:
সাহাবী আবূ হুমায়দ সাঈদি (রা) বর্ণনা করেন:
حَتَّى كَانَتِ الرَّكْعَةُ الَّتِي تَنْقَضِي فِيهَا صَلاَتُهُ أَخَّرَ رِجْلَهُ اليُسْرَى وَقَعَدَ عَلَى شِقِّهِ مُتَوَرِّكًا، ثُمَّ سَلَّمَ
“এমনকি যে রাকআতটি দ্বারা তাঁর সালাত শেষ হতো তাতে বাম পা-টি বের করে নিতম্বের উপর তাওয়ার্রুক করতেন, অতঃপর সালাম ফিরাতেন।” [তিরমিযী হা/৩০৪, মিশকাত হা/৮০১- সহীহ (যুবায়ের আলী যাঈ)]
৪) যে শেষ সাজদার পর সালাম ফিরাতে হবে তাতে তাওয়ার্রুক করা :
حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ
“এমনকি যখন (শেষ) সাজদা করতেন যাতে (যে তাশাহহুদে) তিনি সালাম দিতেন তাতে বাম পা-টি বের করে তাওয়ার্রুক করে বাম নিতম্বের উপর বসতেন।” [আবূ দাউদ হা/৭৩০, মিশকাত হা/৮০১ – সহীহ (যুবায়ের আলী যাঈ)]
৫) শেষ সাজদার পর তাওয়ার্রুক করা :
حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي تَكُونُ خَاتِمَةَ الصَّلَاةِ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْهُمَا وَأَخَّرَ رِجْلَهُ وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا
“এমনকি যখন (শেষ) সাজদা করতেন যা দ্বারা সালাত শেষ হতো- সাজদা থেকে তাঁর (স) মাথা উঠাতেন, তখন তার পা বের করে দিতেন এবং তাওয়ার্রুক করে বসতেন।” [সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১৮৭০]
উপরের হাদীসগুলো শেষ রাকআত, শেষ তাশাহহুদে এবং শেষ সাজদার পরে তাওয়ার্রুক পদ্ধতিতে বসার অনুমতি দেয়। বাক্যগুলো চার বা দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাতের জন্য এ পদ্ধতিটিকে সুনির্দিষ্ট করে না। বরং যে বৈঠকে সালাত শেষ হবে বা সালাম রয়েছে তাতেই তাওয়ার্রুকের পদ্ধতিটি উন্মুক্তভাবে প্রয়োগযোগ্য হয়। এমনকি সাহু সাজদা থাকলেও তাওয়ার্রুক পদ্ধতিটি প্রযোজ্য।