১
সালাতের শেষ বৈঠকে বসার পদ্ধতি
লেখকঃ কামাল আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
ভূমিকা
আল্-হামদু লিল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রববুল আলামীনের জন্য। সালাত ও সালাম নাযিল হোক নবী মুহাম্মাদ (স), তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের (রা) উপর।
এই পুস্তিকাটির মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে একটি মাসআলা নিয়ে মতপার্থক্য নিরসনের চেষ্টা করা হয়েছে। মাসআলাটি হল, সালাতের শেষ বৈঠকে বসার পদ্ধতি। এক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ চার ইমামের থেকে চারটি মত রয়েছে বলে উপস্থাপন করা হয়। একই মাসআলাতে চার জন ইমামের চারটি মত হওয়াটা খুবই বিরল।
আমরা সাধ্যমত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। সহযোগিতা নিয়েছে বিভিন্ন আরবি ও উর্দু লেখকের ফাতওয়া ও গবেষণা থেকে। চেষ্টা করেছি প্রতিষ্ঠিত বিরোধকে সহীহ হাদীসের আলোকে সমাধানের। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ۚ وَأُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
“আর তাদের মতো হয়ো না, যারা ফিরক্বা সৃষ্টি করেছে এবং ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) করেছে তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পরও। তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।” [সূরা আলে-ইমরান : ১০৫ আয়াত]
অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্যে ইখতিলাফ হওয়া, ফিরক্বা সৃষ্টি হওয়া এবং আল্লাহর নাযিলকৃত স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও সমাধানের দিকে না আসাটা নিশ্চিতভাবে দুনিয়াতে আযাব ও আখিরাতে জাহান্নামী হওয়া কারণ। তেমনি নবী (স) বলেছেন:
لاَ تَخْتَلِفُوْا فَاِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ اخْتَلَفُوْا فَهَلَكُوْا
‘‘ইখতিলাফ করো না। কেননা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ইখতিলাফ করত। এ কারণে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে।’’ [সহীহ বুখারী হা/ ২৪১০]
অন্যত্র নবী (স) বলেছেন :
اِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِاِخْتِلاَفِهِمْ فِي الْكِتَابِ
‘‘তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা (আল্লাহর) কিতাবে ইখতিলাফ করেছিল। এ কারণে তারা ধ্বংস হয়েছিল।’’ [সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ইলম; মিশকাত (তাহক্বীক্ব হা/৯৮ (এমদাদিয়া ২/১৪৩ নং)]
এমনকি নবী (আ)-গণ আসার অন্যতম কারণ ছিল এটাই যে, তারা মানুষের মধ্যকার ইখতিলাফগুলো আল্লাহর নাযিলকৃত ওহীর আলোকে সমাধান করবেন। [সূরা বাক্বারা : ২১৩ আয়াত দ্র:]
নবীগণের পরে যোগ্য আলেমরা উম্মাতের মধ্যকার ইখতিলাফগুলো নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেননা নবী (স) বলেছেন: إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ “আলেমরাই হলেন নবীদের ওয়ারিস।” [আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, দারেমি, মিশকাত (তাহক্বীক্ব) হা/২১২। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (তাহ. আরবি মিশকাত ১/৪৬ পৃ.); কিন্তু শায়েখ যুবায়ের আলী যাই হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর তিনি হাদীসটির দাবি বিভিন্ন সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেছেন। দ্র: : আযওয়াউল মাসাবিহ ফি তাহক্বীক্বে মিশকাতুল মাসাবিহ (পাকিস্তান : মাকতাবাহ ইসলামিয়্যাহ) ১/৩৭৬-২৭৯ পৃ. হা/২১২-এর ব্যাখ্যা]
فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ .
“আলেমের ফযিলত আবিদের (সাধারণ বান্দার) উপর এমন, যেমন আমার ফযিলত তোমাদের সবচেয়ে নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির উপর।” [তিরমিযী, মিশকাত (তাহক্বীক্ব) হা/২১৩)। শায়েখ আলবানী ও শায়েখ যুবায়ের আলী যাঈ তাঁদের স্ব স্ব তাহক্বীক্ব মিশকাতে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন]
পক্ষান্তরে আলেম হওয়া সত্ত্বেও যারা ইখতিলাফকে জিইয়ে রাখেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন ফিরক্বা, মাযহাব ও তরিক্বা প্রতিষ্ঠিত রাখেন, তারা উপরে উল্লেখিত হাদীসের ফযিলত থেকে বঞ্চিত। সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত ইখতিলাফহীন রহমত থেকেও বঞ্চিত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً ۖ وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ ﭜ إِلَّا مَن رَّحِمَ رَبُّكَ ۚ وَلِذَٰلِكَ خَلَقَهُمْ ۗ …
“তোমার রব যদি ইচ্ছা করতেন, তবে মানুষজাতিকে একটি উম্মাতে পরিণত করতেন, আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না। তবে তোমার রব যাদের প্রতি রহম করেন তারা ব্যতীত (অন্যরা ইখতিলাফ করতেই থাকবে) এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। …” [সূরা হুদ : ১১৮-১৯ আয়াত]
এই পুস্তিকার মাধ্যমে উক্ত আয়াত ও হাদীসগুলো বাস্তবায়নে আলেমদের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন বিষয়ের সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সেই উদ্দেশ্য মুসলিম জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।
সম্মানিত পাঠকের কাছে অনুরোধ এই বইটি পাঠের সময় উক্ত আয়াত ও হাদীসগুলোর দাবি স্মরণে রাখবেন। তা ছাড়া ইখতিলাফ ও ফিরক্বাহীন ইসলামি জীবন-যাপনের জন্য কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসরণের সাথে এর সমর্থনে প্রকাশিত পুস্তক-পুস্তিকা থেকে জ্ঞান অর্জন ও আক্বীদা নবায়ন একান্ত জরুরি।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইখতিলাফ ও ফিরক্বামুক্ত হয়ে দ্বীন ইসলামকে আঁকড়ে থাকার তাওফিক্ব দান করুন। আমীন!!
কামাল আহমাদ,
পুরাতন কসবা, কাজীপাড়া, যশোর-৭৪০০।
ই-মেইল : [email protected]
এই পুস্তিকাটির মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে একটি মাসআলা নিয়ে মতপার্থক্য নিরসনের চেষ্টা করা হয়েছে। মাসআলাটি হল, সালাতের শেষ বৈঠকে বসার পদ্ধতি। এক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ চার ইমামের থেকে চারটি মত রয়েছে বলে উপস্থাপন করা হয়। একই মাসআলাতে চার জন ইমামের চারটি মত হওয়াটা খুবই বিরল।
আমরা সাধ্যমত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। সহযোগিতা নিয়েছে বিভিন্ন আরবি ও উর্দু লেখকের ফাতওয়া ও গবেষণা থেকে। চেষ্টা করেছি প্রতিষ্ঠিত বিরোধকে সহীহ হাদীসের আলোকে সমাধানের। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ۚ وَأُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
“আর তাদের মতো হয়ো না, যারা ফিরক্বা সৃষ্টি করেছে এবং ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) করেছে তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পরও। তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।” [সূরা আলে-ইমরান : ১০৫ আয়াত]
অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্যে ইখতিলাফ হওয়া, ফিরক্বা সৃষ্টি হওয়া এবং আল্লাহর নাযিলকৃত স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও সমাধানের দিকে না আসাটা নিশ্চিতভাবে দুনিয়াতে আযাব ও আখিরাতে জাহান্নামী হওয়া কারণ। তেমনি নবী (স) বলেছেন:
لاَ تَخْتَلِفُوْا فَاِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ اخْتَلَفُوْا فَهَلَكُوْا
‘‘ইখতিলাফ করো না। কেননা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ইখতিলাফ করত। এ কারণে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে।’’ [সহীহ বুখারী হা/ ২৪১০]
অন্যত্র নবী (স) বলেছেন :
اِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِاِخْتِلاَفِهِمْ فِي الْكِتَابِ
‘‘তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা (আল্লাহর) কিতাবে ইখতিলাফ করেছিল। এ কারণে তারা ধ্বংস হয়েছিল।’’ [সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ইলম; মিশকাত (তাহক্বীক্ব হা/৯৮ (এমদাদিয়া ২/১৪৩ নং)]
এমনকি নবী (আ)-গণ আসার অন্যতম কারণ ছিল এটাই যে, তারা মানুষের মধ্যকার ইখতিলাফগুলো আল্লাহর নাযিলকৃত ওহীর আলোকে সমাধান করবেন। [সূরা বাক্বারা : ২১৩ আয়াত দ্র:]
নবীগণের পরে যোগ্য আলেমরা উম্মাতের মধ্যকার ইখতিলাফগুলো নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেননা নবী (স) বলেছেন: إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ “আলেমরাই হলেন নবীদের ওয়ারিস।” [আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, দারেমি, মিশকাত (তাহক্বীক্ব) হা/২১২। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (তাহ. আরবি মিশকাত ১/৪৬ পৃ.); কিন্তু শায়েখ যুবায়ের আলী যাই হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর তিনি হাদীসটির দাবি বিভিন্ন সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেছেন। দ্র: : আযওয়াউল মাসাবিহ ফি তাহক্বীক্বে মিশকাতুল মাসাবিহ (পাকিস্তান : মাকতাবাহ ইসলামিয়্যাহ) ১/৩৭৬-২৭৯ পৃ. হা/২১২-এর ব্যাখ্যা]
فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ .
“আলেমের ফযিলত আবিদের (সাধারণ বান্দার) উপর এমন, যেমন আমার ফযিলত তোমাদের সবচেয়ে নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির উপর।” [তিরমিযী, মিশকাত (তাহক্বীক্ব) হা/২১৩)। শায়েখ আলবানী ও শায়েখ যুবায়ের আলী যাঈ তাঁদের স্ব স্ব তাহক্বীক্ব মিশকাতে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন]
পক্ষান্তরে আলেম হওয়া সত্ত্বেও যারা ইখতিলাফকে জিইয়ে রাখেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন ফিরক্বা, মাযহাব ও তরিক্বা প্রতিষ্ঠিত রাখেন, তারা উপরে উল্লেখিত হাদীসের ফযিলত থেকে বঞ্চিত। সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত ইখতিলাফহীন রহমত থেকেও বঞ্চিত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً ۖ وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ ﭜ إِلَّا مَن رَّحِمَ رَبُّكَ ۚ وَلِذَٰلِكَ خَلَقَهُمْ ۗ …
“তোমার রব যদি ইচ্ছা করতেন, তবে মানুষজাতিকে একটি উম্মাতে পরিণত করতেন, আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না। তবে তোমার রব যাদের প্রতি রহম করেন তারা ব্যতীত (অন্যরা ইখতিলাফ করতেই থাকবে) এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। …” [সূরা হুদ : ১১৮-১৯ আয়াত]
এই পুস্তিকার মাধ্যমে উক্ত আয়াত ও হাদীসগুলো বাস্তবায়নে আলেমদের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন বিষয়ের সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সেই উদ্দেশ্য মুসলিম জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।
সম্মানিত পাঠকের কাছে অনুরোধ এই বইটি পাঠের সময় উক্ত আয়াত ও হাদীসগুলোর দাবি স্মরণে রাখবেন। তা ছাড়া ইখতিলাফ ও ফিরক্বাহীন ইসলামি জীবন-যাপনের জন্য কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসরণের সাথে এর সমর্থনে প্রকাশিত পুস্তক-পুস্তিকা থেকে জ্ঞান অর্জন ও আক্বীদা নবায়ন একান্ত জরুরি।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইখতিলাফ ও ফিরক্বামুক্ত হয়ে দ্বীন ইসলামকে আঁকড়ে থাকার তাওফিক্ব দান করুন। আমীন!!
কামাল আহমাদ,
পুরাতন কসবা, কাজীপাড়া, যশোর-৭৪০০।
ই-মেইল : [email protected]