hadith book logo

মিলাদ মাহফিল

লেখকঃ মুহাম্মাদ হারুন হুসাইন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

রবিউল আউয়াল মাস কেন আলোচিত?

হিজরী সনের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। এ মাসটি সারা মুসলিম জাহানে বিশেষভাবে আলোচিত। কেননা, এ মাসেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ। তার জন্ম সারা বিশ্বের জন্য মহান আল্লাহর এক বিশেষ রহমত। দুনিয়া ও আখেরাতে সকল প্রকার কল্যাণের বার্তা নিয়ে তিনি এ ধরাধামে আবির্ভুত হন। তার আগমন অতি আনন্দের বিষয়। সুস্থ বিবেকবান মাত্রই তার আগমন দিয়ে উল্লাসিত হবেন- তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কেবলমাত্র বিবেকান্ধ ও অসুস্থ আত্মার অধিকারীরাই তাঁর নাম শুনলে ভ্রকুঞ্চিত হবে এটাই স্বাভাবিক।

তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে বিতর্ক আছে। মুসলিম জনপদের অধিকাংশের নিকট একথা প্রসিদ্ধ যে, ৫৭০ খ্রিঃ সোমবার সুবহে সাদিকের শুভক্ষণে রাসুল ﷺ Gi জন্ম। জন্মের দিন সোমবার- এ ব্যাপারে অধিকাংশের ঐক্যমত রয়েছে। তবে তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। সীরাতে ইবনে হিশামের বর্ণনা মতে লোক সমাজে প্রচলিত যে, ১২ই রবিউল আউয়াল রাসুল ﷺ এর জন্মদিন। কিন্তু সন, মাস ও বার ঠিক রেখে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদগণ স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সেদিন ছিল ৯ই রবিউল আউয়াল। আর ইহাই বিশুদ্ধতম মত। [। আর-রাহীকুল মাখতুম (আরবী) দারুল মু‘আয়্যেদ -রিয়াদ /৫৪]

১২ রবিউল আউওয়ালে তাঁর ওফাত হয় এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। কেননা, তা স্পষ্ঠ দলিল দ্বারা প্রমাণিত। জন্মের তারিখটি বিতর্কিত। তার কারণ হলো, সে সময়ে নাবী ﷺ -কে না চিনার কারণে তারিখটি সযত্নে সংরক্ষিত হয়নি। এমনকি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে এবং তাঁর কোন সাহাবী হতে স্পষ্ট কোন বর্ণনাও পাওয়া যায়নি। সে কারণে ইতিহাসবেত্তাদের বর্ণনার উপর নির্ভর করতে হয়েছে।