১
মিলাদ মাহফিল
লেখকঃ মুহাম্মাদ হারুন হুসাইন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
মিলাদ ও ক্বিয়াম
আমাদের দেশে কিছু লোক বসে বসে মিলাদ পড়েন। আবার কিছু লোক পড়তে পড়তে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়াকে ক্বিয়াম বলা হয়। ক্বিয়ামী ভাইদের ধারণা, মিলাদ মাহফিলে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রূহ মুবারক হাযির হয়। তখনই তারা তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যান। কোন কোন মাহফিলে সাজিয়ে গুজিয়ে একটি চেয়ারও খালি রাখা হয়। এখানে নাকি রাসূলুল্লাহ ﷺ এসে উপবেশন করেন। তাদের এ ধারণা অনেক বিভ্রান্তিমূলক বিশ্বাসের জন্ম দেয়। এসব বিশ্বাসের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো :
১। নাবী ﷺ এর ওফাত হয়নি; বরং তিনি জীবিত আছেন; অথচ এ অলীক বিশ্বাস সরাসরি কুরআনের বিপরীত। আর মাখলুক মাত্রই ওফাত হবে। চিরঞ্জীবতা শুধু আল্লাহরই সিফাত। মহান আল্লাহ বলেন:
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ
‘‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী।’’ [। সূরা আলে ইমরান -১৮৫]
মহান আল্লাহই কেবল বাকী থাকবেন; অন্য কোন সৃষ্টি অবশিষ্ট থাকবে না। এ মর্মে মহান আল্লাহ এরশাদ ফরমান :
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ (২৬) وَيَبْقٰى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ
‘‘ভূপৃষ্ঠের সবকিছুর ধ্বংসশীল। একমাত্র তোমার মহিমায় ও মহানুভব রবের মুখমন্ডল বাকী থাকবে।’’ [। সূরা আর রাহমান -২৬-২৭]
২। নাবী ﷺ সর্বত্র বিরাজমান; অথচ নাবীর মহাসমাধী মদীনাতেই রয়েছে এবং তিনি বলেছেন:
قوله عليه السلام : إِنَّ لِلّٰهِ مَلَائِكَةً سَيّٰحِين في الْأرْضِ يَبْلُغُنِي مِنْ أمَّتِي السَّلَامَ
‘‘নিশ্চয় যমীনে ভ্রমনকারী আল্লাহর ফেরেশতামন্ডলী রয়েছেন। তাঁরা আমার উম্মাতের সালাম আমার কাছে পৌঁছে দেন।’’ [। আহমাদ,নাসায়ী, সিলসিলাতুস সহীহাহ লিল আল-বাণী হা /২৮৫৩]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ১১ হিজরী মোতাবেক ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার জোহরের সময় মদীনা মুনাওয়ারায় মা আয়েশা (রা.) এর হুজরাতে তাঁর ওফাত হয়। অতঃপর ১৩ রবিউল আউয়াল মঙ্গলবার তাঁকে গোসল দেয়া হয়। এ গুরু দায়িত্ব পালন করেন সাহবী আস, আলী, উসামা বিন জায়েদ, রাসূল ﷺ এর গোলাম শাক্বরান, আববাস এর পুত্রদ্বয় এবং আউস রাদিআল্লাহু আনহুম আজমা‘ঈন। আউস (রা.) পানি ঢালেন এবং আলী (রা.) গোসল দেন। [। আল মুবারক পুরী, আর রাহীকুল মাখতুম (আরবী) দারুল মুআইয়্যিদ রিয়াদ /৪৭১] তিন কাপড় দ্বারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দাফন সম্পন্ন হয়। [। বুখারী,মুসলিম হা/৯৪১ (৪৫)] এসব দলিলের পর কী করে তাঁকে সর্বত্র বিরাজমান বলা যেতে পারে! এ তো প্রকাশ্য গোমরাহী।
৩। অদৃশ্য বিদ্যা বা গায়েবের ইলম জানা; কেননা তাঁকে আগাম জানতে হবে যে, কোথায় কখন মিলাদ হবে। আর যদি একই সময়ে পৃথিবীর একাধিক জায়গায় মিলাদ হয়, তাহলে তো মহা বিড়ম্বনা। অথচ ইহা জানা কথা যে, গায়েবের ইলম শুধু আল্লাহরই। এতে কোন মাখলুকের হাত নেই। আল্লাহ বলেন:
وَعِنْدَهٗ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَاۤ اِلَّا هُوَؕ
‘‘আর গায়েব বা অদৃশ্য বিদ্যার চাবিসমূহ তাঁরই (আল্লাহর) হাতে। তিনি ছাড়া তা কেউ জানে না।’’ [। আল-কুরআন, সূরা আল আন‘আম/ ৫৯]
১। নাবী ﷺ এর ওফাত হয়নি; বরং তিনি জীবিত আছেন; অথচ এ অলীক বিশ্বাস সরাসরি কুরআনের বিপরীত। আর মাখলুক মাত্রই ওফাত হবে। চিরঞ্জীবতা শুধু আল্লাহরই সিফাত। মহান আল্লাহ বলেন:
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ
‘‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী।’’ [। সূরা আলে ইমরান -১৮৫]
মহান আল্লাহই কেবল বাকী থাকবেন; অন্য কোন সৃষ্টি অবশিষ্ট থাকবে না। এ মর্মে মহান আল্লাহ এরশাদ ফরমান :
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ (২৬) وَيَبْقٰى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ
‘‘ভূপৃষ্ঠের সবকিছুর ধ্বংসশীল। একমাত্র তোমার মহিমায় ও মহানুভব রবের মুখমন্ডল বাকী থাকবে।’’ [। সূরা আর রাহমান -২৬-২৭]
২। নাবী ﷺ সর্বত্র বিরাজমান; অথচ নাবীর মহাসমাধী মদীনাতেই রয়েছে এবং তিনি বলেছেন:
قوله عليه السلام : إِنَّ لِلّٰهِ مَلَائِكَةً سَيّٰحِين في الْأرْضِ يَبْلُغُنِي مِنْ أمَّتِي السَّلَامَ
‘‘নিশ্চয় যমীনে ভ্রমনকারী আল্লাহর ফেরেশতামন্ডলী রয়েছেন। তাঁরা আমার উম্মাতের সালাম আমার কাছে পৌঁছে দেন।’’ [। আহমাদ,নাসায়ী, সিলসিলাতুস সহীহাহ লিল আল-বাণী হা /২৮৫৩]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ১১ হিজরী মোতাবেক ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার জোহরের সময় মদীনা মুনাওয়ারায় মা আয়েশা (রা.) এর হুজরাতে তাঁর ওফাত হয়। অতঃপর ১৩ রবিউল আউয়াল মঙ্গলবার তাঁকে গোসল দেয়া হয়। এ গুরু দায়িত্ব পালন করেন সাহবী আস, আলী, উসামা বিন জায়েদ, রাসূল ﷺ এর গোলাম শাক্বরান, আববাস এর পুত্রদ্বয় এবং আউস রাদিআল্লাহু আনহুম আজমা‘ঈন। আউস (রা.) পানি ঢালেন এবং আলী (রা.) গোসল দেন। [। আল মুবারক পুরী, আর রাহীকুল মাখতুম (আরবী) দারুল মুআইয়্যিদ রিয়াদ /৪৭১] তিন কাপড় দ্বারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দাফন সম্পন্ন হয়। [। বুখারী,মুসলিম হা/৯৪১ (৪৫)] এসব দলিলের পর কী করে তাঁকে সর্বত্র বিরাজমান বলা যেতে পারে! এ তো প্রকাশ্য গোমরাহী।
৩। অদৃশ্য বিদ্যা বা গায়েবের ইলম জানা; কেননা তাঁকে আগাম জানতে হবে যে, কোথায় কখন মিলাদ হবে। আর যদি একই সময়ে পৃথিবীর একাধিক জায়গায় মিলাদ হয়, তাহলে তো মহা বিড়ম্বনা। অথচ ইহা জানা কথা যে, গায়েবের ইলম শুধু আল্লাহরই। এতে কোন মাখলুকের হাত নেই। আল্লাহ বলেন:
وَعِنْدَهٗ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَاۤ اِلَّا هُوَؕ
‘‘আর গায়েব বা অদৃশ্য বিদ্যার চাবিসমূহ তাঁরই (আল্লাহর) হাতে। তিনি ছাড়া তা কেউ জানে না।’’ [। আল-কুরআন, সূরা আল আন‘আম/ ৫৯]