১
ইসলামী শরীআতে শাস্তির বিধান
লেখকঃ ড. আব্দুল কারীম যাইদান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
কিসাস ও দিয়ত শাস্তির গুরুত্ব
কিসাস শাস্তির মধ্যে অপরাধের মূলনীতি -সুবিচার, সমতা, নিবৃত রাখা ও সমাধান করার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তাই কিসাস প্রয়োগের দ্বারা শাস্তি প্রদানের মূল উদ্দেশ্য এবং নাগরিক ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, এ শাস্তির মধ্যে সমতা ও সুবিচারের দৃশ্য এতই স্পষ্ট যে, কারো কাছে তা গোপন থাকা অসম্ভব। কেননা অপরাধীর সাথে কেবল সে আচরণই করা হয় যে আচরণ সে করেছে আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর। এ কারণে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি সাদৃশ্যতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায় এবং সমতার সাথে অনুরূপ আচরণ করা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কিসাস রহিত হয়ে যায়। যেসব লোক মানুষের প্রাণ সংহারের সংকল্প করে এ ব্যবস্থা তাদেরকে কিসাসের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত করে দমিয়ে রাখে। তা ছাড়া কিসাস যেহেতু নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের হক, সুতরাং কিসাসের হাত থেকে হত্যাকারীকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানও তাকে ক্ষমা করতে পারবে না। অনুরূপ এ শাস্তি কার্যকর থাকলে অপরাধের বিভিন্ন পথও রুদ্ধ থাকে। কেননা নিহতের উত্তরাধিকারীগণ যেহেতু কিসাস নেওয়ার অধিকারী তাই তারা অন্যভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবে না, নিরপরাধীকে হত্যা করবে না কিংবা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে নিজেরাই অপরাধীকে হত্যা করবে না।