১
ইসলামী শরীআতে শাস্তির বিধান
লেখকঃ ড. আব্দুল কারীম যাইদান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০
তা‘যীরের প্রকারভেদ
৬৫. কষ্ট ও পীড়াদায়ক যে কোনো কথা, কাজ অথবা বর্জনের মাধ্যমে তা‘যীর শাস্তি হয়ে থাকে। কাউকে উপদেশ দিয়ে, কাউকে সতর্ক করে এবং কারো বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। কোনো কোনো অপরাধী তওবা না করা পর্যন্ত কিংবা অপরাধ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার সাথে সালাম-কালাম বন্ধ ও সংশ্রব বর্জন করে তা‘যীর দণ্ড দেওয়া হয়। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার কারণে তিন ব্যক্তির সাথে এরূপ আচরণ করেন পেশাগত দায়িত্ব বা চাকুরি থেকে অপসারণের মাধ্যমেও তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলে এ রকম শাস্তি দেওয়ার প্রমাণ আছে। কখনও অপরাধী যে শহরে বাস করে সেখান থেকে অন্য শহরে বহিষ্কার করে কিংবা তার মাথার চুল ন্যাড়া করে তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। আবার কখনও প্রহার করে বা চাবুক মেরে বা বন্দী রেখে কিংবা মুখে চুনকালি মাখিয়ে তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। কখনও আর্থিক দণ্ডের মাধ্যমে তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে এরূপ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যেমন, মদ তৈরির মটকা ও মদ রাখার পাত্র তিনি ভেঙ্গে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অনুরূপ খায়বর যুদ্ধে গাধার গোস্ত রান্না করার ডেক উপুড় করে গোস্ত ফেলে দেওয়ার আদেশ দেন। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত করেও তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই মসজিদে দ্বিরার ভেঙ্গে দেন এবং উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মদ বিক্রির দোকান গুড়িয়ে দেন। মাল নষ্ট করার করার দ্বারাও তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। যেমন, উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বিক্রি করার জন্য পানি মিশ্রি্ত দুধ রাস্তায় ঢেলে দেন। কখনও সম্পদের একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করে নিয়েও তা‘যীর শাস্তি দেওয়া হয়। যেমন, যাকাত দিতে অস্বীকারকারীর অর্ধেক সম্পত্তি তা’যীরের উদ্দেশ্যে সরকার বাজেয়াপ্ত করে থাকে।