১
ইসলামী শরীআতে শাস্তির বিধান
লেখকঃ ড. আব্দুল কারীম যাইদান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
বর্তমান যুগে তা‘যীর ব্যবস্থার গুরুত্ব
সমাজে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধ তা‘যীর ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। কেননা হুদূদ, কিসাস ও দিয়াত ব্যতীত অন্য কোনো অপরাধের শাস্তি শরী‘আত নির্ধারণ করে দেয় নি। কিন্তু এসব অপরাধ তা’যীরের অপরাধের তুলনায় অনেক কম। শরী‘আত তা‘যীর শাস্তি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকার তথা বিচারপতিদের ওপর ন্যাস্ত করেছে। তারা শরী‘আতের আইন ও মূলনীতির আলোকে সেসব শাস্তি ধার্য করেন যার বিস্তারিত বিবরণ শরী‘আতে বিদ্যমান রয়েছে। সন্দেহ নেই, এ ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক ও অপরিসীম। যেহেতু এটা সেই সমুদয় অপরাধের সুষ্ঠু মীমাংসা করে যার নির্ধারিত শাস্তি শরী‘আতে নেই। সুতরাং শরী‘আত বিরোধী যে কাজই হোক তার ওপর তা‘যীর অবধারিত। অনুরূপ যেসব কাজ শরী‘আতের মাপকাঠিতে সমাজের জন্য নিশ্চিত ক্ষতিকর সেগুলোও তা’যীরের আওতায় আসবে। যদিও এসব ক্ষতিকর কাজের মধ্য থেকে কিছু কিছু কাজ মূলের দিক থেকে মুবাহ বা নির্দোষ, কিন্তু স্থান কাল ভেদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বলা বাহুল্য, শরী‘আতের গণ্ডির মধ্যে ক্ষতির কোনো অস্তিত্ব নেই, ক্ষতি শরী‘আতে নিষিদ্ধ ( إن الضرر مدفوع في الشريعة ومنهي عنه )। কারণ ক্ষতি যুলুমের অন্তর্ভুক্ত আর যুলুম হারাম। সুতরাং মুবাহ কাজ যখন কোনো কারণবশতঃ ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়, তখন শরী‘আতে তা নিষিদ্ধ হয় এবং তা বর্জন করা হয় ওয়াজিব। সে কাজ যে করে তাকে তা‘যীর শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا ضرر ولا ضرار» .
“ক্ষতি করাও অপরাধ, ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতি করাও অপরাধ।”
তবে সমাজের ওপর ক্ষতির প্রভাব কতটুকু, তার সাথে সঙ্গতি রেখে তা‘যীর শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং তা করতে হবে সুচিন্তিত ও যুলুমমুক্ত মন নিয়ে। কেননা যালিমের যুলুম হারাম । এছাড়া উক্ত কর্মের ক্ষতি নিরূপণ করতে হবে শরী‘আতের নিক্তি দিয়ে, কু-প্রবৃত্তি ও কু-ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়।
আল্লাহ সত্য বলেন, সঠিক পথ প্রদর্শণ করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম অভিভাবক। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের প্রতি দুরূদ ও সালাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্ত, যিনি সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক।
والله يقول الحق ويهدينا سواء السبيل وهو حسبنا ونعم الوكيل
صلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين والحمد لله رب العلمين -
«لا ضرر ولا ضرار» .
“ক্ষতি করাও অপরাধ, ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতি করাও অপরাধ।”
তবে সমাজের ওপর ক্ষতির প্রভাব কতটুকু, তার সাথে সঙ্গতি রেখে তা‘যীর শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং তা করতে হবে সুচিন্তিত ও যুলুমমুক্ত মন নিয়ে। কেননা যালিমের যুলুম হারাম । এছাড়া উক্ত কর্মের ক্ষতি নিরূপণ করতে হবে শরী‘আতের নিক্তি দিয়ে, কু-প্রবৃত্তি ও কু-ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়।
আল্লাহ সত্য বলেন, সঠিক পথ প্রদর্শণ করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম অভিভাবক। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের প্রতি দুরূদ ও সালাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্ত, যিনি সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক।
والله يقول الحق ويهدينا سواء السبيل وهو حسبنا ونعم الوكيل
صلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين والحمد لله رب العلمين -