hadith book logo

ইসলামী শরীআতে শাস্তির বিধান

লেখকঃ ড. আব্দুল কারীম যাইদান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

হুদূদ শাস্তি প্রবর্তনের হিকমত

৩৯. হুদূদের বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে শাস্তির সাধারণ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যার বর্ণনা ইতোপূর্বে দেওয়া হয়েছে। নীতিটি হচ্ছে, অপরাধের সাথে শাস্তির সমতা ও সামঞ্জস্যতা রক্ষা। ন্যায়নীতি ও সুবিচারের জন্য এটা অপরিহার্য। এ শাস্তির মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কষ্ট যাতনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যা অপরাধ ঘটাবার আগে মানুষকে সতর্ক করে ও পুনরাবৃত্তি করতে বাধা দেয়।

এ শাস্তির বিশেষত্ব এই যে, অপরাধী ব্যতীত অন্যের ওপর কখনও আরোপ হয় না। এ কারণে এর নিঁখুত প্রয়োগ সমাজকে ক্ষতি ও বিপর্যয়ের কবল থেকে রক্ষা করে সমাজের কল্যাণ সাধন করে। ফলে অপরাধের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায়। অন্ততঃপক্ষে বহুলাংশে হ্রাস পেয়ে সমাজে শান্তি-স্থিতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। একইভাবে এসব শাস্তি অপরাধ করতে উৎসুক ব্যক্তির সামনে বাঁধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। তারপরেও যদি সে অপরাধ করে ফেলে তাহলে শাস্তি পাওয়ার পর পুনরায় অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে। এভাবে সে সংশোধন হয় এবং শাস্তি তার জন্য কল্যাণকর প্রমাণিত হয়। সন্দেহ নেই, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ থেকে দূরে রাখার মধ্যে তার জন্য বড় ধরণের কল্যাণ নিহিত থাকে। কেননা তখন তাকে শাস্তির কষ্ট ভোগ করতে হয় না। শরী‘আত লংঘন করার দায় ঘাড়ে নিতে হয় না এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও পরকালের ‘আযাব থেকে সে রক্ষা পেয়ে যায়। আবার অপরাধ করার কারণে শাস্তি দেওয়া হলে তাও তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। কারণ, তখন সে দুনিয়ায় গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যায়। প্রদত্ত শাস্তি তার সুপ্ত ঈমানকে জাগ্রত করে দেয় এবং আল্লাহর সম্মুখে তার বড় স্খলণের অনুভূতি জাগিয়ে দেয়। ফলে সে তওবায়ে নাসূহা করার সৌভাগ্য লাভ করে। ইতোপূর্বে এ সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইসলামে শাস্তি বিধান প্রবর্তনের পেছনে যে সব মহান লক্ষ্য ও হিকমত নিহিত আছে এগুলো তার সামান্য কয়েকটি দিক মাত্র।