hadith book logo

ইসলামী শরীআতে শাস্তির বিধান

লেখকঃ ড. আব্দুল কারীম যাইদান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩

তা‘যীর দণ্ড নির্ধারণে বিচারকের ক্ষমতা

আমাদের পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, তা‘যীর দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারকের ক্ষমতা ব্যাপক। তিনিই তা‘যীর পর্যায়ের অপরাধসমূহের মধ্য থেকে যে কোনো অপরাধের যুক্তিসঙ্গত দণ্ড নির্ধারণ করেন। শরী‘আতে তা‘যীর জাতীয় যেসব দণ্ডের বর্ণনা দেওয়া আছে -বিচারক তার মধ্যেই ক্ষমতা সীমিত রাখবেন, এর বাইরে যাবেন না। উল্লেখ্য সর্বনিম্ন দণ্ড সতর্ক করা এবং সর্বোচ্চ দণ্ড মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। যে ধরণের দণ্ড তিনি নির্ধারণ করবেন তার পরিমাণও তিনি নির্ধারণ করে দিবেন। যদি বেত্রাঘাতের দণ্ড নির্ধারণ করেন তাহলে বেত্রাঘাতের পরিমাণও ঠিক করে দিবেন। দণ্ড নির্বাচনে ও পরিমাণ নির্ধারণে বিচারক তার প্রবৃত্তি, স্বেচ্ছাচারিতা, আক্রোশ ও প্রতিশোধস্পৃহা এবং যুক্তিহীন ও তড়িঘড়ি করে অদূরদর্শিতার সাথে রায় দিবেন না। দণ্ড নির্বাচনে তিনি নির্ধারিত বিধিবিধানের আলোকে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। যেসব বিধি-বিধান সামনে রেখে তিনি দণ্ড নির্ণয় করবেন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে - অপরাধের প্রকৃতি, ক্ষতির পরিমাণ ও প্রভাব, অপরাধীর অবস্থা –সে কি অপরাধের সহযোগী না সংগঠক। তিনি আরও বিবেচনা করবেন -অপরাধের বিস্তৃতি-ব্যাপকতা কেমন এবং তাতে লোকের সংশ্লিষ্টতার পরিমাণ কত এবং কোনো ধরণের দণ্ড অপরাধীকে সংযত রাখতে ও অন্যদেরকে সতর্ক করতে কতটুকু সহায়ক হবে। অপরাধ যদি এমন পর্যায়ের হয় যে, পর্যাপ্ত পরিমাণ লোক সে অপরাধে জড়িত তবে বিচারক দণ্ডের মাত্রা বাড়িয়ে দিবেন। অপরাধী যদি ভদ্র, সচ্চরিত্রবান হয় এবং জীবনে প্রথমবারই এ অপরাধে জড়িয়ে থাকে তবে তার লঘু দণ্ড হবে, পুনরাবৃত্তিকারীর হবে গুরুদণ্ড এবং এভাবেই অপরাধ করার সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দণ্ডের মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে থাকবে। মোটকথা তা‘যীরমূলক অপরাধে দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে অপরাধীর ব্যক্তিত্ব ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনার গুরুত্ব অপরিসীম।