১
মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দরসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান
লেখকঃ শাইখ আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
দশম দরস: সালাতের সুন্নাতসমুহ
সালাতের সুন্নতসমূহ। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
১. সালাতের শুরুতে প্রারম্ভিক দো‘আ বা তাস্বীহ পড়া।ব্যাখ্যা:
যেমন,
এক.
«سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكْ»
“হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তোমরা প্রশংসার সাথে। তোমরা নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি সুউচ্চে এবং তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই।”
অথবা, দুই.
«اَللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْن خَطَايَايَ، كَمَا بَاعَدْتَ الْمُشْرِقِ وَ الْمَغْرِبِ، اللهُمَّ نَفنِىْ مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقِّىْ اَلثَّوْبِ الأبْيَضُ مِنَ الدّنَسِ، اللهُمَّ اَغسِلْنِيْ مِنْ خَطَايَايَ بَالثَّلجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَد»
“হে আল্লাহ! তুমি আমার এবং আমার পাপ-রাশির মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও, যেমন তুমি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ, তুমি আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।”
এগুলো ব্যতীত হাদীসে প্রমাণিত অন্য যে কোনো প্রারম্ভিক দো‘আ পড়লেও চলবে।
মূলপাঠ:
২. দাঁড়ানো অবস্থায় রুকুর আগে ও রুকুর পরে ডান হাতের তালু বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর ধারণ করা।
৩. প্রথম তাকবীর বলার সময়, রুকুতে যাওয়ার সময়, রুকু‘ থেকে উঠার সময় এবং প্রথম তাশাহ্হুদ শেষে তৃতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়ানোর সময় অঙ্গুলীসমূহ সংযুক্ত ও সরল রেখে উভয় হাত উভয় কাঁধ বা কান বরাবর উত্তোলন করা।
৪. রুকু‘ এবং সাজদায় একাধিকবার তাসবীহ পড়া।
৫. রুকু থেকে উঠার পরে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ এর চেয়ে অতিরিক্ত যা বর্ণিত আছে তা পাঠ করা এবং উভয় সাজদাহর মধ্যে বসে একাধিকার মাগফিরাতের দো‘আ পড়া।
৬. রুকু অবস্থায় পিঠ বরাবর মাথা রাখা।
৭. সাজদাবস্থায় বাহুদ্বয় বক্ষের উভয় পার্শ্ব থেকে এবং পেট উরুদ্বয় থেকে ব্যবধানে রাখা।
৮. সাজদাহর সময় বাহুদ্বয় জমিন থেকে উপরে উঠিয়ে রাখা।
৯. প্রথম তাশাহ্হুদ পড়ার সময় ও সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা এবং ডান পা খাড়া রাখা।
১০. শেষ তাশাহ্হুদে ‘তাওয়াররুক’ করে বসা। এর পদ্ধতি হলো, পাছার উপর বসে বাম পা ডান পায়ের নীচে রেখে ডান পা খাড়া রাখা।
১১. প্রথম ও দ্বিতীয় তাশাহহুদে বসার শুরু থেকে তাশাহ্হুদ পড়ার শেষ পর্যন্ত শাহাদাত অঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করা এবং দো‘আর সময় নাড়াচাড়া করা।
১২. প্রথম তাশাহ্হুদের সময় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং ইবারহীম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দুরূদ ও বরকতের দো‘আ করা।
১৩. শেষ তাশাহ্হুদে দো‘আ করা।
১৪. ফজর, জুমু‘আ, উভয় ঈদ ও ইস্তেসকার সালাতে এবং মাগরিব ও ইশার সালাতের প্রথম দুই রাকা‘আতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া।
১৫, যোহর ও আসরের সালাতে, মাগরিবের তৃতীয় রাকা‘আতে এবং ‘ইশার শেষ দুই রাকা‘আতে চুপে চুপে কিরাত পড়া।
১৬. সূরা আল-ফাতিহার অতিরিক্ত কুরআন পড়া।
এর সাথে হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য সুন্নাতগুলোর প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, ইমাম, মুক্তাদী ও একাকি সালাত আদায়কারীর পক্ষে রুকু‘ থেকে উঠার পর রাব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ বলার সাথে অতিরিক্ত যা পড়া হয় তা ও সুন্নাত। অনুরূপভাবে রুকুতে অঙ্গুলীগুলো ফাঁক করে উভয় হাত হাঁটুর উপর রাখা সুন্নাত।
ব্যাখ্যা:
সালাতের সুন্নাতসমূহকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথম: কথা সুন্নাত
দ্বিতীয়: আমলী সুন্নাত
লেখক এ সুন্নাতগুলো মূল কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এ সুন্নাতগুলো আদায় করতেই হবে -এমন নয়। তবে যদি কেউ করে তাহলে সাওয়াব পাবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি না করে বা সব সুন্নাত ছেড়ে দেয় তাহলে তার হুকুম অন্যান্য সুন্নাতের মতোই। তাতে কোনো গুণাহ হবে না। তবে মুসলিমদের জন্য উচিত হলো, এ সুন্নাতের ওপর আমল করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ»
“তোমরা আমার সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর। তোমরা সেসব সুন্নাতের ওপর গোড়ালির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে অটুট অবিচল থাক”। [তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৪; মুসনাদে আহমদ ১২৬/৪; দারেমী, হাদীস নং ৯৫।] আল্লাহই ভালো জানেন।
১. সালাতের শুরুতে প্রারম্ভিক দো‘আ বা তাস্বীহ পড়া।ব্যাখ্যা:
যেমন,
এক.
«سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكْ»
“হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তোমরা প্রশংসার সাথে। তোমরা নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি সুউচ্চে এবং তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই।”
অথবা, দুই.
«اَللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْن خَطَايَايَ، كَمَا بَاعَدْتَ الْمُشْرِقِ وَ الْمَغْرِبِ، اللهُمَّ نَفنِىْ مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقِّىْ اَلثَّوْبِ الأبْيَضُ مِنَ الدّنَسِ، اللهُمَّ اَغسِلْنِيْ مِنْ خَطَايَايَ بَالثَّلجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَد»
“হে আল্লাহ! তুমি আমার এবং আমার পাপ-রাশির মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও, যেমন তুমি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ, তুমি আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।”
এগুলো ব্যতীত হাদীসে প্রমাণিত অন্য যে কোনো প্রারম্ভিক দো‘আ পড়লেও চলবে।
মূলপাঠ:
২. দাঁড়ানো অবস্থায় রুকুর আগে ও রুকুর পরে ডান হাতের তালু বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর ধারণ করা।
৩. প্রথম তাকবীর বলার সময়, রুকুতে যাওয়ার সময়, রুকু‘ থেকে উঠার সময় এবং প্রথম তাশাহ্হুদ শেষে তৃতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়ানোর সময় অঙ্গুলীসমূহ সংযুক্ত ও সরল রেখে উভয় হাত উভয় কাঁধ বা কান বরাবর উত্তোলন করা।
৪. রুকু‘ এবং সাজদায় একাধিকবার তাসবীহ পড়া।
৫. রুকু থেকে উঠার পরে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ এর চেয়ে অতিরিক্ত যা বর্ণিত আছে তা পাঠ করা এবং উভয় সাজদাহর মধ্যে বসে একাধিকার মাগফিরাতের দো‘আ পড়া।
৬. রুকু অবস্থায় পিঠ বরাবর মাথা রাখা।
৭. সাজদাবস্থায় বাহুদ্বয় বক্ষের উভয় পার্শ্ব থেকে এবং পেট উরুদ্বয় থেকে ব্যবধানে রাখা।
৮. সাজদাহর সময় বাহুদ্বয় জমিন থেকে উপরে উঠিয়ে রাখা।
৯. প্রথম তাশাহ্হুদ পড়ার সময় ও সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা এবং ডান পা খাড়া রাখা।
১০. শেষ তাশাহ্হুদে ‘তাওয়াররুক’ করে বসা। এর পদ্ধতি হলো, পাছার উপর বসে বাম পা ডান পায়ের নীচে রেখে ডান পা খাড়া রাখা।
১১. প্রথম ও দ্বিতীয় তাশাহহুদে বসার শুরু থেকে তাশাহ্হুদ পড়ার শেষ পর্যন্ত শাহাদাত অঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করা এবং দো‘আর সময় নাড়াচাড়া করা।
১২. প্রথম তাশাহ্হুদের সময় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং ইবারহীম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দুরূদ ও বরকতের দো‘আ করা।
১৩. শেষ তাশাহ্হুদে দো‘আ করা।
১৪. ফজর, জুমু‘আ, উভয় ঈদ ও ইস্তেসকার সালাতে এবং মাগরিব ও ইশার সালাতের প্রথম দুই রাকা‘আতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া।
১৫, যোহর ও আসরের সালাতে, মাগরিবের তৃতীয় রাকা‘আতে এবং ‘ইশার শেষ দুই রাকা‘আতে চুপে চুপে কিরাত পড়া।
১৬. সূরা আল-ফাতিহার অতিরিক্ত কুরআন পড়া।
এর সাথে হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য সুন্নাতগুলোর প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, ইমাম, মুক্তাদী ও একাকি সালাত আদায়কারীর পক্ষে রুকু‘ থেকে উঠার পর রাব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ বলার সাথে অতিরিক্ত যা পড়া হয় তা ও সুন্নাত। অনুরূপভাবে রুকুতে অঙ্গুলীগুলো ফাঁক করে উভয় হাত হাঁটুর উপর রাখা সুন্নাত।
ব্যাখ্যা:
সালাতের সুন্নাতসমূহকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথম: কথা সুন্নাত
দ্বিতীয়: আমলী সুন্নাত
লেখক এ সুন্নাতগুলো মূল কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এ সুন্নাতগুলো আদায় করতেই হবে -এমন নয়। তবে যদি কেউ করে তাহলে সাওয়াব পাবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি না করে বা সব সুন্নাত ছেড়ে দেয় তাহলে তার হুকুম অন্যান্য সুন্নাতের মতোই। তাতে কোনো গুণাহ হবে না। তবে মুসলিমদের জন্য উচিত হলো, এ সুন্নাতের ওপর আমল করা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ»
“তোমরা আমার সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর। তোমরা সেসব সুন্নাতের ওপর গোড়ালির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে অটুট অবিচল থাক”। [তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৪; মুসনাদে আহমদ ১২৬/৪; দারেমী, হাদীস নং ৯৫।] আল্লাহই ভালো জানেন।