১
মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দরসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান
লেখকঃ শাইখ আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
ষষ্ঠ দরস: সালাতের শর্তাবলী
সালাতের শর্তাবলী, আর সেগুলো হলো নয়টি: আর তা হচ্ছে:
১. ইসলাম ২. বুদ্ধিমত্তা ৩. ভালো-মন্দ পার্থক্যের জ্ঞান ৪. নাপাকি দুর করা ৫. অযুঅযু করা ৬. সতরে আওরাত অর্থাৎ লজ্জাস্থানসহ শরীরের নির্ধারিত অংশ আবৃত রাখা ৭. সালাতের সময় উপস্থিত হওয়া ৮. কেবলামুখী হওয়া এবং ৯. নিয়ত করা।
ব্যাখ্যা:
ইসলামের রুকন পাঁচটি উল্লেখ করার পর, লেখক রহ. সংগত কারণেই সালাতের শর্তের আলোচনা শুরু করেন। কারণ, শাহাদাতদ্বয়ের পর সালাত ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন। আর শর্ত পূরণ করা ছাড়া সালাত সহীহ হয় না।
প্রথম পর্যায়ের শর্তগুলো হলো মুসলিম হওয়া, জ্ঞানী হওয়া ও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। সুতরাং কাফিরের জন্য সালাত নয়। কারণ, তার আমল নষ্ট। পাগলের সালাত নেই। কারণ, সে শরী‘আতের মুকাল্লাফ নয়। এবং বাচ্চার ওপর সালাত ফরয নয়। কারণ, «مروا أبناءكم بالصلاة لسبع» “তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৫, মুসনাদে আহমদ ২/১৮৭।] বর্ণিত হাদীসের এ নির্দেশনা থেকে তা-ই বুঝা যায়।
চতুর্থ শর্ত: পবিত্রতা অর্জন করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا تقبل صلاة بغير طهور»
“পবিত্রতা ছাড়া সালাত গ্রহণযোগ্য নয়”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৪; তিরমিযী, হাদীস নং ১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৭২।]
পঞ্চম শর্ত: সময় হলে সালাত আদায় করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِدُلُوكِ ٱلشَّمۡسِ إِلَىٰ غَسَقِ ٱلَّيۡلِ ٧٨﴾ [ الاسراء : ٧٨ ]
“সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর”। [‘ফজরের কুরআন’ দ্বারা উদ্দেশ্য ফজরের সালাত।]
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«الصلاة لها وقت شرطه الله لا تصح إلا به»
জিবরীল আলাইহিস সালাম-এর হাদীস। যখন তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ইমামতি করেন। অতঃপর বলেন, এ দুই সময়ে মাঝে সালাতের ওয়াক্ত। [মুসনাদে আহমদ এবং নাসায়ী।]
ষষ্ট শর্ত: সতর ডাকা, যাতে শরীরের চামড়া দেখা না যায়। আল্লাহ তা‘আলাতা‘আলা বলেন,
﴿يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ ٣١﴾ [ الاعراف : ٣١ ]
“হে বনী আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশ-ভূষা গ্রহণ কর”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৩১]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار»
“আল্লাহ তা‘আলা কোনো মহিলার সালাত উড়না (পর্দা) ব্যতীত গ্রহণ করেন না”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৪১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৬৫৫।]
অপর প্রমাণ:
«يا رسول الله إني أكون في الصيد وأصلي في القميص الواحد : قال «نعم وازْرُرْهُ ولو بشوكة»
সালমা ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, তিনি বলেন, “আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি শিকারে থাকি, আর আমি এক জামায় সালাত আদায় করি। এতে আমার সালাত শুদ্ধ হবে? বললেন, হ্যাঁ। তবে তুমি একটি কাঁটা দিয়ে হলেও কাপড়টি সেলাই করে নেবে”। [ইমাম তিরমিযী, উভয় হাদীসকে সহীহ বলেছেন। নাসায়ী, হাদীস নং ৭৬৫, আবুদ দাউদ, হাদীস নং ৬৩২, মুসনাদে আহমদ ৪/৫৪।]
ইবনু আব্দুল বার রহ. শরীর ঢাকার সামর্থ্য থাকা সত্বেও উলঙ্গ সালাত আদায়কারীর সালাত বাতিল হওয়ার ওপর ইজমা বর্ণনা করেন।
সপ্তম শর্ত: শরীর পাক, কাপড় পাক ও সালাতের জায়গা পাক-পবিত্র থাকা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَثِيَابَكَ فَطَهِّرۡ ٤﴾ [ المدثر : ٤ ]
“আর তোমার কাপড়, তা পবিত্র কর”। [সূরা আল-মুদ্দাসির, আয়াত: ৪]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মাসিকের রক্ত সম্পর্কে বলেন,
«تحته ثم تقرصه بالماء، ثم تنضحه ثم تصلي فيه» متفق عليه
“তুমি তা খুটে ঝাড়ে নেবে, তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিবে এবং শুকিয়ে নিয়ে তাতে সালাত আদায় করবে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৯১; তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৮; নাসায়ী, হাদীস নং ২৯৩; আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৬১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৬২৯।]
অষ্টম শর্ত: কেবলামুখী হওয়া। আল্লাহ তা‘আলাতা‘আলা বলেন,
﴿فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ ١٤٤﴾ [ البقرة : ١٤٤ ]
“অতঃপর তুমি তোমার চেহারাকে মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৪]
নবম শর্ত: নিয়ত করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إنما الأعمال بالنيات»
“অবশ্যই আমলের শুদ্ধতা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল”। [বুখারী, হাদীস নং ১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৪৭; নাসায়ী, হাদীস নং ৭৫; আবু দাউদ, হাদীস নং ২২০১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৭।]
এ হলো সালাতের নয়টি শর্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।
১. ইসলাম ২. বুদ্ধিমত্তা ৩. ভালো-মন্দ পার্থক্যের জ্ঞান ৪. নাপাকি দুর করা ৫. অযুঅযু করা ৬. সতরে আওরাত অর্থাৎ লজ্জাস্থানসহ শরীরের নির্ধারিত অংশ আবৃত রাখা ৭. সালাতের সময় উপস্থিত হওয়া ৮. কেবলামুখী হওয়া এবং ৯. নিয়ত করা।
ব্যাখ্যা:
ইসলামের রুকন পাঁচটি উল্লেখ করার পর, লেখক রহ. সংগত কারণেই সালাতের শর্তের আলোচনা শুরু করেন। কারণ, শাহাদাতদ্বয়ের পর সালাত ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন। আর শর্ত পূরণ করা ছাড়া সালাত সহীহ হয় না।
প্রথম পর্যায়ের শর্তগুলো হলো মুসলিম হওয়া, জ্ঞানী হওয়া ও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। সুতরাং কাফিরের জন্য সালাত নয়। কারণ, তার আমল নষ্ট। পাগলের সালাত নেই। কারণ, সে শরী‘আতের মুকাল্লাফ নয়। এবং বাচ্চার ওপর সালাত ফরয নয়। কারণ, «مروا أبناءكم بالصلاة لسبع» “তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৫, মুসনাদে আহমদ ২/১৮৭।] বর্ণিত হাদীসের এ নির্দেশনা থেকে তা-ই বুঝা যায়।
চতুর্থ শর্ত: পবিত্রতা অর্জন করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا تقبل صلاة بغير طهور»
“পবিত্রতা ছাড়া সালাত গ্রহণযোগ্য নয়”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৪; তিরমিযী, হাদীস নং ১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৭২।]
পঞ্চম শর্ত: সময় হলে সালাত আদায় করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِدُلُوكِ ٱلشَّمۡسِ إِلَىٰ غَسَقِ ٱلَّيۡلِ ٧٨﴾ [ الاسراء : ٧٨ ]
“সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর”। [‘ফজরের কুরআন’ দ্বারা উদ্দেশ্য ফজরের সালাত।]
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«الصلاة لها وقت شرطه الله لا تصح إلا به»
জিবরীল আলাইহিস সালাম-এর হাদীস। যখন তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ইমামতি করেন। অতঃপর বলেন, এ দুই সময়ে মাঝে সালাতের ওয়াক্ত। [মুসনাদে আহমদ এবং নাসায়ী।]
ষষ্ট শর্ত: সতর ডাকা, যাতে শরীরের চামড়া দেখা না যায়। আল্লাহ তা‘আলাতা‘আলা বলেন,
﴿يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ ٣١﴾ [ الاعراف : ٣١ ]
“হে বনী আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশ-ভূষা গ্রহণ কর”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৩১]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار»
“আল্লাহ তা‘আলা কোনো মহিলার সালাত উড়না (পর্দা) ব্যতীত গ্রহণ করেন না”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৪১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৬৫৫।]
অপর প্রমাণ:
«يا رسول الله إني أكون في الصيد وأصلي في القميص الواحد : قال «نعم وازْرُرْهُ ولو بشوكة»
সালমা ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, তিনি বলেন, “আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি শিকারে থাকি, আর আমি এক জামায় সালাত আদায় করি। এতে আমার সালাত শুদ্ধ হবে? বললেন, হ্যাঁ। তবে তুমি একটি কাঁটা দিয়ে হলেও কাপড়টি সেলাই করে নেবে”। [ইমাম তিরমিযী, উভয় হাদীসকে সহীহ বলেছেন। নাসায়ী, হাদীস নং ৭৬৫, আবুদ দাউদ, হাদীস নং ৬৩২, মুসনাদে আহমদ ৪/৫৪।]
ইবনু আব্দুল বার রহ. শরীর ঢাকার সামর্থ্য থাকা সত্বেও উলঙ্গ সালাত আদায়কারীর সালাত বাতিল হওয়ার ওপর ইজমা বর্ণনা করেন।
সপ্তম শর্ত: শরীর পাক, কাপড় পাক ও সালাতের জায়গা পাক-পবিত্র থাকা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَثِيَابَكَ فَطَهِّرۡ ٤﴾ [ المدثر : ٤ ]
“আর তোমার কাপড়, তা পবিত্র কর”। [সূরা আল-মুদ্দাসির, আয়াত: ৪]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মাসিকের রক্ত সম্পর্কে বলেন,
«تحته ثم تقرصه بالماء، ثم تنضحه ثم تصلي فيه» متفق عليه
“তুমি তা খুটে ঝাড়ে নেবে, তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিবে এবং শুকিয়ে নিয়ে তাতে সালাত আদায় করবে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৯১; তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৮; নাসায়ী, হাদীস নং ২৯৩; আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৬১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৬২৯।]
অষ্টম শর্ত: কেবলামুখী হওয়া। আল্লাহ তা‘আলাতা‘আলা বলেন,
﴿فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ ١٤٤﴾ [ البقرة : ١٤٤ ]
“অতঃপর তুমি তোমার চেহারাকে মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৪]
নবম শর্ত: নিয়ত করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إنما الأعمال بالنيات»
“অবশ্যই আমলের শুদ্ধতা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল”। [বুখারী, হাদীস নং ১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৪৭; নাসায়ী, হাদীস নং ৭৫; আবু দাউদ, হাদীস নং ২২০১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৭।]
এ হলো সালাতের নয়টি শর্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।