hadith book logo

মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দরসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান

লেখকঃ শাইখ আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

একাদশ দরস: সালাত বাতিলের কারণসমূহ

সালাত বাতিল করে এমন বিষয় আটটি:

১. জেনেশুনে ইচ্ছাকৃত কথা বলা। না জানার কারণে বা ভুলে কথা বললে তাতে সালাত বাতিল হয় না।

২. শব্দ করে হাসা, ৩. খাওয়া, ৪. পান করা, ৫. লজ্জাস্থানসহ সালাতে অবশ্যই আবৃত রাখতে হয় শরীরের এমন অংশ উন্মুক্ত হওয়া, ৬. কিবলার দিক থেকে অন্যদিকে বেশি ফিরে যাওয়া, ৭. সালাতের মধ্যে পর পর অহেতুক কর্ম বেশি করা, ৮. পবিত্রতা নষ্ট হওয়া।

ব্যাখ্যা:

সালাতের শর্ত, রুকন, ওয়াজিব ও কথার সুন্নত ও কর্মগত সুন্নত আলোচনা করার পর সালাত বাতিল করে এমন বিষয়গুলো আলোচনা শুরু করেন। যাতে একজন মুসলিম সালাত বাতিল করে এমন বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক হতে পারে।

সালাত বাতিল বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

এক- জেনেশুনে ইচ্ছাকৃত কথা বলা। না জানার কারণে বা ভুলে কথা বললে তাতে সালাত বাতিল হয় না।কারণ, যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«فأمرنا بالسكوت، ونهينا عن الكلام» .

“আমাদেরকে চুপ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।]

দুই- হাসি। আল্লামা ইবনুল মুনযির বলেন, হাসি সালাত ভঙ্গকারী -এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।

তিন, চার: খাওয়া ও পান করা। আল্লামা ইবনুল মুনযির বলেন, আমার জানা মতে সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, ফরয সালাতে ইচ্ছাকৃত খেলে ও পান করলে তাকে অবশ্যই সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে।

পাঁচ- লজ্জাস্থানসহ অন্যান্য সতর সালাতে অবশ্যই আবৃত রাখা। শরীরের এমন অংশ খোলা রাখা সালাত বিনষ্টকারী। কারণ, সালাতের শর্ত হলো, সতর ঢেকে রাখা আর যদি শর্ত না পাওয়া তাহলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

ছয়- কিবলার দিক থেকে অন্যদিকে বেশি ফিরে যাওয়া। কারণ, সালাতের শর্ত হলো, কিবলার দিকে মুখ করা। যেমন, পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাত- সালাতের মধ্যে পর পর অহেতুক কর্ম বেশি করা। সকলের ঐকমত্যে অহেতুক কর্ম পরপর বেশি করলে সালাত বাতিল হবে, যেমনটি কাফী কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি সামান্য হয় তবে সালাত ভঙ্গ হবে না। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে সালাতে বহন করতেন। যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন বহন করতেন, যখন সাজদাহ করতেন নিচে রাখতেন। এ ছাড়াও সূর্য গ্রহণের সালাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সামনে আবার পিছনে আসা যাওয়া করেছেন।

আট- পবিত্রতা নষ্ট হওয়া। কারণ, সালাতের শর্ত হলো, পবিত্রতা। সুতরাং যখন অযু নষ্ট হবে, তখন সালাত বাতিল হবে।