১
মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দরসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান
লেখকঃ শাইখ আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
ভূমিকা
“নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা ‘আলার জন্য। আমরা তারই প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য চাই, তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহর নিকট আমরা আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্টতা ও আমাদের কর্মসমূহের খারাপ পরিণতি থেকে আশ্রয় কামনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই। আর যাকে গোমরাহ করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ারও কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সালাত ও সালাম নাযিল হোক তার ওপর, তার পরিবার-পরিজন ও তার সাহাবীগণের ওপর এবং যারা কিয়ামত অবধি ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেন তাদের ওপর।
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢﴾ [ ال عمران : ١٠٢ ]
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর যথাযথ তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেও না।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২]
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١﴾ [ النساء : ١ ]
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আরও তাকওয়া অবলম্বন কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا ٧١ ﴾ [ الاحزاب : ٧٠، ٧١ ]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০-৭১]
অতঃপর....
আমাদের পিতৃতুল্য শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-এর লিখিত পুস্তিকা ‘আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি ‘আম্মাতিল উম্মাহ’ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর, প্রতিটি মুসলিমের জন্য আমি পুস্তিকাটির গুরুত্ব ও প্রয়োজন অনুধাবন করে, তা ব্যাখ্যা করার চিন্তা করি। পুস্তিকাটি উম্মতের নারী পুরুষ ও ছাত্র শিক্ষক সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টিকে নিয়ে আমি ইস্তেখারা করি এবং মাশায়েখদের নিকট পরামর্শ চাই। তারা আমার চিন্তাকে সমর্থন করেন এবং আমাকে উৎসাহ দেন। ফলে আমি আমার চিন্তা-দুরুসে মুহিম্মার ব্যাখ্যা করা-কে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং আমি আমার শ্রদ্ধেয় পিতার (শাইখ আবদুল আযীয রহ.)-এর নিকট অনুমতি চাই। তিনি আমাকে পুস্তিকাটি ব্যাখ্যার অনুমতি দিয়ে কৃতজ্ঞতার চাদরে জড়িয়ে নেন। পুস্তিকাটি ছোট হলেও এর মধ্যে শরী‘আতের যাবতীয় –ফিকহে আকবর ও ফিকহে আছগর-একত্র করা হয়েছে। এ ছাড়াও একজন মুসলিমের জন্য যে সব শর‘ঈ আখলাক ও ইসলামী আদাব পালন করা ও মেনে চলা জরুরী তাও এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। আর লেখক শির্ক ও বিভিন্ন প্রকার গুনাহ হতে সতর্ক করার মাধ্যমে এ গ্রন্থখানিকে সুসম্পন্ন করেছেন। একজন মুসলিমের যে সব আকীদা-বিশ্বাস থাকা দরকার এবং যে ধরনের ইবাদাত করা জরুরী, তার সবই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পুস্তিকাটির যেমন নাম, -দুরুসুল মহিম্মাহ -ঠিক তেমনিই তার বিষয়বস্তু। আমি এ পুস্তিকাটির ব্যাখ্যা অতিরিক্ত লম্বা করি নি যাতে পাঠকের বিরক্ত হতে হয়। আবার একেবারে সংক্ষিপ্তও করি নি যাতে বুঝতে কষ্ট হয়। আমি সহজ-সরল ব্যাখ্যা করেছি, যাতে মসজিদের ইমাম, যারা মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যা করতে চায়, ঘরে তা‘লীম করতে চায় এবং তালেবে ইলমগণ গ্রামে বা মহল্লায় তা‘লীম করতে চায়, তাদের জন্য তা সহজ হয়। আমি প্রতিটি মাসআলার সাথে দলীল যোগ করা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং ব্যাখ্যাটির নামকরণ করেছি ‘আল-আহকামুল মুলিম্মাহ ‘আলাদ-দুরুসিল মুহিম্মাহ’। শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ. কিছু কথা যোগ করেন আমি সেগুলোর নিচে দাগ দেই। যাতে পার্থক্য নির্ধারণ করা যায়। অবশেষে যে সব ভাইয়েরা এ কিতাবটি সম্পর্কে জানবেন এবং পাঠ করবেন, তাদের নিকট আমার আশা তারা যেন এ পুস্তিকাটি সম্পর্কে কোনো দিকনির্দেশনা বা মতামত দিতে কার্পণ্য না করেন। মানুষ নিজে নিজে খুব কমই সফল হয়, ভাইদের দ্বারাই অধিক উপকৃত হয়।
আল্লাহর নিকট তার সুন্দর নামসমূহ ও বড় বড় গুণাবলীর মাধ্যমে এ কামনা করি যে, তিনি যেন এ পুস্তিকাটি ও তার ব্যাখ্যা দ্বারা আমাদের উপকার করেন। আর আমার আমলটিকে যেন একমাত্র আল্লাহর জন্য করার তাওফীক দেন। অনুরূপভাবে এ পুস্তিকার লেখক ও ব্যাখ্যাকারীকে যেন উত্তম বিনিময় ও সর্বোচ্চসাওয়াব দান করেন। আমাদেরকে ও লেখককে সব চেয়ে বড় জান্নাতে নবীদের সাথে, সিদ্দিকীনদের সাথে এবং শহীদদের সাথে একত্র করেন। তিনিই এর যথাযথ তত্ত্বাবধায়ক ও ক্ষমতাবান।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين .
আব্দুল আযীয ইবন দাউদ আল-ফায়েয
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢﴾ [ ال عمران : ١٠٢ ]
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর যথাযথ তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেও না।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২]
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١﴾ [ النساء : ١ ]
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আরও তাকওয়া অবলম্বন কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا ٧١ ﴾ [ الاحزاب : ٧٠، ٧١ ]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০-৭১]
অতঃপর....
আমাদের পিতৃতুল্য শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-এর লিখিত পুস্তিকা ‘আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি ‘আম্মাতিল উম্মাহ’ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর, প্রতিটি মুসলিমের জন্য আমি পুস্তিকাটির গুরুত্ব ও প্রয়োজন অনুধাবন করে, তা ব্যাখ্যা করার চিন্তা করি। পুস্তিকাটি উম্মতের নারী পুরুষ ও ছাত্র শিক্ষক সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টিকে নিয়ে আমি ইস্তেখারা করি এবং মাশায়েখদের নিকট পরামর্শ চাই। তারা আমার চিন্তাকে সমর্থন করেন এবং আমাকে উৎসাহ দেন। ফলে আমি আমার চিন্তা-দুরুসে মুহিম্মার ব্যাখ্যা করা-কে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং আমি আমার শ্রদ্ধেয় পিতার (শাইখ আবদুল আযীয রহ.)-এর নিকট অনুমতি চাই। তিনি আমাকে পুস্তিকাটি ব্যাখ্যার অনুমতি দিয়ে কৃতজ্ঞতার চাদরে জড়িয়ে নেন। পুস্তিকাটি ছোট হলেও এর মধ্যে শরী‘আতের যাবতীয় –ফিকহে আকবর ও ফিকহে আছগর-একত্র করা হয়েছে। এ ছাড়াও একজন মুসলিমের জন্য যে সব শর‘ঈ আখলাক ও ইসলামী আদাব পালন করা ও মেনে চলা জরুরী তাও এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। আর লেখক শির্ক ও বিভিন্ন প্রকার গুনাহ হতে সতর্ক করার মাধ্যমে এ গ্রন্থখানিকে সুসম্পন্ন করেছেন। একজন মুসলিমের যে সব আকীদা-বিশ্বাস থাকা দরকার এবং যে ধরনের ইবাদাত করা জরুরী, তার সবই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পুস্তিকাটির যেমন নাম, -দুরুসুল মহিম্মাহ -ঠিক তেমনিই তার বিষয়বস্তু। আমি এ পুস্তিকাটির ব্যাখ্যা অতিরিক্ত লম্বা করি নি যাতে পাঠকের বিরক্ত হতে হয়। আবার একেবারে সংক্ষিপ্তও করি নি যাতে বুঝতে কষ্ট হয়। আমি সহজ-সরল ব্যাখ্যা করেছি, যাতে মসজিদের ইমাম, যারা মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যা করতে চায়, ঘরে তা‘লীম করতে চায় এবং তালেবে ইলমগণ গ্রামে বা মহল্লায় তা‘লীম করতে চায়, তাদের জন্য তা সহজ হয়। আমি প্রতিটি মাসআলার সাথে দলীল যোগ করা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং ব্যাখ্যাটির নামকরণ করেছি ‘আল-আহকামুল মুলিম্মাহ ‘আলাদ-দুরুসিল মুহিম্মাহ’। শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ. কিছু কথা যোগ করেন আমি সেগুলোর নিচে দাগ দেই। যাতে পার্থক্য নির্ধারণ করা যায়। অবশেষে যে সব ভাইয়েরা এ কিতাবটি সম্পর্কে জানবেন এবং পাঠ করবেন, তাদের নিকট আমার আশা তারা যেন এ পুস্তিকাটি সম্পর্কে কোনো দিকনির্দেশনা বা মতামত দিতে কার্পণ্য না করেন। মানুষ নিজে নিজে খুব কমই সফল হয়, ভাইদের দ্বারাই অধিক উপকৃত হয়।
আল্লাহর নিকট তার সুন্দর নামসমূহ ও বড় বড় গুণাবলীর মাধ্যমে এ কামনা করি যে, তিনি যেন এ পুস্তিকাটি ও তার ব্যাখ্যা দ্বারা আমাদের উপকার করেন। আর আমার আমলটিকে যেন একমাত্র আল্লাহর জন্য করার তাওফীক দেন। অনুরূপভাবে এ পুস্তিকার লেখক ও ব্যাখ্যাকারীকে যেন উত্তম বিনিময় ও সর্বোচ্চসাওয়াব দান করেন। আমাদেরকে ও লেখককে সব চেয়ে বড় জান্নাতে নবীদের সাথে, সিদ্দিকীনদের সাথে এবং শহীদদের সাথে একত্র করেন। তিনিই এর যথাযথ তত্ত্বাবধায়ক ও ক্ষমতাবান।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين .
আব্দুল আযীয ইবন দাউদ আল-ফায়েয