১
মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দরসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান
লেখকঃ শাইখ আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
ত্রয়োদশ দরস: অযুর ফরযসমুহ
অযুর ফরযসমূহ; এগুলো মোট ছয়টি:
১. মুখমণ্ডল ধৌত করা। নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া ও কুলি করা এর অন্তর্ভুক্ত।
২. কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা।
৩. সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা। কানও মাথার অন্তর্ভুক্ত।
৫. দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
৪. অযুর কার্যাবলী পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা ও
৬. এগুলো পরপর সম্পাদন করা।
উল্লেখ থাকে যে, মুখমণ্ডল, উভয় হাত ও পা তিনবার করে ধৌত করা মুস্তাহাব। এভাবে তিনবার কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া মুস্তাহাব। ফরয মাত্র একবারই। তবে, মাথামাসেহ একাধিকবার করা মুস্তাহাব নয়। এ ব্যাপারে কতিপয় সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে।
ব্যাখ্যা:
অযুর ফরয সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قُمۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغۡسِلُواْ وُجُوهَكُمۡ وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ ٦﴾ [ المائدة : ٦ ]
“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬]
প্রথম ফরয: মুখমণ্ডল ধৌত করা, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া ও কুলি করা এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার কারণ, এ দু’টি অঙ্গ চেহারার অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া যতজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অযুর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন সবাই কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا توضأ أحدكم فليجعل في أنفه ماء ثم لينثره»
“যখন কোনো ব্যক্তি অযু করে, সে যেন নাকে পানি দেয় অতঃপর নাক ঝেড়ে ফেলে”। [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী।]
অযুর দ্বিতীয় ফরয: দুই হাত ধোয়া। আল্লাহ তা‘আলাতা‘আলা বলেন,
وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ
কনুইসহ ধোয়া ফরয। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযুতে কনুই ধুইতেন।
তৃতীয় ফরয: মাথা মাসেহ করা। আর কান মাথার অংশ হিসেব ধর্তব্য হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«الأذنان من الرأس»
“উভয় কান মাথার অংশ”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৪৪।]
কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযুতে কান ও মাথা মাসেহ করতেন।
চতুর্থ ফরয: দুই পা টাখনুসহ ধোয়া। কারণ আল্লাহ বলেন,
وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ
পঞ্চম ফরয: অযুর কার্যাবলী পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা অযুর কার্যসমূহকে ধারাবাহিক উল্লেখ করেছেন। দুই ধোয়ার বস্তুর মাঝে মাসেহ করার একটি বিষয়কে নিয়ে এসেছেন। একই ধরনের বস্তুদের মধ্যখানে অন্য বস্তু উল্লেখ করে ভিন্ন করে দিয়েছেন। এর দ্বারা প্রতিফলিত হয় যে, তরতীব বা ধারাবাহিকতা জরুরী। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং অযুর পদ্ধতি বর্ণনায় এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। আর তার কথা ও আমল সবই কুরআনের ব্যাখ্যা।
ষষ্ঠ ফরয: অযুর কর্মগুলো পরপর সম্পাদন করা। এমন করবে না যে, একটি ধোয়ার পর তা শুকিয়ে যায়। প্রমাণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন তার উম্মতের শরী‘আতের বিধানের প্রবর্তক এবং ব্যাখ্যাদানকারী। আর যত জন তার অযুর পদ্ধতির বর্ণনা করেছেন তারা সবাই পরপর সম্পাদন করার কথাই বলেছেন।
১. মুখমণ্ডল ধৌত করা। নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া ও কুলি করা এর অন্তর্ভুক্ত।
২. কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা।
৩. সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা। কানও মাথার অন্তর্ভুক্ত।
৫. দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
৪. অযুর কার্যাবলী পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা ও
৬. এগুলো পরপর সম্পাদন করা।
উল্লেখ থাকে যে, মুখমণ্ডল, উভয় হাত ও পা তিনবার করে ধৌত করা মুস্তাহাব। এভাবে তিনবার কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া মুস্তাহাব। ফরয মাত্র একবারই। তবে, মাথামাসেহ একাধিকবার করা মুস্তাহাব নয়। এ ব্যাপারে কতিপয় সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে।
ব্যাখ্যা:
অযুর ফরয সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قُمۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغۡسِلُواْ وُجُوهَكُمۡ وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ ٦﴾ [ المائدة : ٦ ]
“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬]
প্রথম ফরয: মুখমণ্ডল ধৌত করা, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া ও কুলি করা এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার কারণ, এ দু’টি অঙ্গ চেহারার অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া যতজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অযুর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন সবাই কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا توضأ أحدكم فليجعل في أنفه ماء ثم لينثره»
“যখন কোনো ব্যক্তি অযু করে, সে যেন নাকে পানি দেয় অতঃপর নাক ঝেড়ে ফেলে”। [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী।]
অযুর দ্বিতীয় ফরয: দুই হাত ধোয়া। আল্লাহ তা‘আলাতা‘আলা বলেন,
وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ
কনুইসহ ধোয়া ফরয। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযুতে কনুই ধুইতেন।
তৃতীয় ফরয: মাথা মাসেহ করা। আর কান মাথার অংশ হিসেব ধর্তব্য হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«الأذنان من الرأس»
“উভয় কান মাথার অংশ”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৪৪।]
কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযুতে কান ও মাথা মাসেহ করতেন।
চতুর্থ ফরয: দুই পা টাখনুসহ ধোয়া। কারণ আল্লাহ বলেন,
وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ
পঞ্চম ফরয: অযুর কার্যাবলী পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা অযুর কার্যসমূহকে ধারাবাহিক উল্লেখ করেছেন। দুই ধোয়ার বস্তুর মাঝে মাসেহ করার একটি বিষয়কে নিয়ে এসেছেন। একই ধরনের বস্তুদের মধ্যখানে অন্য বস্তু উল্লেখ করে ভিন্ন করে দিয়েছেন। এর দ্বারা প্রতিফলিত হয় যে, তরতীব বা ধারাবাহিকতা জরুরী। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং অযুর পদ্ধতি বর্ণনায় এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। আর তার কথা ও আমল সবই কুরআনের ব্যাখ্যা।
ষষ্ঠ ফরয: অযুর কর্মগুলো পরপর সম্পাদন করা। এমন করবে না যে, একটি ধোয়ার পর তা শুকিয়ে যায়। প্রমাণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন তার উম্মতের শরী‘আতের বিধানের প্রবর্তক এবং ব্যাখ্যাদানকারী। আর যত জন তার অযুর পদ্ধতির বর্ণনা করেছেন তারা সবাই পরপর সম্পাদন করার কথাই বলেছেন।