১
সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান ও মর্যাদার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের আকীদা-বিশ্বাস
লেখকঃ ড. মো: আমিনুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহাবীগণকে গালি দেওয়ার অপরিহার্য পরিণতি
সালাফে সালেহীন তথা পূর্ববর্তী নেক বান্দাগণ সাহাবীগণের প্রতি অপবাদ আরোপ এবং তাদেরকে গালি দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সজাগ ছিলেন এবং অপবাদদানকারী ও তাদের উদ্দেশ্য থেকে সতর্ক করেছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে এ গালি দীনের মূলনীতিকে যে অপরিহার্য অসঙ্গতির দিকে ধাবিত করবে, সে সম্পর্কে তাদের জানা থাকার কারণে। সুতরাং তাদের কেউ কেউ কম কথা বলেছেন; কিন্তু সে কথাগুলো গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, সে কথাগুলো এ অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করব। অতঃপর কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করব যা সচরাচর গালির সাথে সম্পৃক্ত।
সকল সাহাবী অথবা তাদের অধিকাংশকে কুফুরী বা ফাসেকীর সাথে সম্পর্কিত করে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকারের গালি দান অথবা খোলাফায়ে রাশেদীনের মতো কোনো সাহাবী, যার মর্যাদার ব্যাপারে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বর্ণনা রয়েছে, তার ন্যায়পরায়ণতার উপর প্রদত্ত অপবাদের যুক্তি খণ্ডন প্রসঙ্গে প্রদত্ত বক্তব্যগুলো এখানে একত্রিত করব।
ইমাম মালেক রহ. যেসব ব্যক্তি সাহাবীগণকে গালি দেয়, তাদের সম্পর্কে বলেন, “তারা এমন সম্প্রদায়, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রের মধ্যে কালিমা লেপন করতে চেয়েছে; কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হয় নি। অতঃপর তারা তাঁর সাহাবীগণের ব্যাপারে দূর্নাম করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মন্দ ব্যক্তি বলে আখ্যায়িত করতে চেয়েছে, তারা চায় এটা বলতে যে, সে যদি সৎব্যক্তি হত, তবে তাঁর সাহাবীগণও সৎ হতেন।” [‘সাহাবীদেরকে গালি দেওয়ার বিধান’ প্রসঙ্গে পুস্তিকা, পৃষ্ঠা ৪৬; আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৮০ থেকে সংকলিত।] [না‘উযুবিল্লাহ]
ইমাম আহমদ রহ. বলেন, “যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে সাহাবীগণের মধ্য থেকে কারও ব্যাপারে মন্দ সমালোচনা করতে দেখবে, তখন তুমি তাকে সন্দেহ করবে যে, সে মুসলিম কিনা।” [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৮/১৪২; আরও দেখুন: আল-মাসায়েল ওয়ার রাসায়েল, যাতে ইমাম আহমাদের আকীদা বিষয়ক বর্ণনা জমা করা হয়েছে। মুদ্রণ: দারু তায়্যিবা, ২/৩৬৩, ৩৬৪]
আবু যুর‘আ আর-রাযী রহ. বলেন, “যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে কারও মর্যাদাহানি করতে দেখবে তখন তুমি জেনে রাখবে যে, সে হলো নাস্তিক আর এটা এ জন্য যে, আমাদের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য এবং আল-কুরআন সত্য; আর এ কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে (শ্রেষ্ঠ মানুষ) হিসেবে পরিচিতি দান করেছে। আর তারা চাচ্ছে আমাদের সাক্ষীদেরকে (সাহাবীগণকে) বিতর্কিত করতে, যাতে তারা কুরআন ও সুন্নাহকে বাতিল করতে পারে। আর এ লক্ষ্যে তাদের জন্য উত্তম কৌশল হলো দূর্নাম রটনার মাধ্যমে তাদেরকে বিতর্কিত করা। সুতরাং তারা হলো নাস্তিক।” [খতিব আল-বাগদাদী, আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ৯৭]
আর ইমাম আবু না‘ঈম রহ. বলেন, “সুতরাং কেউ যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ত্রুটি ও ভুল-ভ্রান্তির পিছনে না লাগে; বরং সে যেন তাদের পক্ষ থেকে রাগান্বিত অবস্থায় মনের অজান্তে তাঁর দীনের ব্যাপারে মন্দ কিছু হয়ে থাকলে, সে ব্যাপারে তাদেরকে হিফাযত করে।” [আবু না‘ঈম, ইমামত, পৃষ্ঠা ৩৪৪]
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি তার জিহ্বাকে তাদের ব্যাপারে মন্দ উদ্দেশ্যে সম্প্রসারিত করবে, আমি তার জিহ্বাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, ইসলাম ও মুসলিমগণ থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেব।” [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৭৬]
এখানে আলেমদের সতর্ককরণের বিষয়টি ব্যাপক, যা সকল সাহাবীকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর চিন্তা করুন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের কথা, “...সাহাবীগণের মধ্যে কোনো একজনের ব্যাপারে মন্দ সমালোচনা করবে...” এবং আবু যুর‘আ-এর কথা: “...আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্যে কারও মর্যাদাহানি করতে দেখবে...”। সুতরাং তারা সতর্ক করেছেন শুধুমাত্র মর্যাদাহানিকরণ অথবা মন্দ সমালোচনা করা থেকে। যা গালি অথবা কাফির বলার চেয়ে নিম্নমানের অপরাধ। আর এ কথাগুলো ইমামগণ বলেছেন সাহাবীগণের মধ্য থেকে কোনো একজনের ব্যাপারে যে কেউ এ ধরণের কাজ করবে তার ব্যাপারে, সকল সাহাবীর ব্যাপারে নয়। সুতরাং তাকে কী বলা হবে, যে ব্যক্তি তাদের অধিকাংশকে গালি দেয়?
সকল সাহাবী অথবা তাদের অধিকাংশকে কুফুরী বা ফাসেকীর সাথে সম্পর্কিত করে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকারের গালি দান অথবা খোলাফায়ে রাশেদীনের মতো কোনো সাহাবী, যার মর্যাদার ব্যাপারে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বর্ণনা রয়েছে, তার ন্যায়পরায়ণতার উপর প্রদত্ত অপবাদের যুক্তি খণ্ডন প্রসঙ্গে প্রদত্ত বক্তব্যগুলো এখানে একত্রিত করব।
ইমাম মালেক রহ. যেসব ব্যক্তি সাহাবীগণকে গালি দেয়, তাদের সম্পর্কে বলেন, “তারা এমন সম্প্রদায়, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রের মধ্যে কালিমা লেপন করতে চেয়েছে; কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হয় নি। অতঃপর তারা তাঁর সাহাবীগণের ব্যাপারে দূর্নাম করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মন্দ ব্যক্তি বলে আখ্যায়িত করতে চেয়েছে, তারা চায় এটা বলতে যে, সে যদি সৎব্যক্তি হত, তবে তাঁর সাহাবীগণও সৎ হতেন।” [‘সাহাবীদেরকে গালি দেওয়ার বিধান’ প্রসঙ্গে পুস্তিকা, পৃষ্ঠা ৪৬; আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৮০ থেকে সংকলিত।] [না‘উযুবিল্লাহ]
ইমাম আহমদ রহ. বলেন, “যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে সাহাবীগণের মধ্য থেকে কারও ব্যাপারে মন্দ সমালোচনা করতে দেখবে, তখন তুমি তাকে সন্দেহ করবে যে, সে মুসলিম কিনা।” [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৮/১৪২; আরও দেখুন: আল-মাসায়েল ওয়ার রাসায়েল, যাতে ইমাম আহমাদের আকীদা বিষয়ক বর্ণনা জমা করা হয়েছে। মুদ্রণ: দারু তায়্যিবা, ২/৩৬৩, ৩৬৪]
আবু যুর‘আ আর-রাযী রহ. বলেন, “যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে কারও মর্যাদাহানি করতে দেখবে তখন তুমি জেনে রাখবে যে, সে হলো নাস্তিক আর এটা এ জন্য যে, আমাদের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য এবং আল-কুরআন সত্য; আর এ কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে (শ্রেষ্ঠ মানুষ) হিসেবে পরিচিতি দান করেছে। আর তারা চাচ্ছে আমাদের সাক্ষীদেরকে (সাহাবীগণকে) বিতর্কিত করতে, যাতে তারা কুরআন ও সুন্নাহকে বাতিল করতে পারে। আর এ লক্ষ্যে তাদের জন্য উত্তম কৌশল হলো দূর্নাম রটনার মাধ্যমে তাদেরকে বিতর্কিত করা। সুতরাং তারা হলো নাস্তিক।” [খতিব আল-বাগদাদী, আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ৯৭]
আর ইমাম আবু না‘ঈম রহ. বলেন, “সুতরাং কেউ যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ত্রুটি ও ভুল-ভ্রান্তির পিছনে না লাগে; বরং সে যেন তাদের পক্ষ থেকে রাগান্বিত অবস্থায় মনের অজান্তে তাঁর দীনের ব্যাপারে মন্দ কিছু হয়ে থাকলে, সে ব্যাপারে তাদেরকে হিফাযত করে।” [আবু না‘ঈম, ইমামত, পৃষ্ঠা ৩৪৪]
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি তার জিহ্বাকে তাদের ব্যাপারে মন্দ উদ্দেশ্যে সম্প্রসারিত করবে, আমি তার জিহ্বাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, ইসলাম ও মুসলিমগণ থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেব।” [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৭৬]
এখানে আলেমদের সতর্ককরণের বিষয়টি ব্যাপক, যা সকল সাহাবীকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর চিন্তা করুন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের কথা, “...সাহাবীগণের মধ্যে কোনো একজনের ব্যাপারে মন্দ সমালোচনা করবে...” এবং আবু যুর‘আ-এর কথা: “...আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্যে কারও মর্যাদাহানি করতে দেখবে...”। সুতরাং তারা সতর্ক করেছেন শুধুমাত্র মর্যাদাহানিকরণ অথবা মন্দ সমালোচনা করা থেকে। যা গালি অথবা কাফির বলার চেয়ে নিম্নমানের অপরাধ। আর এ কথাগুলো ইমামগণ বলেছেন সাহাবীগণের মধ্য থেকে কোনো একজনের ব্যাপারে যে কেউ এ ধরণের কাজ করবে তার ব্যাপারে, সকল সাহাবীর ব্যাপারে নয়। সুতরাং তাকে কী বলা হবে, যে ব্যক্তি তাদের অধিকাংশকে গালি দেয়?