hadith book logo

শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মাতৃদুগ্ধদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

লেখকঃ ড. হুসাইন আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে উঠার অধিকার

সন্তানকে শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব পিতা-মাতার। তাদেরকে লিখতে এবং পড়তে শিক্ষা দেয়ার জন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী করা যায় পিতা-মাতাকে। এক্ষেত্রে লিখা পড়া শিক্ষা দেবার সাথে সাথে পারিবারিক, বৈষয়িক এবং আদর্শিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। রাসূল (সা.) পিতা-মাতাকে নির্দেশ দিয়েছেন সন্তানকে লেখাপড়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং খেলাধুলা বিষয়ে শিক্ষা দেবার জন্য। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে:

‘‘আবু রাফের মুনির আবু সালমান হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) এরশাদ করেন, পিতা-মাতার উপর সন্তানের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি সন্তানের নিকটও পিতা-মাতার প্রাপ্য অধিকার রয়েছে। পিতা-মাতা হতে সন্তানের অধিকার হলো লিখতে শিক্ষা দেবে, সাঁতার শিক্ষা দেবে এবং তীবন্দাজী শিক্ষা দেবে। তাদের এমন কিছু শিক্ষা দেবে না, যা সন্তানকে ন্যায়নিষ্ঠা করে না।’’ [ইসলামী ঐতিহ্য পরিবার পরিকল্পনা, পৃ. ৫৪; শিশু পরিচর্যা, পৃ. ৫৬।] রাসূল (সা.) আরো এরশাদ করেন:

‘‘শিশুদের স্নেহ কর এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন কর। তোমরা তাদের সাথে কোন ওয়াদা করলে তা পূরণ কর। কেননা তাদের দৃষ্টিতে তোমরাই তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করছ।’’ [. ইসলামে শিশু পরিচর্যা, পৃ. ৪।]

অন্যত্র হাদীস শরীফে এসেছে: الزموا أولآدكم ‘‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের প্রতি সর্বদা দৃষ্টি রাখ।’’ [. প্রাগুক্ত, পৃ. ৭৭।]

অন্যত্র হাদীস শরীফে এসেছে: ‘‘তোমরা নিজেদের সন্তানদের স্নেহ কর এবং তাদের ভাল ব্যবহার শেখাও।’’ [. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযিদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মাজাহ, সুনানু ইবনু মাজাহ, কিতাবুল আদাব, (দিল্লী: কুতুবখানা রশীদিয়া, তা.বি), হাদীস নং ৩, পৃ. ২৬৯।]

«لأن يؤدب الر جل ولده خير من أن يتصدق بصاع»

‘‘ব্যক্তির সন্তানকে সদাচার শিক্ষা দেয়া এক সা দান খয়রাতের চেয়েও উত্তম।’’ [. আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবন ঈসা, জামে তিরমিজি (দিল্লী: কুতুবখানা রশীদিয়া, তা.বি), হাদীস নং ১৯৫৭।]

«علموا اولادكم فإنهم مخلوقون لزمان غير زمانكم»

‘‘তোমরা সন্তানদের জ্ঞান দান কর। কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের সৃষ্ট।’’ [. ইসলামে শিশু পরিচর্যা, পৃ. ৭৮।]

সন্তানের প্রতি পিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে রাসূল (সা) আরো বলেন:

«من له ولد فليحسن اسمه وأدبه فإذا بلغ فليزوجه فإن بلغ ولم يز وجه فاصاب إثما فإنما إثمة على أبيه»

‘‘কারো সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে তার কর্তব্য সে যেন সুন্দর নাম রাখে এবং উত্তম আদব শিক্ষা দেয়। যখন সে বয়:প্রাপ্ত হবে তখন তার বিবাহ দিবে। যদি সে বয়:প্রাপ্ত হয় আর পিতা যদি বিবাহ না দেয় তখন সন্তান কোন গুনাহের কাজ করলে সে গুনাহ তার পিতার হবে।’’ [. সম্পাদনা পরিষদ, ইসলামিয়াত, সংস্ক. ৯ (ঢাকা: কোরআন মহল, খৃ. ১৯৯০), পৃ. ৭৫।]