hadith book logo

শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মাতৃদুগ্ধদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

লেখকঃ ড. হুসাইন আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

শিশুর আদর্শ খাবার

‘মায়ের দুধের বিকল্প নেই’-এ কথাটি সর্বজনবিদিত। চিকিৎসা বিজ্ঞান বহু গবেষণার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, শিশুর জন্য মায়ের দুধই সর্বোত্তম ও নিরাপদ খাবার। মায়ের দুধে রয়েছে এমন সব উপাদান যা কোন ধরনের সংক্রমণ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি ছাড়াও মায়ের দুধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। পাঁচ মাস বয়স পুরা হওয়া পর্যন্ত শিশুর জন্য যা প্রয়োজন তার সবই মায়ের দুধে আছে। শিশু খুব তাড়াতাড়ি ও সহজেই বুকের দুধ হজম করতে পারে। কেননা মায়ের দুধে আছে:

ক) শিশুর জন্য সঠিক পরিমাণে এবং সবচাইতে উপযোগী আমিষ ও চর্বি।

খ) অন্যান্য দুধের চাইতে বেশী পরিমাণ ল্যাকটোজ বা শর্করা যা শিশুর প্রয়োজন।

গ) যথেষ্ঠ পরিমাণে ভিটামিন বা খাদ্য প্রাণ। তাই মায়ের দুগ্ধ পান ক রা নো হলে শিশুকে আলাদাভাবে কোন ভিটামিন দিতে হয় না।

ঘ) শিশুর জন্য প্রয়োজন যথেষ্ঠ লৌহ (আয়রন)। এর প্রায় সবটাই সহজে হজম হয় বলে বুকের দুধ পান করলে শিশু রক্ত শূন্যতায় ভোগে না।

ঙ) প্রচুর পরিমাণে পানি, যে কারণে গরম কালেও শিশুকে আলাদা পানি দিতে হয় না।

চ) যথেষ্ঠ পরিমাণে লবণ ও খনিজ পদার্থ।

ছ) এক ধরনের এনজাইম, যা চর্বি হজম করতে সাহায্য করে।

আল্লাহ তাআলা শিশুর শরীরের চাহিদা অনুযায়ী মায়ের স্তনে সুপরিমিত উপাদান সহকারে দুধ সৃষ্টি করতে থাকেন। এমনকি শিশু যে বয়সে যে পরিমাণ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে, আল্লাহর ইচ্ছায় সেই পরিমাণ তাপ মাত্রায় দুধ তৈরী হয়ে থাকে। [. মুহাম্মাদ শফিকুর রহমান, ইসলাম ও মায়ের দুধ, প্রজন্ম, ১৫ শ বর্ষ, ৩য় সংখ্যা, (ডিসেম্বর-১৯৯৫), পৃ. ৭।]