hadith book logo

শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মাতৃদুগ্ধদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

লেখকঃ ড. হুসাইন আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

বৈধ আয় থেকে প্রতিপালিত হবার অধিকার

নিজে যেমন হালাল উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা ওয়াজিব, তেমনি সন্তান প্রতিপালন বৈধ উপার্জন থেকে খরচ করা কর্তব্য। পুত্র সন্তান বলেগ না হওয়া পর্যন্ত এবং কন্যা বিবাহ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তাদের পিতার উপর বর্তায়, তাঁর সামর্থ অনুযায়ী। [. বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, পৃ. ৬০১।] যেমন পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে:

﴿وَعَلَى ٱلۡمَوۡلُودِ لَهُۥ رِزۡقُهُنَّ وَكِسۡوَتُهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ لَا تُكَلَّفُ نَفۡسٌ إِلَّا وُسۡعَهَاۚ﴾

‘‘জনকের কর্তব্য যথারীতি তাদের (মাতাগণের) ভরণপোষণ করা। কাহাকেও তার সাধ্যাতীত কার্যভার দেয়া হয় না।’’ [. আল-কুরআন, ২:২৩৩] অবৈধ আয় যথা ঘুষ, চুরি, সুদ, প্রতারণা, অসৎকর্ম, নেছা, জুয়া ইত্যাদি উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সন্তান প্রতিপালনের বিধান ইসলামে নেই। এ ধরনের অপকর্মের জন্যে সন্তানের কোন দায়িত্ব নেই। রাসূল (সা) বৈধ পন্থায় উপার্জনে উৎসাহিত করার নিমিত্তে এরশাদ করেন:

«طلب الرزق الحلال من أفضل الفرائض»

‘‘হালাল জীবিকা উপার্জন করা সর্বাপেক্ষা বড় ফরজ বা কর্তব্য।’’ [. আবু বকর আহমাদ ইবন হুসাইন আল-বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা, (বৈরুত: দারুল মা’আরিফ হি. ১৪০৬), শুয়াবুল ঈমান।] অন্যত্র এরশাদ হয়েছে:

«سئل النبى (ص) عن افضل الكسب فقال بيع مبرور وعمل الرجل بيده .»

সাহাবীগণ একদা রাসূল (সা) কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন প্রকারের উপার্জন উত্তম? রাসূল (সা) বললেন, ব্যক্তির নিজ হাতে কাজের বিনিময় বা সুষ্ঠু ব্যবসালব্ধ মুনাফা।’’ [.মুসনাদের আহমাদ, হাদীস নং ৫২৭৬।] তাছাড়া নামাজ সমাপ্ত হলে আল্লাহর অনুগ্রহ বা জীবিকা অনুসন্ধানের জন্য জমিনে ছড়িয়ে পড়তে বলা হয়েছে। যেমন- এরশাদ হচ্ছে:

﴿فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ﴾ [ الجمعة :10]

‘‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’’ [. আল-কুরআন, ৬২:১০।] পিতা-মাতা, শিক্ষকসহ সকলেই সন্তান প্রতিপালনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা এ দায়িত্বের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলার নিকট জবাবদিহি করতে হবে। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে:

«كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته .»

‘‘তোমরা প্রত্যেকেই (রাখালের মত) দেখাশুনাকারী, আর এ দেখাশুনার ব্যাপারে প্রত্যেকেই জবাবদিহি করতে হবে।’’ [. আবি যাকারিয়া ইযাহিয়া ইবন শারফ আন-নাবাবী, রিয়াদুস সালেহীন, খ. ১ (ঢাকা: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, খৃ. ২০০৩), হাদীস নং ৩০০।] আর আদর্শবান সন্তান দুনিয়াতে যেমন সুখ ও শান্তির কারণ তেমনি মৃত্যুর পরে ধন, বাহুবল ও প্রভাব প্রতিপত্তি যখন কোন কাজে লাগবে না তখন সৎ সন্তানই পরকালীন কল্যাণে আসবে। যেমন হাদীস শরীফে রাসূল (সা) এরশাদ করেছেন:

‘‘আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত নিশ্চয় রাসূল(সা) এরশাদ করেছেন, যখন মানুষ এন্তেকাল করে তখন তার সমস্ত আমল বন্দ হয়ে যায়, তবে তিনটি কাজ যার প্রতিদান (এন্তেকালের পরেও) পেতে থাক। ১. এমন সদকা যার কল্যাণকারীতা চলতে থাকে, ২. এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হ, ৩. এমন সৎকর্মশীল সন্তান যে তার পিতা-মাতার জন্য দোয় করে।’’ [. মুসলিম ইব্ন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী, সহীহ মুসলিম, ৩. খ, পৃ. ১২৫৫।]

উপসংহারে বলা যায় শিশুকে সুস্থ্য, সবল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কতটুকু আর তাদের নিকট শিশুদের অধিকার কতটুকু এ বিষয়ে অত্র প্রবন্ধে দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে আধুনিকতার অনুসারী এক শ্রেণীর মায়েরা নিজেদের সৌন্দর্যহানীর ভয় ও আভিজাত্য রক্ষার্থে স্তন্যদানে অনীহা প্রকাশ করে থাকে। এ প্রবন্ধে আলোচিত স্তন্যদানের ইসলামী এবং বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তাদেরকে দুগ্ধদানে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করবে। ফলে নতুন প্রজন্ম তাদের ন্যায্য অধিকার পেয়ে সু্স্থ্য সবল ও আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ পাবে। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সামান্যতম ভূমিকা রাখলে আমার শ্রম স্বার্থক হবে। আমিন।