১
শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মাতৃদুগ্ধদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
লেখকঃ ড. হুসাইন আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
মাতুদুগ্ধ শিশুর প্রথম খাবার
নবজাতকের জন্মের পর তার উপযোগী প্রথম খাবার হল মায়ের বুকের শালদুধ। যা মায়ের গর্ভকালীন সময়ে ৬/৭ মাস থেকে আল্লাহ তা’আলা তার রহমত স্বরূপ শিশুর প্রয়েঅজন ও চাহিদা অনুযায়ী মায়ের স্তনে সৃষ্টি করে দেন। স্বল্প পরিমাণের হলুদান্ড এ তরল দুগ্ধটুকুই শিশুর প্রথম জীবনের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। শালদুধকে আল্লাহ তাআলা মায়ের স্বাভাবিক দুধের চেয়ে অধিক আমিষ এবং ভিটামিন ‘এ’ দিয়ে নবজাতকের প্রথম সঠিক ও সুষম খাদ্য হিসেবে সৃষ্টি করে থাকেন। জন্মের পর খাদ্য হিসেবে শিশুর যা যা দরকার তার সকল উপাদান শালদুধে বিদ্যমান। শালদুধের পর যে দুধ বুকে আসে তার তুলনায় শালদুধে অনেক রোগ প্রতিরোধক উপাদান ও শ্বেতকণিকা থাকে যা শিশুকে বিভিন্ন রোগজীবাণু হতে রক্ষা করে। সুতরাং শালদুধ হচ্ছে শিশুর প্রথম টিকা। [. Dr. F. Savage King Helping Mothers to Breastfeed, অনু. শামীম আহমেদ (ঢাকা: ১৯৯৪), পৃ. ১৫।] শালদুধে যে সব উপাদান থাকে তা শিশুর কচি ও অপরিণত পেট এবং অন্ত্রকে পরিপক্ক হতে সাহায্য করে। এ সব গ্রোথ ফ্যাক্টর শিশুর অন্ত্রণালীকে দুধ হজম করতে সাহায্য করে। এছাড়া যে সব আমিষ জাতীয় বস্ত্ত শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে পেট থেকে শরীরের ভেতর ঢুকতে এই ‘গ্রোথ ফ্যাক্টর’ বাধা প্রদান করে। সেহেতু শালদুধ দেয়ার আগে অন্য কোন খাবার যেমন মধু, পানি, মিছরীর শরবত, গরুর দুধ ইত্যাদি দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। উল্লেখিত খাবার দেয়া হলে শিশুর অন্ত্র ঠিকমতো পরিপক্ক হয় না, বরং ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা থাকে এবং এর ফলে প্রায়ই তার এলার্জি হতে দেখা যায়। শালদুধ একটি রেচকের মত কাজ করে শিশুর পেটের প্রথম কালো পায়খানা বা মিকোনিয়াম বের করে দিতে সাহায্য করে। মিকোনিয়াম বেশিক্ষণ পেটে থাকলে শিশুর জন্ডিস হওয়ার আশংকা থাকে। শিশু জন্মের এক থেকে দু সপ্তাহ ধরে মায়ের বুকের দুধের পরিমাণ বাড়তে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে উপদানের মধ্যেও পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ শালদুধ কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণতাপ্রাপ্ত দুধ হয়ে যায়। দেখতে গরুর দুধের চেয়ে পাতলা বলে অনেক মা এ দুধের কার্যকারিতা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। অথচ শিশুর বেড়ে উঠার জন্যে এবং তার শারীরিক ও মানসিক ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে যে সব উপাদান প্রয়োজন, তা তার চাহিদা অনুযায়ী বুকের দুধে সংমিশ্রণ ঘটতে থাকে। কেননা, শিশু জন্মের পর এক দিনেই বেড়ে ওঠে না, বরং ক্রমান্বয়ে সে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। যেমন আল-কুরআনে এসেছে:
‘‘যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অত:পর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন। [. আল-কুরআন, ৮২:৭।] তার বেড়ে উঠার গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আল্লাহ তা’আলা মায়ের দুধের উপাদান পরিবর্তন করে থাকেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে শিশু বেড়ে উঠার জন্য যে পরিমাণ পানি আছে বলে তাকে আলাদা করে পানি দেবার কোন প্রয়োজন নেই।’’ [. Dr. F. Savage, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬।]
‘‘যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অত:পর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন। [. আল-কুরআন, ৮২:৭।] তার বেড়ে উঠার গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আল্লাহ তা’আলা মায়ের দুধের উপাদান পরিবর্তন করে থাকেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে শিশু বেড়ে উঠার জন্য যে পরিমাণ পানি আছে বলে তাকে আলাদা করে পানি দেবার কোন প্রয়োজন নেই।’’ [. Dr. F. Savage, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬।]