hadith book logo

অন্তর-বিধ্বংসী বিষয়সমূহ ঝগড়া-বিবাদ

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

প্রশংসনীয় বিতর্ক:

যে বিতর্ক খালেস নিয়ত ও কোনো কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তা হলো, প্রশংসনীয়। আর এ ধরনের বিতর্ক আল্লাহর দ্বীনের জন্য করা একজন মুসলিমের ওপর দায়িত্ব ও কর্তব্য। আল্লামা ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, যে ব্যক্তি নাস্তিক মুরতাদ ও বেদাতিদের সাথে এমন বিতর্ক না করে, যে বিতর্ক তাদের মুলোৎপাটন ও জড় কেটে দেয়, তাহলে সে ইসলামের হক আদায় করেনি এবং সে ঈমান ও ইলমের চাহিদা পূরণ করেনি। তার কথা দ্বারা তার অন্তরের তৃপ্তি ও প্রশান্তি লাভ করেনি। আর তার কথা তার ঈমান ও ইলমের কোনো উপকারে আসেনি। [মাজমুয়ুল ফাতওয়াহ ১৬৪/২০।]

একটি কথা মনে রাখতে হবে, হকের পক্ষে বিতর্ক করা মহান ইবাদত। যখন নূহ আ. এর কওমের লোকেরা নূহ আ. কে বলল,

﴿قَالُواْ يَٰنُوحُ قَدۡ جَٰدَلۡتَنَا فَأَكۡثَرۡتَ جِدَٰلَنَا فَأۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ﴾ [ هود :32]

“তারা বলল, ‘হে নূহ, তুমি আমাদের সাথে বাদানুবাদ করছ এবং আমাদের সাথে অতিমাত্রায় বিবাদ করেছ। অতএব যার প্রতিশ্রুতি তুমি আমাদেরকে দিচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে আস, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও”। [সূরা হূদ, আয়াত: ৩২]

এখানে একটি কথা প্রমাণিত হয়, নূহ ‘আলাইহিস সালাম তার কাওমের লোকদের সাথে হককে জানানো ও মানানোর জন্য বিতর্ক করেন। এ কারণেই তিনি তাদের কথার জবাব দেন এবং বলেন,

﴿قَالَ إِنَّمَا يَأۡتِيكُم بِهِ ٱللَّهُ إِن شَآءَ وَمَآ أَنتُم بِمُعۡجِزِينَ ٣٣ وَلَا يَنفَعُكُمۡ نُصۡحِيٓ إِنۡ أَرَدتُّ أَنۡ أَنصَحَ لَكُمۡ إِن كَانَ ٱللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغۡوِيَكُمۡۚ هُوَ رَبُّكُمۡ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ﴾ [ هود :33-34]

“সে বলল, ‘আল্লাহই তো তোমাদের কাছে তা হাজির করবেন, যদি তিনি চান। আর তোমরা তাকে অক্ষম করতে পারবে না’। ‘আর আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, যদি আল্লাহ তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান। তিনি তোমাদের রব এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে”। [সূরা হুদ, আয়াত: ৩৩-৩৪]

কুরআন কারীম নবীদের বিতর্কের কাহিনীর আয়াত দ্বারা ভরপুর। যেমন, মূসা ‘আলাইহিস সালামের ফিরআউনের সাথে বিতর্ক, নূহ ‘আলাইহিস সালামের তার কাওমের লোকদের সাথে, ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম নমরূদের সাথে ও তার পিতার সাথে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরাইশদের সাথে এবং সাহাবীদের মুশরিকদের সাথে বিতর্ক করেন। এ সব বিতর্ক হলো, হক পন্থীদের সাথে বাতিল পন্থীদের বিতর্ক, যাতে তারা হককে কবুল করে এবং বাতিল থেকে ফিরে আসে। আর এগুলো হলো, প্রশংসনীয় বিতর্ক।

অনুরূপভাবে কুরআনে যে মহিলাটির ঘটনা উল্লেখ করা হয়, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে ফাতওয়া চান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قَدۡ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوۡلَ ٱلَّتِي تُجَٰدِلُكَ فِي زَوۡجِهَا وَتَشۡتَكِيٓ إِلَى ٱللَّهِ وَٱللَّهُ يَسۡمَعُ تَحَاوُرَكُمَآۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعُۢ بَصِيرٌ ﴾ [ المجادلة :01]

আল্লাহ অবশ্যই সে রমনীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছিল আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিল। আল্লাহ তেমাদের কথোপকথন শোনেন। নিশ্চয় সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা”। [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০১]

মহিলাটি তার স্বামীর সাথে তার পরিণতি ও তার সাথে তার করণীয় সম্পর্কে জানতে চান। তার স্বামী তার জন্য হালাল নাকি হারাম? এ হলো, প্রশংসনীয় বিতর্ক।