hadith book logo

অন্তর-বিধ্বংসী বিষয়সমূহ ঝগড়া-বিবাদ

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

দুর্বল-ঈমান সম্পন্ন লোকদের বিতর্ক:

অনুরূপভাবে দুর্বল ঈমানদারদের পক্ষ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর্কের সম্মুখীন হন।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿كَمَآ أَخۡرَجَكَ رَبُّكَ مِنۢ بَيۡتِكَ بِٱلۡحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقٗا مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ لَكَٰرِهُونَ ٥ يُجَٰدِلُونَكَ فِي ٱلۡحَقِّ بَعۡدَ مَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى ٱلۡمَوۡتِ وَهُمۡ يَنظُرُونَ﴾ [ الأنفال :5-6]

“(এটা এমন) যেভাবে তোমার রব তোমাকে নিজ ঘর থেকে বের করেছেন যথাযথভাবে এবং নিশ্চয় মুমিনদের একটি দল তা অপছন্দ করছিল। তারা তোমার সাথে সত্য সম্পর্কে বিতর্ক করছে তা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর। যেন তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হচ্ছে, আর তারা তা দেখছে। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৫-৬] অর্থাৎ তারা যখন বুঝতে পারল যুদ্ধ ও লড়াই নিশ্চিত। তখন তারা তা অপছন্দ করল এবং বলল, আপনি যুদ্ধের কথা কেন আমাদের আগে জানায় নি? যাতে আমরা যুদ্ধের জন্য তৈরি ও প্রস্তুত হতাম? আমরা তো বের হয়েছি বাণিজ্যিক কাফেলার জন্য আমরা সৈন্য দলের উদ্দেশ্যে বের হই নাই। এ ছিল তাদের বিবাদ।

কাফিররা নবীদের সাথে তাদের উপস্থিতিতেও বিবাদ ও বিতর্ক করত। যেমন, হূদ ‘আলাইহিস সালাম তার কাওমের লোকেরা তার সাথে বিতর্ক করে এবং মূর্তি বিষয়ে তার সাথে ঝগড়া করে। আল্লাহ তা‘আলা হুদ আ. এর জবানে বলেন,

﴿قَالَ قَدۡ وَقَعَ عَلَيۡكُم مِّن رَّبِّكُمۡ رِجۡسٞ وَغَضَبٌۖ أَتُجَٰدِلُونَنِي فِيٓ أَسۡمَآءٖ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّا نَزَّلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٖۚ فَٱنتَظِرُوٓاْ إِنِّي مَعَكُم مِّنَ ٱلۡمُنتَظِرِينَ﴾ [ الأعراف :71]

“সে বলল, নিশ্চয় তোমাদের ওপর তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আযাব এ ক্রোধ পতিত হয়েছে। তোমরা কি এমন নামসমূহ সম্পর্কে আমাদের সাথে বিবাদ করছ, যার নাম করণ করছ তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা যার ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি? সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৭১] অর্থাৎ কতক মূর্তি নিয়ে তোমরা বিতর্ক করছ, যেগুলোর নাম করন তোমরা ও তোমাদের পূর্ব পুরুষরাই করছে। তারা কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না।?!

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ٱلَّذِينَ يُجَٰدِلُونَ فِيٓ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ بِغَيۡرِ سُلۡطَٰنٍ أَتَىٰهُمۡۖ كَبُرَ مَقۡتًا عِندَ ٱللَّهِ وَعِندَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۚ كَذَٰلِكَ يَطۡبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ قَلۡبِ مُتَكَبِّرٖ جَبَّارٖ ﴾ [ غافر :35]

“যারা নিজদের কাছে আগত কোনো দলীল-প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর নিদর্শনা-বলী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়। তাদের এ কাজ আল্লাহ ও মুমিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণার্হ। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী স্বৈরাচারীর অন্তরে সীল মেরে দেন।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৩৫] কে এ কথাটি বলছিল? আল্লাহ তা‘আলা কার কথার বর্ণনা দেন? এ কথাটি বলছিল, ফেরআউনের গোত্রের একজন ঈমানদার যখন সে মুসা ‘আলাইহিস সালামকে ছড়াতে উদ্ধত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿ّإِنَ ٱلَّذِينَ يُجَٰدِلُونَ فِيٓ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ بِغَيۡرِ سُلۡطَٰنٍ أَتَىٰهُمۡ إِن فِي صُدُورِهِمۡ إِلَّا كِبۡرٞ مَّا هُم بِبَٰلِغِيهِۚ فَٱسۡتَعِذۡ بِٱللَّهِۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ﴾ [ غافر :56]

“নিশ্চয় যারা তাদের নিকট আসা কোনো দলীলÑ প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের অন্তরসমূহে আছে কেবল অহংকার, তারা কিছুতেই সেখানে (সাফল্যের মনজিলে) পৌঁছবে না। কাজেই তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৫৬]

অহংকার, দম্ভ ও ঝগড়া-বিবাদের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান। দেখুন কীভাবে অহংকার মানুষকে অন্যায়ভাবে ঝগড়া-বিবাদের দিকে ধাবিত করে এবং সত্যকে প্রতিহত ও বাতিলকে প্রতিষ্ঠিত করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يُجَٰدِلُونَ فِيٓ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ أَنَّىٰ يُصۡرَفُونَ﴾ [ غافر :69]

“তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বাকবিতণ্ডা করে? তাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে? [সূরা গাফির, আয়াত: ৬৯]