১
সাজদা থেকে (বসার পর) উঠার পদ্ধতি
লেখকঃ মুহাম্মাদ আলী খাসখিলি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
একটি প্রশ্নের উত্তর -শায়েখ যুবায়ের আলী যাঈ (রহ)
[শায়েখ যুবায়ের আলী যাঈ তাঁর পত্রিকা ‘মাসিক আল-হাদীসে’র প্রশ্নোত্তরে মাসআলাটি সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি আমাদের আলোচ্য বইটি পড়ে নিতে বলেন। ঐ সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ পাঠকের জ্ঞাতার্থে নিচে তুলে ধরছি। (অনুবাদক)]
প্রশ্ন: জলসায়ে ইস্তিরাহাত (দ্বিতীয় সাজদার পর বিশ্রামের বৈঠক) ও তাশাহহুদের পর জমিনে হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে উঠতে হবে, না হারাবী লিখিত ‘গারিবুল হাদীস’ গ্রন্থের বর্ণনা মোতাবেক মুষ্টিবদ্ধ করে ঠেস দিয়ে উঠতে হবে? [আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (আয-যঈফাহ ২/৩৯২)]
শায়েখ মহিব্বুল্লাহ শাহ আর-রাশেদি (রহ) লিখিত একটি প্রবন্ধ ‘মাসিক আল-ই‘তিসাম’-এ (২৫ নভেম্বর, ১৯৯৪) প্রকাশিত হয়। তিনি লিখেছেন: কামেল বিন তালহা’র বর্ণনাতে ‘ اعتمد على الأرض بيديه ’ বাক্যটির يدين (দুই হাত) শব্দটির দাবি كفين (দুই তালু) হওয়াই শ্রেয়। ব্যাপকসংখ্যক হাদীসে এটা পাওয়া যায়। মুষ্টিবদ্ধাবস্থায় মাটিতে ভর করে উঠার ক্ষেত্রে বাক্যটি হবে ‘ اعتمد على النبلة ’। সেক্ষেত্রে يدين (দুই হাত) শব্দটি ব্যবহৃত হতো না। সুতরাং হাতের তালু জমিনে ভর দিয়ে উঠতে হবে।
তিনি আরো লিখেছেন: হায়সামের বর্ণনাতে ‘ يعجن ’ শব্দটি অতিরিক্ত আছে। হায়সাম থেকে কামেল বিন তালহা অধিক সিক্বাহ। যেহেতু হায়সাম তার থেকে অধিক সিক্বাহ রাবী থেকে ভিন্ন রকম বর্ণনা করেছেন, এ কারণে তার বর্ণনাটি শায। শায়েখ ইরশাদুল হক্ব আসারি ফায়সালাবাদী বলেছেন: হায়শামের বর্ণনাটি শায নয়। বরং ব্যাখ্যাসহ বৃদ্ধিসাধন। মুষ্টির উপর ভর করাতে উভয় হাদীসের উপর আমল হয়ে যায়। এ সম্পর্কে আপনার তাহক্বীক্ব জানতে চাই?
জবাব: আবু ইসহাক্ব হারাবীর ‘গারিবুল হাদীস’-এর আলোচ্য বর্ণনাটিতে রাবী হায়সাম বিন ইমরান আদ-দামেশকি আছেন। তাকে ইবনে হিব্বান (রহ) ছাড়া আর কেউ সিক্বাহ গণ্য করেননি। সুতরাং বর্ণনাকারী মাজহুলুল হাল। হাদীসের ছাত্র-মাত্রই একথা জানেন যে, মাজহুলুল হাল যদি মুনফারেদ (একাকী) হয়, সেক্ষেত্রে বর্ণনাটি যঈফ।
বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: মুহাম্মাদ আলী খাসখিলি’র কিতাব التبيين في مسئلة التعجين (আত-তাবয়ীন ফি মাসআলাতিত তা‘জীন) ‘সালাতে উঠার সময় হাতের মুষ্টির উপর ভর করে উঠা প্রসঙ্গে ইলমি তাহক্বীক্ব’ (করাচি: মাকতাবাহ আহলে হাদীস ট্রাস্ট)।
উল্লেখ্য বর্ণনাটি যঈফ হওয়ার কারণ কেবল হায়সাম বিন ইমরানের মাজহুল হওয়া। পক্ষান্তরে কামেল বিন তালহা’র প্রতি একক বর্ণনা ও শায হওয়ার অভিযোগ বাতিল। হায়সাম বিন ইমরানের তাওসিক্বের সমর্থনে শায়েখ আলবানী (রহ) যেভাবে নিয়ম স্থির করেছেন তা কয়েকটি কারণে মারদুদ (প্রত্যাখ্যাত)। যেমন:
সুনানে আবু দাউদের (হা/৩৪৮৯) একটি বর্ণনাতে এসেছে: مَنْ بَاعَ الْخَمْرَ فَلْيُشَقِّصِ الْخَنَازِيرَ “যে ব্যক্তি মদ বিক্রি করল সে যেন শূকরের গোশত প্রস্তুত করল।” –এর একজন রাবী উমার বিন বায়ান আত-তাগলিবি। তার থেকে একটি জামাআত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান (রহ) তাঁকে সিক্বাহ গণ্য করেছেন। আবু হাতিম রাযি (রহ) বলেছেন: মা‘রুফ (প্রসিদ্ধ)। কিন্তু শায়েখ আলবানী (রহ) মাজহুলুল হাল বলে বর্ণনাটিকে যঈফ গণ্য করেছেন। [আয-যঈফাহ ১/৭০-৭১ পৃ. হা/৪৫৬৬]
তাহক্বীক্বের সারসংক্ষেপ: হাতের মুষ্টির উপর ভর দিয়ে উঠার হাদীসটি যঈফ। সুতরাং সাজদার সময় যেভাবে জমিনে হাত রাখা হয়, (দ্বিতীয় সাজদার বিশ্রামের বৈঠক বা তাশাহহুদ থেকে) উঠার সময়ও হাতে ভর দিয়ে উঠতে হবে।
[যুবায়ের আলী যাঈ, ‘মাসিক আল-হাদীস’ (পাকিস্তান), ৪২ সংখ্যা, শাওয়াল ১৪২৮ হিজরি/নভেম্বর ২০০৭, পৃ. ২৯-৩০]
প্রশ্ন: জলসায়ে ইস্তিরাহাত (দ্বিতীয় সাজদার পর বিশ্রামের বৈঠক) ও তাশাহহুদের পর জমিনে হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে উঠতে হবে, না হারাবী লিখিত ‘গারিবুল হাদীস’ গ্রন্থের বর্ণনা মোতাবেক মুষ্টিবদ্ধ করে ঠেস দিয়ে উঠতে হবে? [আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (আয-যঈফাহ ২/৩৯২)]
শায়েখ মহিব্বুল্লাহ শাহ আর-রাশেদি (রহ) লিখিত একটি প্রবন্ধ ‘মাসিক আল-ই‘তিসাম’-এ (২৫ নভেম্বর, ১৯৯৪) প্রকাশিত হয়। তিনি লিখেছেন: কামেল বিন তালহা’র বর্ণনাতে ‘ اعتمد على الأرض بيديه ’ বাক্যটির يدين (দুই হাত) শব্দটির দাবি كفين (দুই তালু) হওয়াই শ্রেয়। ব্যাপকসংখ্যক হাদীসে এটা পাওয়া যায়। মুষ্টিবদ্ধাবস্থায় মাটিতে ভর করে উঠার ক্ষেত্রে বাক্যটি হবে ‘ اعتمد على النبلة ’। সেক্ষেত্রে يدين (দুই হাত) শব্দটি ব্যবহৃত হতো না। সুতরাং হাতের তালু জমিনে ভর দিয়ে উঠতে হবে।
তিনি আরো লিখেছেন: হায়সামের বর্ণনাতে ‘ يعجن ’ শব্দটি অতিরিক্ত আছে। হায়সাম থেকে কামেল বিন তালহা অধিক সিক্বাহ। যেহেতু হায়সাম তার থেকে অধিক সিক্বাহ রাবী থেকে ভিন্ন রকম বর্ণনা করেছেন, এ কারণে তার বর্ণনাটি শায। শায়েখ ইরশাদুল হক্ব আসারি ফায়সালাবাদী বলেছেন: হায়শামের বর্ণনাটি শায নয়। বরং ব্যাখ্যাসহ বৃদ্ধিসাধন। মুষ্টির উপর ভর করাতে উভয় হাদীসের উপর আমল হয়ে যায়। এ সম্পর্কে আপনার তাহক্বীক্ব জানতে চাই?
জবাব: আবু ইসহাক্ব হারাবীর ‘গারিবুল হাদীস’-এর আলোচ্য বর্ণনাটিতে রাবী হায়সাম বিন ইমরান আদ-দামেশকি আছেন। তাকে ইবনে হিব্বান (রহ) ছাড়া আর কেউ সিক্বাহ গণ্য করেননি। সুতরাং বর্ণনাকারী মাজহুলুল হাল। হাদীসের ছাত্র-মাত্রই একথা জানেন যে, মাজহুলুল হাল যদি মুনফারেদ (একাকী) হয়, সেক্ষেত্রে বর্ণনাটি যঈফ।
বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: মুহাম্মাদ আলী খাসখিলি’র কিতাব التبيين في مسئلة التعجين (আত-তাবয়ীন ফি মাসআলাতিত তা‘জীন) ‘সালাতে উঠার সময় হাতের মুষ্টির উপর ভর করে উঠা প্রসঙ্গে ইলমি তাহক্বীক্ব’ (করাচি: মাকতাবাহ আহলে হাদীস ট্রাস্ট)।
উল্লেখ্য বর্ণনাটি যঈফ হওয়ার কারণ কেবল হায়সাম বিন ইমরানের মাজহুল হওয়া। পক্ষান্তরে কামেল বিন তালহা’র প্রতি একক বর্ণনা ও শায হওয়ার অভিযোগ বাতিল। হায়সাম বিন ইমরানের তাওসিক্বের সমর্থনে শায়েখ আলবানী (রহ) যেভাবে নিয়ম স্থির করেছেন তা কয়েকটি কারণে মারদুদ (প্রত্যাখ্যাত)। যেমন:
সুনানে আবু দাউদের (হা/৩৪৮৯) একটি বর্ণনাতে এসেছে: مَنْ بَاعَ الْخَمْرَ فَلْيُشَقِّصِ الْخَنَازِيرَ “যে ব্যক্তি মদ বিক্রি করল সে যেন শূকরের গোশত প্রস্তুত করল।” –এর একজন রাবী উমার বিন বায়ান আত-তাগলিবি। তার থেকে একটি জামাআত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান (রহ) তাঁকে সিক্বাহ গণ্য করেছেন। আবু হাতিম রাযি (রহ) বলেছেন: মা‘রুফ (প্রসিদ্ধ)। কিন্তু শায়েখ আলবানী (রহ) মাজহুলুল হাল বলে বর্ণনাটিকে যঈফ গণ্য করেছেন। [আয-যঈফাহ ১/৭০-৭১ পৃ. হা/৪৫৬৬]
তাহক্বীক্বের সারসংক্ষেপ: হাতের মুষ্টির উপর ভর দিয়ে উঠার হাদীসটি যঈফ। সুতরাং সাজদার সময় যেভাবে জমিনে হাত রাখা হয়, (দ্বিতীয় সাজদার বিশ্রামের বৈঠক বা তাশাহহুদ থেকে) উঠার সময়ও হাতে ভর দিয়ে উঠতে হবে।
[যুবায়ের আলী যাঈ, ‘মাসিক আল-হাদীস’ (পাকিস্তান), ৪২ সংখ্যা, শাওয়াল ১৪২৮ হিজরি/নভেম্বর ২০০৭, পৃ. ২৯-৩০]