hadith book logo

ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

ব্যবসায়ীর হারাম সম্পদের যাকাত:

যে সম্পদ অর্জন করা অথবা যে সম্পদ থেকে উপকার লাভ শরী‘আতে নিষিদ্ধ তাই হলো হারাম মাল, যেমন মদের ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থ অথবা সুদ বা চুরিকৃত সম্পত্তি ইত্যাদি। যে সম্পদ মূলে হারাম -যেমন মদ অথবা শূকর ইত্যাদির ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পদ, এতে যাকাত নেই। তদ্রূপ যে সম্পদ মূলে হারাম নয়, তবে অন্যকোনো কারণে শরী‘আতের বিধান বিঘ্নিত হওয়ার কারণে হারাম হয়েছে, যেমন চুরিকৃত সম্পদ, এরূপ সম্পদেও যাকাত নেই; কেননা এ ধরনের সম্পদে ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না, যা যাকাত ফরয হওয়ার জন্য শর্ত। হারাম মালের ক্ষেত্রে করণীয় হলো, উপার্জন-পদ্ধতিতে সমস্যা থাকায় এ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তি কখনো তার মালিক হবে না, সময় যতোই গড়িয়ে যাক না কেন। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির ওপর আবশ্যক হবে মূল মালিক অথবা তার উত্তারাধিকারীকে (যদি জানা থাকে) সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। আর যদি মূল মালিক অথবা তার উত্তারাধিকারীকে চেনার বিষয়ে ব্যক্তি নিরাশ হয়ে পড়ে, তবে হারাম মাল থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য মালিকের পক্ষ থেকে সদকা হিসেবে কল্যাণমূলক কাজে তা ব্যয় করে দিতে হবে।

যদি হারাম কাজের মজুরি হিসেবে সম্পদ অর্জন করে থাকে তাহলে অর্জনকারী তা কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে দিবে। যার কাছ থেকে তা নিয়েছে তাকে ফেরত দিবে না; কেননা সে তা আবারও গুনাহের কাজে ব্যয় করবে। যার কাছ থেকে হারাম মাল নেওয়া হয়েছে সে যদি অবৈধ লেনদেন পরিত্যাগ না করার ব্যাপারে অনড় থাকে, যা তার সম্পদ হারাম হওয়ার কারণ হয়েছে, যেমন সূদী লেনেদেনের টাকা, তাহলে তার সম্পদ তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না, বরং তা কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। যদি হারাম মাল হস্তগতকারী ব্যক্তি মূল হারাম মাল ফিরিয়ে দিতে অপারগ হয়, তাহলে তার স্থলে সমপরিমাণ মাল অথবা তার মূল্য মালিককে ফিরিয়ে দিবে, যদি তাকে খুঁজে বের করতে পারে, অন্যথায় সমপরিমাণ মাল বা তার মূল্য মূল মালিকের পক্ষ থেকে সদকা করার নিয়তে কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করে দিবে। [উপরোক্ত মাসআলাগুলো বিস্তারিত দেখুন: মাজমু‘উল ফাতাওয়া ইবন বায, ১৪/১৯০; মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবন ‘উসাইমীন, ১৮/১৭৫; ফাতাওয়া ইসলামিয়া, ২/৮২; ইয়াসআলুনাকা ‘আনিয যাকাত, ৫২; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ্দায়িমা, ৮/১৬০; দুররুল মুখতার: ২/২৯১।]