hadith book logo

ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন আল-আযহারী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

ব্যবসায়িক পণ্যে যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলি:

ব্যবসায়িক পণ্য হতে হলে দু’টি শর্ত পূর্ণ হতে হবে:

প্রথমত: পণ্যটিতে ব্যবসার কাজ তথা ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া। অর্থাৎ পণ্যটি নগদ অর্থে ক্রয় করা বা প্রতিদান বা ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে ক্রয় করা বা তাৎক্ষণিক ঋণ বা বাকী ঋণের বিনিময়ে ক্রয় করা, এমনিভাবে কোনো মহিলা মাহর বা খোলা তালাকের বিনিময় হিসেবে কোনো পণ্য গ্রহণ করলে। কিন্তু বস্তুটি উত্তরাধিকারসূত্রে বা দানসূত্রে বা ত্রুটির কারণে ফেরত দিলে বা কারো মালিকানাধীন জমিতে চাষাবাদ করলে এতে ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত ফরয হবে না।

দ্বিতীয়ত: ব্যবসার নিয়ত তথা লাভের নিয়ত থাকতে হবে; যদিও কোনো কোনো অবস্থায় লাভ নাও হতে পারে।

অতএব, কেউ যদি বসবাসের জন্য একটি বাড়ি ক্রয় করে, অতঃপর সে ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি লাভে সেটি বিক্রয় করে দিলো। এমতাবস্থায় বাড়িটি ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা ক্রেতা বাড়িটি ব্যবসা এবং লাভের উদ্দেশ্যে শুরুতে ক্রয় করেন নি; বর‍ং বসবাসের জন্য ক্রয় করেছেন।

এমনিভাবে কারো কাছে নিজের ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি থাকলে সেটির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিক্রয় করলে এতে লাভবান হলে সেটিও ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য হবে না।

পক্ষান্তরে, গাড়ি ব্যবসায়ী ব্যবসার জন্য গাড়ি ক্রয় করল, অতঃপর বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত গাড়ির একটি গাড়ি সে নিজে ব্যবহার করলে উক্ত গাড়িটি তার ব্যবসায়িক পণ্য থেকে আলাদা হবে না; বরং সেটিও ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে যাকাত ফরয হবে।

আবার কেউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে মাল ক্রয় করলে এতে লাভ না হলে বা লোকসান হলেও উক্ত সম্পদ ব্যবসার সম্পদ বলেই গণ্য হবে এবং এতে ব্যবসায়িক সম্পদের যাকাতের বিধান প্রযোজ্য হবে।

তবে কেউ শুরুতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কিছু ক্রয় করলে বিক্রি করার পূর্বে নিয়ত পরিবর্তন করলে তার নিয়ত ধর্তব্য হবে। কেননা সে ব্যবসায়িক মালের থেকে ব্যক্তিগত মালের নিয়ত করেছে। সুতরাং তার নিয়ত অনুসারে যাকাত ফরয হবে। তেমনিভাবে কেউ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্রয় করে পরে সেটি ব্যবসার জন্য বিক্রয়ের নিয়ত করলে সেটি ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য হবে।

এমনিভাবে নিম্নোক্ত লেনদেনগুলোও ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে ধর্তব্য হয়ে থাকে:

ক- লাভের উদ্দেশ্যে বেচাকেনারকৃত সব ধরণের পণ্য। এতে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রকল্প বা অংশীদারি প্রকল্প, একক কোম্পানি বা বা সমষ্টিগত কোম্পানি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হবে।

খ- দু’পক্ষ ব্যবসায়ীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীগণের লেনদেন। যেমন, দালাল, আমদানিকারক ও বায়ার ইত্যাদি।

গ- মানি একচেঞ্জ, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগকারীর লেনদেন।

তৃতীয়ত: উপরোক্ত শর্তসমূহের সাথে সোনা-রুপার যাকাত ফরয হওয়ার যেসব শর্তাবলী রয়েছে সেসব শর্তাবলী ব্যবসায়িক সম্পদের মধ্যে পাওয়া যেতে হবে। আর তা হলো: নিসাব পূর্ণ হতে হবে। ৮৫ গ্রাম সোনার মূল্যের সমান হতে হবে, সে সম্পদে বছর অতিক্রান্ত হতে হবে, নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে এবং ঋণমুক্ত হতে হবে।