hadith book logo

শির্ক কী ও কেন

লেখকঃ ড. মুহাম্মদ মুয্‌যাম্মিল আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭৪

১৬.পীরের নিকট রহমত ও করুণা কামনা করা :

মানুষ কোনো অপরাধ করুক আর না-ই করুক, সর্বাবস্থায় তার মন আল্লাহর কাছে তাঁর রহমত ও করুণার ভিখারী হয়ে থাকবে। নিজের জানা বা অজানা সকল অপরাধের মার্জনা লাভের জন্য সর্বদা তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণকারী হয়ে থাকবে। কেননা, সর্বদা তাঁর করুণাকামী হয়ে থাকা হচ্ছে অন্তরের একটি উপাসনা বিশেষ, যা মৃত বা জীবিত কোনো পীর বা ওলির নিকট প্রকাশ করা যায় না। এ জাতীয় উপাসনার নির্দেশ করে আল্লাহ বলেছেন:

﴿ وَأَنِيبُوٓاْ إِلَىٰ رَبِّكُمۡ وَأَسۡلِمُواْ لَهُ﴾ [ الزمر : ٥٤ ]

‘‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে আসো এবং তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণ কর’’। [. আল-কুরআন, সূরা যুমার: ৫৪।] আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পদ্ধতি সম্পর্কে কারো জানা না থাকলে তা জানার জন্য তিনি জীবিত লোকদের মধ্যে যারা তা জানেন, তাদের নিকট থেকে তা জেনে নিবে, এটাই শরী‘আতের নির্দেশ। তা জেনে নিয়ে আল্লাহর কাছে সে তার মনের কথা বলবে, তাঁর কাছেই অনুনয় বিনয় করে নিজের যাবতীয় কৃত অপরাধের জন্য মার্জনা কামনা করে তাঁর রহমত কামনা করবে। কিন্তু পীর ভক্তদেরকে এর ব্যতিক্রম করতে দেখা যায়। তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের পীর বাবার কাছেই বিনয় প্রকাশ করেন। তারই কাছে ক্ষমা ও করুণা ভিক্ষা করেন। উদাহরণস্বরূপ নিম্নের কথাগুলো লক্ষ্য করা যায়। এক ব্যক্তি একটি বই এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় লিখেছে :

‘‘হে চাঁদপুরীশাহ! হে আমার বাবা ও পীর এবং ক্বিবলা! আমার উপর রহম করুন’’। [. চাঁদপুরী শাহ পীরের ভালবাসা প্রকাশার্থে লিখিত ‘‘প্রেমের শুরা-এষ্কের খনী’’ নামক পুস্তিকার প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় একথাগুলে লিখিত রয়েছে। (বইটির প্রকাশক: চাঁদপুরী শাহ দরবার শরীফ: খাদেম মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ১ম সংস্করণ)।]

অপর এক কবিতায় একজন লিখেছে:

‘‘আশা পুরাও ওহে চাঁদপুরী মাওলা দু’জাহান

তা না হলে দুই অধমে করো না কুরবান।’’ [. তদেব; কবিতা নং- ১৯।]

অপর এক ব্যক্তি বলেছে: [. তদেব; কবিতা নং- ২০।]

‘‘আমার গউছুল আ‘জম চাঁদপুরী শাহ হাকীকে রাসূল

রহম নজরে বাবায় তরায় দুই কুল’’।

অপর একজন তার পীরকে খেতাব করে বলেছে:‘‘ তুমি তোমার ভক্তদের জন্য ক্ষমাশীল ও দয়ালু ছিলে’’। [. কুমিল্লা জেলার গাজীউল হক মাইজভান্ডারীর কোন এক ভক্তের কথা, যা তার কবরের প্রচার পত্র থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।]

নোয়াখালী জেলার হাফিজ মহিউদ্দিন নামক পীরের দরবার থেকে প্রচারিত এক পত্রে জনৈক ভক্ত লিখেছে : ‘‘ওহে বাবা! তুমি যদি আমার উপর রহম না কর, তা হলে আমার কী অবস্থা হবে।’’

এভাবে পীর ভক্তগণ তাদের পীরকেই আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করে নিয়েছেন। তাই আল্লাহর পরিবর্তে তারা তাদের পীরের কাছেই আত্মসমর্পণ করে তার করুণা ও দয়া ভিক্ষা করে থাকেন।