hadith book logo

শির্ক কী ও কেন

লেখকঃ ড. মুহাম্মদ মুয্‌যাম্মিল আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৯

দেব দেবীদের ধরন ও প্রকৃতি :

মুশরিকরা যে সব সৎমানুষের মূর্তি, ফেরেশ্তা, জিন, গাছ ও পাথরের দেব-দেবীদেরকে আল্লাহ তা‘আলার রুবূবিয়্যাত অথবা উলুহিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে নিয়ে সে সবের উপাসনা করতো, সেগুলোর প্রকৃতি বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ عِبَادٌ أَمۡثَالُكُمۡۖ فَٱدۡعُوهُمۡ فَلۡيَسۡتَجِيبُواْ لَكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ ١٩٤ ﴾ [ الاعراف : ١٩٤ ]

‘‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে আহ্বান করো, তারা সবাই তোমাদের মতই (আমার) বান্দা। (তারা তোমাদের উপকার ও অপকার করতে পারে, এ মর্মে) তাদের ব্যাপারে তোমরা যে ধারণা করেছো, তাতে যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তা হলে তোমরা তাদের আহ্বান করো, তারাও তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিক।’’ [.আল-কুরআন, সূরা আ‘রাফ : ১৯৪।]

এখানে তাদের দেবতা ও দেবীদেরকে ‘ইবাদ’ তথা ‘বান্দা’ বলার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে :

১. তারা পাথরের যে সব প্রতিমা ও মূর্তির পূজা করতো, সে-গুলো তাদের মতই আল্লাহর মালিকানাধীন। আর যারা আল্লাহর মালিকানায় রয়েছে, তারা সবাই তাঁর বান্দা।

২. এ-পাথরের প্রতিমা ও মূর্তিগুলো তাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টি। আর সকল সৃষ্টিই আল্লাহর বান্দা।

৩. পাথরও তাদের ন্যায় আল্লাহর হুকুম ও আদেশের আওতাধীন। [. কুরত্বুবী, প্রাগুক্ত; ৭/৩৪২।]

৪. তারা ওয়াদ, সুয়া, য়াগুছ, য়া‘উক ও নসর নামের যে-সব সৎমানুষ এবং যে সব ফেরেশ্তাদের পূজা করতো, তারাও তাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টি, তাঁর মালিকানাধীন ও তাঁর আদেশ ও নিষেধের আওতাধীন।

উপর্যুক্ত এ কারণসমূহের মধ্য থেকে যে কারণেই তাদেরকে ‘ইবাদ’ বলা হোক না কেন, এগুলো সর্বাবস্থায় তাদের মতই আল্লাহর বান্দা হওয়ায় কোনো অবস্থাতেই এরা আল্লাহর রুবূবিয়্যাতের কোনো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তাদের কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না। ইমাম কুরত্বুবী সৎমানুষ ও ফেরেশ্তাদের সাথে সম্পর্কহীন পাথরের মূর্তিসমূহকেই এ আয়াতের উদ্দেশ্য বলে নির্ধারণ করেছেন। তবে আমার মতে এ আয়াত দ্বারা শুধুমাত্র পাথরের মূর্তিসমূহকেই উদ্দেশ্য করা হয় নি, বরং এর দ্বারা পাথরের মূর্তিসহ অন্যান্য যাবতীয় মূর্তি ও প্রতিমাসমূহকেও উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেগুলোকে তারা সৎমানুষ ও ফেরেশ্তাদেরকে কেন্দ্র করেও তেরী করেছিল।