১
ধূমপান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ফাতাওয়া
লেখকঃ আমের সালেহ আলাওয়ী নাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
৯- ধূমপায়ীদেরকে উপদেশ দেওয়া এবং তাদের প্রতিরোধ করা
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছে শাইখ সলেহ আল ফাউযানকে: আমি এবং আমার এক বন্ধু একই অফিসে চাকুরী করি, বন্ধু নামাযে যাওয়ার সময় সিগারেটের প্যাকেট অফিসের ড্রয়ারে রেখে যায়, আমি সেটা নিয়ে নষ্ট করে ফেলি, কারণ আমি জানি তা হারাম। প্রশ্ন হচ্ছে: আমার এ কাজটি কি সঠিক হচ্ছে? উল্লেখ্য যে, আমার বন্ধু আমার নিকট থেকে এর মূল্য ফেরত চাচ্ছে।
উত্তর: এটি কোনো সমাধান নয়, আপনি সিগারেট নিয়ে নষ্ট করে ফেললে সে আবার তা ক্রয় করবে। সমাধান হচ্ছে: আপনি তাকে নসীহত করুন, আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিন হয়তো আপনার নসীহতে ধূমপান ত্যাগ করে ভাল হয়ে যেতে পারে।
আর আপনি যে তার সিগারেট নিয়ে যাবেন প্রথমত আপনি এর দায়িত্বশীল নন, এটি সরকারের দায়িত্ব, তারাই এগুলো নষ্ট করবেন। কিন্তু যে কাজে সাধারণ মানুষের জন্য হাত দ্বারা অন্যায় প্রতিহত করার ক্ষমতা নেই তারা শুধু মুখ দ্বারা নিষেধ করবে এবং তাদেরকে নসীহত করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»
“যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় হতে দেখবে সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে, তা যদি সামর্থ না রাখে তবে মুখ দ্বারা, তাও যদি সামর্থ না রাখে তবে অন্তরে ঘৃনা করবে, আর এটাই দুর্বলতম ঈমান।” [মুসলিম: ৫৫।]
মানুষকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে, যারা হাত দ্বারা অন্যায় প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে তারা হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, আর তারা হচ্ছে সরকার বা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি। যাদের কোনো ক্ষমতা নেই তারা মুখ দ্বারা নসীহত করবে অথবা এ কাজের দায়িত্বশীলদেরকে খবর দিয়ে জানাবে এটি হচ্ছে মুখ দ্বারা অন্যায় প্রতিহত করা। আর যারা হাত ও মুখ দ্বারা অন্যায়কে প্রতিহত করার ক্ষমতা না রাখে তারা অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে, অন্যায় এবং অন্যায়কারীর প্রতি বিদ্বেষী মনোভাব রাখবে সেই সাথে তাদের থেকে দূরে থাকবে।’ [দেখুন: সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ চতুর্থ ক্যাসেট প্রথম পৃষ্টা।]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল আল্লামা ইবনে বায রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে: আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সবসময় ধূমপান করে, আমি তাকে বহু নসিহত করেছি কিন্তু সে শুনেনি, আর যদি কোনো ফাতাওয়া বা আলেমদের কোনো নসিহত এনে দেই তাহলে সে তা পড়ে না বরং সে বলে যে, আমি যদি এগুলো পড়ি তাহলে তো আমার উপর দলীল প্রমাণিত হয়ে যাবে, তখন তা না মানলে আমি পাপী হব। তার এ উক্তির পরিপেক্ষিতে আমাদের জন্য তার ব্যাপারে আপনার উপদেশ কি?
উত্তর: তার উচিত হলো নসিহত গ্রহণ করে ধূমপান ত্যাগ করা, কারণ তা হারাম। এতে দ্বীনি, শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি রয়েছে। কখনো কখনো তা নেশাগ্রস্ত করে, কাজেই তার উচিত এগুলো ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করা। ধূমপান এবং অন্যান্য জিনিস হারামের ব্যাপারে যাদের সন্দেহ রয়েছে তা পরিস্কার করার জন্য তাদের উচিত হলো কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করা।
যেমন আল্লাহ বলেন:
﴿ فَسَۡٔلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ ﴾ [ الانبياء : ٧ ]
“তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।” [সূরা আম্বিয়া: ৭]। কোনো কথা বা কাজ হারাম ফাতাওয়া দেওয়ার ভয়ে কোনোক্রমেই প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়; কেননা (উল্লেখিত) আয়াতে তা আল্লাহর নির্দেশের বিপরীত এবং জ্ঞান শিক্ষা ও দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং এ থেকে বিরত থাকার সমালোচনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সাব্যস্ত রয়েছে তার বিরোধী।’ [ফাতাওয়া ইসলামিয়া ৩/ ৪৭৬।]
উত্তর: এটি কোনো সমাধান নয়, আপনি সিগারেট নিয়ে নষ্ট করে ফেললে সে আবার তা ক্রয় করবে। সমাধান হচ্ছে: আপনি তাকে নসীহত করুন, আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিন হয়তো আপনার নসীহতে ধূমপান ত্যাগ করে ভাল হয়ে যেতে পারে।
আর আপনি যে তার সিগারেট নিয়ে যাবেন প্রথমত আপনি এর দায়িত্বশীল নন, এটি সরকারের দায়িত্ব, তারাই এগুলো নষ্ট করবেন। কিন্তু যে কাজে সাধারণ মানুষের জন্য হাত দ্বারা অন্যায় প্রতিহত করার ক্ষমতা নেই তারা শুধু মুখ দ্বারা নিষেধ করবে এবং তাদেরকে নসীহত করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»
“যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় হতে দেখবে সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে, তা যদি সামর্থ না রাখে তবে মুখ দ্বারা, তাও যদি সামর্থ না রাখে তবে অন্তরে ঘৃনা করবে, আর এটাই দুর্বলতম ঈমান।” [মুসলিম: ৫৫।]
মানুষকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে, যারা হাত দ্বারা অন্যায় প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে তারা হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, আর তারা হচ্ছে সরকার বা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি। যাদের কোনো ক্ষমতা নেই তারা মুখ দ্বারা নসীহত করবে অথবা এ কাজের দায়িত্বশীলদেরকে খবর দিয়ে জানাবে এটি হচ্ছে মুখ দ্বারা অন্যায় প্রতিহত করা। আর যারা হাত ও মুখ দ্বারা অন্যায়কে প্রতিহত করার ক্ষমতা না রাখে তারা অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে, অন্যায় এবং অন্যায়কারীর প্রতি বিদ্বেষী মনোভাব রাখবে সেই সাথে তাদের থেকে দূরে থাকবে।’ [দেখুন: সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ চতুর্থ ক্যাসেট প্রথম পৃষ্টা।]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল আল্লামা ইবনে বায রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে: আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সবসময় ধূমপান করে, আমি তাকে বহু নসিহত করেছি কিন্তু সে শুনেনি, আর যদি কোনো ফাতাওয়া বা আলেমদের কোনো নসিহত এনে দেই তাহলে সে তা পড়ে না বরং সে বলে যে, আমি যদি এগুলো পড়ি তাহলে তো আমার উপর দলীল প্রমাণিত হয়ে যাবে, তখন তা না মানলে আমি পাপী হব। তার এ উক্তির পরিপেক্ষিতে আমাদের জন্য তার ব্যাপারে আপনার উপদেশ কি?
উত্তর: তার উচিত হলো নসিহত গ্রহণ করে ধূমপান ত্যাগ করা, কারণ তা হারাম। এতে দ্বীনি, শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি রয়েছে। কখনো কখনো তা নেশাগ্রস্ত করে, কাজেই তার উচিত এগুলো ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করা। ধূমপান এবং অন্যান্য জিনিস হারামের ব্যাপারে যাদের সন্দেহ রয়েছে তা পরিস্কার করার জন্য তাদের উচিত হলো কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করা।
যেমন আল্লাহ বলেন:
﴿ فَسَۡٔلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ ﴾ [ الانبياء : ٧ ]
“তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।” [সূরা আম্বিয়া: ৭]। কোনো কথা বা কাজ হারাম ফাতাওয়া দেওয়ার ভয়ে কোনোক্রমেই প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়; কেননা (উল্লেখিত) আয়াতে তা আল্লাহর নির্দেশের বিপরীত এবং জ্ঞান শিক্ষা ও দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং এ থেকে বিরত থাকার সমালোচনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সাব্যস্ত রয়েছে তার বিরোধী।’ [ফাতাওয়া ইসলামিয়া ৩/ ৪৭৬।]