hadith book logo

ধূমপান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ফাতাওয়া

লেখকঃ আমের সালেহ আলাওয়ী নাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

২৩- ধূমপায়ীর গ্রহণযোগ্যতা

প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি আল্লামা শাইখ ইবনে উসাইমীন রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে করা হয়েছিল: আল্লাহর নিকট ধূমপায়ীর শাস্তি কি?

উত্তর: ধূমপায়ী হারাম চর্চা করে, কারণ বিড়ি-সিগারেট হারাম। এর দলীল পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব, ধূমপায়ী যেহেতু জানে যে তা হারাম কাজেই এর দ্বারা সে ছোট অন্যায় করে যাচ্ছে, আর ছোট অন্যায়ই বড় অন্যায়ে পরিণত হয়। এর দ্বারা একজন ফাসেক হয়ে যায় এবং গ্রহণযোগ্যতা হারায়। হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হল: যে ব্যক্তি ছোট পাপে জড়িত থাকবে সে ফাসেক, যে সমস্ত ব্যাপারে আদালত তথা গ্রহণযোগ্যতা ও সুনীতি থাকা শর্ত রয়েছে তাতে তার কথা ও কাজের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। প্রত্যেকের উচিত তার প্রভুকে ভয় করে চলা এবং আর্থিক, শারীরিক ও দ্বীনি ক্ষতিকর এ পানীয় থেকে বিরত থাকা। [ফাতাওয়া ও দিক নির্দেশনা পৃ: ৯১।]

প্রশ্ন/ এক ব্যক্তি ধূমপান করে, তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে কি?

উত্তর: কুরআন ও হাদীসের দলীলের ভিত্তিতে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে স্বাস্থ্য, অর্থ এবং সমাজে এর কুপ্রভাবের কারণে ধূমপান নিঃসন্দেহে হারাম। কাজেই তা পানকারী, বিক্রেতা এবং প্রস্তুতকারক সকলেই আল্লাহ এবং তার রাসূলের অবাধ্য। কিন্তু তার সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যাপারে তার এবং বাদী বিবাদীর অবস্থা বুঝে ক্ষেত্র ভিন্ন হতে পারে। আর তা নির্ভর করবে যার বিরুদ্ধে ধূমপায়ী সাক্ষ্য দিচ্ছে এবং যে বিষয়ে ধূমপায়ী সাক্ষ্য দিচ্ছে সেটার উপর। এ সবের মূল কথা হচ্ছে, যে ব্যক্তির নিকট ধূমপায়ী সাক্ষ্য দেবে সে ব্যক্তি তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

আর আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা করছি। আল্লাহ সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গী-সাথীদের উপর। [স্থায়ী কমিটির ফাতাওয়া ২৩/৫১৬।]