১
ধূমপান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ফাতাওয়া
লেখকঃ আমের সালেহ আলাওয়ী নাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
২২- যে ব্যক্তি ধূমপান ত্যাগ করার শপথ করেও আবার তা গ্রহণ করে তার কাফফারা বা জরিমানা
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি আল্লামা শাইখ ইবনে বায রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে করা হয়েছিল: আমার স্বামী ধূমপানে আসক্ত এবং হাঁপানী রোগে আক্রান্ত, ধূমপানের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে, তারপর সে দুই রাকাত নামায পড়ে ধূমপান করবে না বলে শপথ করেছে কিন্তু এক সপ্তাহ পর আবার ধূমপান শুরু করেছে ফলে আবারও আমাদের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়েছে। এবার সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছে যে, আর কখনো ধূমপান করবে না, কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করতে পারছি না, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তার শপথ ভঙ্গ করার জরিমানা কি? এবং আমাদের কিছু উপদেশ দিন, আল্লাহ আপনাকে ভাল বদলা দিন।
উত্তর: ধূমপান অপবিত্র হারাম, এর বহু ক্ষতি রয়েছে। আল্লাহ তার কুরআনে বলেন:
﴿ يَسَۡٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمۡۖ قُلۡ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُ ﴾ [ المائدة : ٤ ]
“হে নবী, তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কি হালাল করা হয়েছে, আপনি বলুন: তাদের জন্য পবিত্র ভাল জিনিস হালাল করা হয়েছে।” [সূরা মায়েদা: ৪]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারে সূরা আ‘রাফে আল্লাহ বলেন:
﴿ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ﴾ [ الاعراف : ١٥٧ ]
“তিনি তাদের জন্য ভাল জিনিস হালাল করেছেন এবং তাদের উপর অপবিত্র জিনিস হারাম করেছেন।” [সূরা আ‘রাফ: ১৫৭]
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তামাক বা সিগারেট অপবিত্র, কাজেই আপনার স্বামীর উচিত হলো তা ত্যাগ করা এবং এ থেকে সতর্ক থেকে আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করা, আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ থেকে সতর্ক থাকা, দ্বীন ও স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং আপনার সাথে ভাল ব্যবহার করা। আর তার শপথ ভঙ্গ করার কাফফারা বা জরিমানা হলো কাফফারা ইয়ামীন, সেই সাথে আল্লাহর নিকট তাওবা করা। কাফফারা হলো: দশজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো, বা পরিধেয় কাপড় পরিধান প্রদান করা বা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা। [সূরা মায়েদার ৮৯ নং আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।]
তাদেরকে রাত্রে বা দুপুরে খাওয়ানো অথবা প্রত্যেককে অর্ধ সা অর্থাৎ: প্রায় দেড় কিলোগ্রাম স্বদেশী খাবার দিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। আপনার প্রতি উপদেশ হলো: সে যদি নামায পড়ে, তার চরিত্র ভালো হয় এবং ধূমপান ত্যাগ করে তবে আপনি তার নিকট তালাক চাইবেন না। কিন্তু যদি অন্যায় করেই যায় তবে তালাক চাওয়া নিষেধ করব না। আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করুন এবং তাওবার জন্য তাকে তাওফীক দান করুন। [ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ৩/২১৭-২১৮।]
প্রশ্ন/ আমি ধূমপান করতাম, একদিন আমার মা এসে আমাকে এক হাজার টাকা দিলেন এই শর্তে যে, আমি যদি পূনরায় ধূমপান করি তাহলে আমার উভয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিব। আমি বললাম ঠিক আছে আমি আবার ধূমপান করলে তারা তালাক হয়ে যাবে এবং মাকে আমি তিন হাজার টাকা দিব। আমার অন্তরে কিন্তু তালাক ছিল না বরং মার নিকট থেকে টাকা নেয়া এবং ধূমপান ত্যাগ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল। আমার এ ঘটনার ব্যাপারে আপনার নিকট ফাতাওয়া চাচ্ছি, অনুগ্রহ করে কিছু বলুন।
উত্তর: যদি শপথের উদ্দেশ্য ধূমপান ত্যাগ এবং টাকা নেওয়া হয় তাহলে পূনরায় ধূমপান করাতে স্ত্রী তালাক হবে না কিন্তু আপনার শপথ ভঙ্গ করার কারণে জরিমানা বা কাফফারা লাগবে, তা হলো: আপনার পরিবারকে যে খাবার খাওয়াচ্ছেন তার অনুরূপ (সাধারণ) খাবার দশজন মিসকিনকে দিতে হবে বা দশজনকে পোশাক দিতে হবে। আর তাদেরকে পাঁচ সা (প্রতি সা প্রায় আড়াই কিলোগ্রাম) গম বা খেজুর বা চাল বা যব যা আপনার পরিবারকে খাওয়ান তা দিলেই যথেষ্ট হবে, প্রত্যেককে আধা সা পরিমাণ করে। তাও যদি সামর্থ না রাখেন তাহলে তিন দিন রোজা রাখতে হবে, ধারাবাহিকভাবে রাখাই ভাল।
কিন্তু যদি আপনার শপথের উদ্দেশ্য হয় উভয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া এবং তাদেরকে ত্যাগ করা, তাহলে ধূমপানের কারণে উভয়ের এক তালাক করে পতিত হবে, এমতাবস্থায় দুইজন সাক্ষীর মোকাবেলায় তাদেরকে ইদ্দতের ভিতরেই ফিরিয়ে নিতে হবে।
আর আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা করছি। আল্লাহ সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গী-সাথীদের উপর। [স্থায়ী কমিটির ফাতাওয়া ২০/১৮২-১৮৩।]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি আল্লামা শাইখ ইবনে উসাইমীন রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে করা হয়েছিল: আমি একজন ধূমপায়ী, আমি মনে মনে বলেছিলাম যে যদি আমি পূনরায় ধূমপান করি তাহলে আমার স্ত্রী আমার উপর হারাম হয়ে যাবে, অতঃপর ভুলে গিয়ে আবার ধূমপান করি তারপর আমার প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ল। এখন এ অবস্থায় আমি কি করতে পারি?
উত্তর: যেহেতু আপনি ধূমপান ত্যাগ করার জন্য এক মহা প্রতিজ্ঞার উপর আছেন কাজেই তা ত্যাগ করার জন্য আমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করি, আল্লাহ আপনাকে সহযোগিতা করবেন এবং দৃঢ় সংকল্প বাস্তবায়নে ধৈর্যের তাওফীক দিবেন। আর আপনি হারামের ব্যাপারে যা বললেন তা যদি মুখে না বলে শুধু মনে মনে বলেন তাহলে কিছু হবে না। আর যদি মুখে উচ্চারণ করে থাকেন এবং শুধু ধূমপান ত্যাগ করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে তা শপথের পর্যায়ে চলে যাবে এমতাবস্থায় যদি আপনি ইচ্ছা করে স্মরণ থাকাবস্থায় পান করে থাকেন তাহলে কাফফারা দিতে হবে আর যদি ভুলে পান করে থাকেন তাহলে কিছু লাগবে না কিন্তু কখনো স্মরণ থাকাবস্থায় পান করতে পারবেন না। অন্যথায় শপথের কাফফারা লাগবে যা দশজন মিসকিনকে খাবার দেওয়া বা পোশাক দেওয়া অথবা ক্রীতদাস মুক্ত করণ। আপনি তা আদায়ে স্বাধীন। তাদেরকে দুপুরে বা রাত্রে খাওয়াতে পারেন বা চাল ও মাংস মিলিয়ে প্রায় পনের কিলোগ্রাম পরিমাণ একই ঘরে বা বিভিন্ন ঘরে দিয়ে দিতে পারেন। ফকীর না পেলে আপনি ধারাবাহিকভাবে তিন দিন রোজা রাখবেন। [ফাতাওয়া ইসলামিয়া: ৩/৪৭৬।]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল ফাতাওয়ার স্থায়ী কমিটিকে: আমি একজন বিবাহিতা ধার্মিক মহিলা, আমার সন্তানাদি রয়েছে। আমার স্বামী হুক্কা পানে অভ্যস্ত, আমি তাকে বহু নসিহত করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি, সে তা ত্যাগ করার উপর আল্লাহর শপথ করে কিন্তু তারপরও তা ত্যাগ করে না, এ পর্যায়ে আমি শপথ করেছি যে, সে ধূমপান ত্যাগ না করলে আমি আমার বাবার বাড়ী চলে যাব তবুও সে তা ত্যাগ করেনি এবং আমি স্বামীর বাড়ীতেই রয়েছি। আমি কি করব? এবং আমার শপথের হুকুম কি এবং হুক্কা পানের হুকুম কি? আপনার নিকট বিনীত নিবেদন যে আমার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিবেন।
উত্তর: প্রথমত: হুক্কা পান করা হারাম, কারণ তা অপবিত্র এবং এতে বহু ক্ষতি রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: আপনার স্বামীর উচিত হলো শপথ পুরা করা এবং হুক্কা পান ত্যাগ করা।
তৃতীয়ত: আপনি আপনার স্বামীকে হুক্কা পান ত্যাগে নসিহত করে ভাল করেছেন এবং নসিহত এবং তার হেদায়েতের জন্য দো‘আ করে যাবেন হয়তো আল্লাহ তাকে হেদায়েত করবেন।
আর আপনার শপথের ব্যাপার হলো: আপনি কাফফারা দিয়ে দিবেন, বাবার বাড়ী যাবেন না। কাফফারা হলো: দশজন মিসকীনকে খাবার দেওয়া বা পোশাক পরিধান করানো অথবা একজন মোমেন ক্রীতদাস মুক্ত করণ। তা যদি না পান তবে তিন দিন রোজা রাখবেন। [স্থায়ী কমিটির ফাতাওয়া ২৩/১৫৬-১৫৭।]
উত্তর: ধূমপান অপবিত্র হারাম, এর বহু ক্ষতি রয়েছে। আল্লাহ তার কুরআনে বলেন:
﴿ يَسَۡٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمۡۖ قُلۡ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُ ﴾ [ المائدة : ٤ ]
“হে নবী, তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কি হালাল করা হয়েছে, আপনি বলুন: তাদের জন্য পবিত্র ভাল জিনিস হালাল করা হয়েছে।” [সূরা মায়েদা: ৪]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারে সূরা আ‘রাফে আল্লাহ বলেন:
﴿ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ﴾ [ الاعراف : ١٥٧ ]
“তিনি তাদের জন্য ভাল জিনিস হালাল করেছেন এবং তাদের উপর অপবিত্র জিনিস হারাম করেছেন।” [সূরা আ‘রাফ: ১৫৭]
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তামাক বা সিগারেট অপবিত্র, কাজেই আপনার স্বামীর উচিত হলো তা ত্যাগ করা এবং এ থেকে সতর্ক থেকে আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করা, আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ থেকে সতর্ক থাকা, দ্বীন ও স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং আপনার সাথে ভাল ব্যবহার করা। আর তার শপথ ভঙ্গ করার কাফফারা বা জরিমানা হলো কাফফারা ইয়ামীন, সেই সাথে আল্লাহর নিকট তাওবা করা। কাফফারা হলো: দশজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো, বা পরিধেয় কাপড় পরিধান প্রদান করা বা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা। [সূরা মায়েদার ৮৯ নং আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।]
তাদেরকে রাত্রে বা দুপুরে খাওয়ানো অথবা প্রত্যেককে অর্ধ সা অর্থাৎ: প্রায় দেড় কিলোগ্রাম স্বদেশী খাবার দিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। আপনার প্রতি উপদেশ হলো: সে যদি নামায পড়ে, তার চরিত্র ভালো হয় এবং ধূমপান ত্যাগ করে তবে আপনি তার নিকট তালাক চাইবেন না। কিন্তু যদি অন্যায় করেই যায় তবে তালাক চাওয়া নিষেধ করব না। আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করুন এবং তাওবার জন্য তাকে তাওফীক দান করুন। [ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ৩/২১৭-২১৮।]
প্রশ্ন/ আমি ধূমপান করতাম, একদিন আমার মা এসে আমাকে এক হাজার টাকা দিলেন এই শর্তে যে, আমি যদি পূনরায় ধূমপান করি তাহলে আমার উভয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিব। আমি বললাম ঠিক আছে আমি আবার ধূমপান করলে তারা তালাক হয়ে যাবে এবং মাকে আমি তিন হাজার টাকা দিব। আমার অন্তরে কিন্তু তালাক ছিল না বরং মার নিকট থেকে টাকা নেয়া এবং ধূমপান ত্যাগ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল। আমার এ ঘটনার ব্যাপারে আপনার নিকট ফাতাওয়া চাচ্ছি, অনুগ্রহ করে কিছু বলুন।
উত্তর: যদি শপথের উদ্দেশ্য ধূমপান ত্যাগ এবং টাকা নেওয়া হয় তাহলে পূনরায় ধূমপান করাতে স্ত্রী তালাক হবে না কিন্তু আপনার শপথ ভঙ্গ করার কারণে জরিমানা বা কাফফারা লাগবে, তা হলো: আপনার পরিবারকে যে খাবার খাওয়াচ্ছেন তার অনুরূপ (সাধারণ) খাবার দশজন মিসকিনকে দিতে হবে বা দশজনকে পোশাক দিতে হবে। আর তাদেরকে পাঁচ সা (প্রতি সা প্রায় আড়াই কিলোগ্রাম) গম বা খেজুর বা চাল বা যব যা আপনার পরিবারকে খাওয়ান তা দিলেই যথেষ্ট হবে, প্রত্যেককে আধা সা পরিমাণ করে। তাও যদি সামর্থ না রাখেন তাহলে তিন দিন রোজা রাখতে হবে, ধারাবাহিকভাবে রাখাই ভাল।
কিন্তু যদি আপনার শপথের উদ্দেশ্য হয় উভয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া এবং তাদেরকে ত্যাগ করা, তাহলে ধূমপানের কারণে উভয়ের এক তালাক করে পতিত হবে, এমতাবস্থায় দুইজন সাক্ষীর মোকাবেলায় তাদেরকে ইদ্দতের ভিতরেই ফিরিয়ে নিতে হবে।
আর আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা করছি। আল্লাহ সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গী-সাথীদের উপর। [স্থায়ী কমিটির ফাতাওয়া ২০/১৮২-১৮৩।]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি আল্লামা শাইখ ইবনে উসাইমীন রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে করা হয়েছিল: আমি একজন ধূমপায়ী, আমি মনে মনে বলেছিলাম যে যদি আমি পূনরায় ধূমপান করি তাহলে আমার স্ত্রী আমার উপর হারাম হয়ে যাবে, অতঃপর ভুলে গিয়ে আবার ধূমপান করি তারপর আমার প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ল। এখন এ অবস্থায় আমি কি করতে পারি?
উত্তর: যেহেতু আপনি ধূমপান ত্যাগ করার জন্য এক মহা প্রতিজ্ঞার উপর আছেন কাজেই তা ত্যাগ করার জন্য আমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করি, আল্লাহ আপনাকে সহযোগিতা করবেন এবং দৃঢ় সংকল্প বাস্তবায়নে ধৈর্যের তাওফীক দিবেন। আর আপনি হারামের ব্যাপারে যা বললেন তা যদি মুখে না বলে শুধু মনে মনে বলেন তাহলে কিছু হবে না। আর যদি মুখে উচ্চারণ করে থাকেন এবং শুধু ধূমপান ত্যাগ করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে তা শপথের পর্যায়ে চলে যাবে এমতাবস্থায় যদি আপনি ইচ্ছা করে স্মরণ থাকাবস্থায় পান করে থাকেন তাহলে কাফফারা দিতে হবে আর যদি ভুলে পান করে থাকেন তাহলে কিছু লাগবে না কিন্তু কখনো স্মরণ থাকাবস্থায় পান করতে পারবেন না। অন্যথায় শপথের কাফফারা লাগবে যা দশজন মিসকিনকে খাবার দেওয়া বা পোশাক দেওয়া অথবা ক্রীতদাস মুক্ত করণ। আপনি তা আদায়ে স্বাধীন। তাদেরকে দুপুরে বা রাত্রে খাওয়াতে পারেন বা চাল ও মাংস মিলিয়ে প্রায় পনের কিলোগ্রাম পরিমাণ একই ঘরে বা বিভিন্ন ঘরে দিয়ে দিতে পারেন। ফকীর না পেলে আপনি ধারাবাহিকভাবে তিন দিন রোজা রাখবেন। [ফাতাওয়া ইসলামিয়া: ৩/৪৭৬।]
প্রশ্ন/ এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল ফাতাওয়ার স্থায়ী কমিটিকে: আমি একজন বিবাহিতা ধার্মিক মহিলা, আমার সন্তানাদি রয়েছে। আমার স্বামী হুক্কা পানে অভ্যস্ত, আমি তাকে বহু নসিহত করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি, সে তা ত্যাগ করার উপর আল্লাহর শপথ করে কিন্তু তারপরও তা ত্যাগ করে না, এ পর্যায়ে আমি শপথ করেছি যে, সে ধূমপান ত্যাগ না করলে আমি আমার বাবার বাড়ী চলে যাব তবুও সে তা ত্যাগ করেনি এবং আমি স্বামীর বাড়ীতেই রয়েছি। আমি কি করব? এবং আমার শপথের হুকুম কি এবং হুক্কা পানের হুকুম কি? আপনার নিকট বিনীত নিবেদন যে আমার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিবেন।
উত্তর: প্রথমত: হুক্কা পান করা হারাম, কারণ তা অপবিত্র এবং এতে বহু ক্ষতি রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: আপনার স্বামীর উচিত হলো শপথ পুরা করা এবং হুক্কা পান ত্যাগ করা।
তৃতীয়ত: আপনি আপনার স্বামীকে হুক্কা পান ত্যাগে নসিহত করে ভাল করেছেন এবং নসিহত এবং তার হেদায়েতের জন্য দো‘আ করে যাবেন হয়তো আল্লাহ তাকে হেদায়েত করবেন।
আর আপনার শপথের ব্যাপার হলো: আপনি কাফফারা দিয়ে দিবেন, বাবার বাড়ী যাবেন না। কাফফারা হলো: দশজন মিসকীনকে খাবার দেওয়া বা পোশাক পরিধান করানো অথবা একজন মোমেন ক্রীতদাস মুক্ত করণ। তা যদি না পান তবে তিন দিন রোজা রাখবেন। [স্থায়ী কমিটির ফাতাওয়া ২৩/১৫৬-১৫৭।]