hadith book logo

নারী-পুরুষে দেখাদেখি, নির্জনে অবস্থান ও সহাবস্থান সংক্রান্ত বিবিধ ফাতওয়া

লেখকঃ শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন, শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন এবং স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

নারী-পুরুষ সম্মিলিত বাজারে প্রবেশের বিধান

প্রশ্ন: মুসলিম ব্যক্তি জানে যে, বাজারে এমন কিছুসংখ্যক নারী রয়েছে, যারা নগ্ন অর্ধনগ্ন পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকে এবং তাতে নারী-পুরুষে এমনভাবে মেলামেশা বা সহাবস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে, যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না, এমতাবস্থায় মুসলিম ব্যক্তির জন্য বাণিজ্যিক বাজারে প্রবেশ করা বৈধ হবে কি?

উত্তর: এ ধরনের বাজারে প্রবেশ করা উচিৎ নয়, তবে যিনি সৎকাজের নির্দেশ দেন এবং অসৎকাজে নিষেধ করেন, তিনি প্রবেশ করতে পারেন অথবা প্রচণ্ড প্রয়োজনের কারণে দৃষ্টিকে অবনমিত রাখার সাথে প্রবেশ করতে পারবে এবং সাথে সাথে ফিতনার যাবতীয় কারণ ও উপলক্ষ থেকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে এর থেকে তার মান-সম্মান ও দীনকে নিরাপদ রাখা যায় এবং যাবতীয় মন্দের উপায়-উপকরণ থেকে দূরে থাকা যায়; কিন্তু মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ ও প্রত্যেক ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো এ ধরনের বাজারে চলমান অশ্লীলতার প্রতিবাদ করার জন্য তাতে প্রবেশ করা, যাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার বাণীর প্রতি আমল হয়ে যায়, যাতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ﴾ [ التوبة : ٧١ ]

“আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে”। [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৭১]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন:

﴿وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ١٠٤﴾ [ ال عمران : ١٠٤ ]

“আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে, আর তারাই সফলকাম”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪] এ অর্থে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا الْمُنْكَرَ ، فَلَمْ يُغَيِّرُوهُ ، أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمْ اللَّهُ بِعِقَابِهِ» .

“মানুষ যখন অশ্লীল কাজ দেখবে, অথচ প্রতিরোধ করবে না, তখন অতি শীঘ্রই আল্লাহ তা‘আলা গণহারে তাদেরকে তাঁর শাস্তি দিবেন।” [আহমাদ ও ইবন মাজাহ।] হাদীসটি ইমাম আহমাদ রহ. এবং কোনো কোনো ‘সুনান’ সংকলক আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ» .

“তোমাদের কেউ যখন কোন অন্যায় কাজ হতে দেখে, তখন সে যেন তা হাত দ্বারা (শক্তি প্রয়োগে) বন্ধ করে দেয়, আর যদি সে এ ক্ষমতা না রাখে, তবে যেন মুখের (কথার) দ্বারা (জনমত গঠন করে) তা বন্ধ করে দেয়, আর যদি সে এ ক্ষমতাটুকুও না রাখে, তবে যেন অন্তরের দ্বারা (পরিকল্পিত উপায়ে) তা বন্ধ করার চেষ্টা করে বা এর প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। আর এটা হল ঈমানের সবচেয়ে দুর্বলতম স্তর।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১৮৬] ইমাম মুসলিম রহ. হাদীসটি তাঁর ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আর এ অর্থে আরও অনেক হাদীস বর্ণিত আছে, আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দানের একমাত্র মালিক।

শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায